ঢাকা: শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পরেই দেশটা অন্ধকারে ডুবে গিয়েছে। সবদিক থেকেই অন্ধকারে ডুবেছে। নৈতিকতা, বিদ্যুৎ, গ্যাস কিচ্ছু নেই।
দেশে বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছুর দাম আকাশছোঁয়া—কিন্তু এগুলো নিয়ে এত চিন্তার কী আছে? বেঁচে আছেন, এটাই তো যথেষ্ট! বিদ্যুৎ দিয়ে কী হবে?
কোনোভাবে ডালভাত তো খেতে পারছেন! দুই দিন না খেলে মানুষ কি আর মরে যাবে? এভাবেই থাকতে হবে।
আর বিদ্যুৎ তো এমনিতেও কোনো নতুন জিনিস নয়—একসময় তো বিদ্যুৎ ছিলই না! তখন কি থাকেননি? তাহলে?
বিদ্যুৎ নেই, গ্যাস নেই, দ্রব্যমূল্য বাড়ছে—এসব নিয়ে কথা বলার দরকার নেই। বরং চুপ থাকুন, মাথা নিচু করে থাকুন কারণ এসব নিয়ে বেশি প্রশ্ন করলে আবার মাইরও খেতে হতে পারে!
দেশটাকে সোনার দেশ বানাচ্ছিলেন শেখ হাসিনা। সয়নি তাদের।
শেখ হাসিনা পরবর্তী সময়ে চরম আর্থিক সংকটে ভুগছে বাংলাদেশ। বিপুল বকেয়া রয়েছে অর্থ, এবার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়ে দিলো ভারতের আদানি গ্রুপ।
চাহিদার তুলনায় অনেকটাই কম বিদ্যুৎ আসায় বাংলাদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত অন্ধকারে ডুবে রয়েছে।
বিদ্যুৎ সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণ জানতে চেয়ে এবং শীঘ্রই তা বৃদ্ধির আর্জি জানিয়ে সম্প্রতি আদানি গ্রুপকে চিঠি দিয়েছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)।
বুধবার সেই চিঠির জবাবে আদানি গ্রুপ তাদের বর্তমান সমস্যার কথা জানিয়েছে।
সংস্থার তরফে জানানো হয়েছে, রেলপথে মাত্রাতিরিক্ত যানজট এবং পরিবহণ ব্যবস্থায় নানা বিধিনিষেধ আরোপের কারণে তাদের গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পর্যাপ্ত কয়লা পৌঁছতে পারছে না। কয়লার এই ঘাটতির কারণেই ব্যাহত হচ্ছে বিদ্যুৎ উৎপাদন।
তবে সন্ধ্যায় চাহিদার চূড়ান্ত সময়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ যাতে স্বাভাবিক রাখা যায়, তার জন্য আপৎকালীন পদক্ষেপ হিসেবে দিনের বেলায় সরবরাহ কিছুটা নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের চেয়ে কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে খুব দ্রুত কয়লা পরিবহণ ব্যবস্থা ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে বলে আদানি গ্রুপের তরফে ঢাকা-কে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও বিদ্যুতের কোটি কোটি টাকা বকেয়া। ধারের টাকায় আদানি সংস্থার থেকে বিদ্যুৎ কিনেছিল জঙ্গী ইউনূসের অন্তবর্তী সরকার। সেই টাকা এখনও মেটায়নি সরকার।
আর এর মাঝেই বিদ্যুৎ রপ্তানি কমাল আদানি গ্রুপ।
এদিকে ভারত থেকেও বিদ্যুৎ কম আসছে, আর নেপাল থেকে তো পুরোপুরি বন্ধই।
নেপালে ভয়ংকর বিপর্যয়ের জেরে সে দেশ থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।
এমন বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের মাঝেই চিন থেকে চড়া দামে বিদ্যুৎ কেনার তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে দেশ। যেখানে ইউনিট প্রতি খরচ পড়বে ২৫টাকা। ভারত থেকে আমদানিকৃত বিদ্যুতের গড় দাম প্রতি ইউনিট প্রায় ১৪ টাকা।
