ঢাকা: গৃহবধূকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে স্বামী। এইসব ঘটনা সমাজে খুব সহজ হয়ে গেছে। স্ত্রীকে মারা স্বামীর অধিকার- এইসব শিক্ষা দিয়েই তো ওদের বড় করা হয়। ফলে ওরাও এটাই ধরে নিয়েছে স্ত্রীকে হত্যা করা, নির্যাতন করা স্বামীর নৈতিক অধিকার।
এবার পরকীয়ার অহেতুক সন্দেহে ঢাকার খিলগাঁওয়ে মুক্তা আক্তার নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী সোহেল শিকদারের বিরুদ্ধে। সেই ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়েছে।
নৃশংস এই ঘটনার খবর পৌঁছানোর পর নিহতের গ্রামের বাড়ি বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল ইউনিয়নের পশ্চিম সরসী গ্রামে গভীর শোক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ২ সেপ্টেম্বর রাতে খিলগাঁওয়ের একটি ভাড়া বাসায় মুক্তাকে বেদম মারধর করা হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে নির্যাতনের পর ঘটনাটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দেওয়ার অপচেষ্টা চালায় হত্যাকারী স্বামী।
খবর পেয়ে খিলগাঁও থানা পুলিশ নিহতের স্বামী সোহেল শিকদারকে গ্রেফতার করে।
জানা গিয়েছে, শুক্রবার জুমা নামাজ শেষে নিজ গ্রামে নিহত মুক্তার দাফন হয়। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের মা ছিলেন। পাষণ্ড পিতা সন্তানের কাছ থেকে চিরজীবনের জন্য মাকে ছিনিয়ে নিয়েছে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলামসহ এলাকবাসী এই অমানুষিক হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত সোহেল শিকদারের দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনাটি ঢাকার খিলগাঁও থানা এলাকার হলেও বিস্তারিত তদন্তের স্বার্থে সারসী তদন্ত কেন্দ্রের একটি পুলিশ টিম নিহতের গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইনচার্জ (আইসি) আব্দুস সালাম।
