ঢাকা: নাম তার বিন্না ঘাস, দেখতে মামুলি, কিন্তু মারাত্মক শক্তিশালী কাজে। পরিচিত উদ্ভিদ বিন্না ঘাস। সবাই চেনেন।
রাস্তার ধারে বনবাদাড়ে কোনো আদর ছাড়াই এই বিন্না ঘাস জন্মায়। পৃথিবীর অনেক দেশে এই বিন্না ঘাস নিয়ে গবেষণা চলছে। পাহাড়ের পার্শ্বঢাল রক্ষায় বিন্না ঘাসের জুড়ি নেই। তাই এই ঘাসের খ্যাতি আর কদর বিশ্বজোড়া।
বিভিন্ন দেশে পাহাড়ের ক্ষয়রোধ ও পাহাড়ধস বন্ধে পার্শ্বঢালে এই ঘাস লাগানো হয়। অবহেলায় বেড়ে ওঠে, কিন্তু মুখ থাকে আকাশের দিকে। আছে না এমন কিছু মানুষ, যাদের জন্ম, বেড়ে ওঠা একদম কাদায়, পানিতে। অথচ তার স্বপ্ন আকাশছোঁয়া।
আসলে এই বিন্না ঘাসের মূল গভীরে চলে যায়। মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে রাখে।
ঘাসগুলো তীব্র গরমে অর্থাৎ প্রতিকূল পরিবেশেও বেঁচে থাকতে পারে। এমনকি লবণাক্ত পানিতেও।
আর বাংলাদেশ তো নদীপ্রধান দেশ। বন্যার পানি, স্রোতে প্রতিবছর ক্ষতিগ্রস্ত হয় সড়ক, বাঁধ ও নদীর তীর। এসব স্থাপনা রক্ষায় কংক্রিট, পাথর, জিও ব্যাগসহ নানা ব্যয়বহুল ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
এবার এর পাশাপাশি প্রকৃতির শক্তিকেও কাজে লাগাতে চাইছে সরকার। ঐ ‘বিন্না ঘাস’–কে দেখা হচ্ছে সম্ভাবনাময় পরিবেশবান্ধব সমাধান হিসেবে।
বিন্না ঘাস ব্যবহারের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় সড়ক ও বাঁধের ভাঙন রোধে বিন্না ঘাস ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে।
সভায় বিন্না ঘাসের ব্যবহার নিয়ে একটি প্রস্তাবনা উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সহ–উপাচার্য ও পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম। বিন্না ঘাস নিয়ে তাঁর গবেষণা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, বিন্না ঘাসের ইংরেজি নাম হচ্ছে ‘ভেটিভার গ্রাস’। বৈজ্ঞানিক নাম ‘ভেটিভেরিয়া জিজানিওইডিস’ বা ক্রাইসোপোগন জিজানিওইডিস। বাংলায় অনেকে খসখস ঘাসও বলেন।
মোহাম্মদ শরীফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেছেন, “এই ঘাসের লম্বা মূল বা শেকড় খুব দ্রুত মাটির গভীরে ঢুকে, মাটিকে শক্ত করে আঁকড়ে ধরে রাখে। যে কারণে প্রকৌশল বিদ্যায় এই ঘাস ব্যবহার করে রাস্তা ঘাট, পাহাড় ধ্বস, নদীর ভাঙনও রক্ষা করা হয়”।
যে কারণে বর্তমান সরকারও এই ঘাসটি কোন কোন খাতে ব্যবহার করতে পারে সে জন্য একটি গাইডলাইন তৈরিরও নির্দেশ দিয়েছে।
