ঢাকা: বাংলাদেশে হামে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমছে না। প্রাণহানির সংখ্যা হাজার ছুঁই ছুঁই। এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬০।
হাম নিয়ে আর কোনো গুরুত্ব নেই সরকারের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন প্রায় সববয়সি শিশুর মধ্যে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে। তাই প্রমাণভিত্তিকভাবে টিকাদানের বয়সসীমা অন্তত ১৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো, মাঠপর্যায়ে মাইক্রোপ্ল্যানিং জোরদার এবং কমিউনিটি পর্যায়ে নজরদারি ছাড়া এই প্রাদুর্ভাব থামানো সম্ভব নয়।
৬ মাসের কম বয়সী শিশুরাও হামে আক্রান্ত হচ্ছে।
ছয় থেকে নয় মাস, নয় মাস থেকে এক বছর এবং এক থেকে পাঁচ বছর সব বয়সি শিশুর মধ্যেই সংক্রমণ রয়েছে। কোথাও কোথাও সামান্য কমলেও তা উল্লেখযোগ্য নয়। এতে বোঝা যায়, ঘোষিত টিকাদান কভারেজ বাস্তবে কার্যকরভাবে প্রতিফলিত হয়নি।
১০৩ শতাংশ কাভারেজের দাবি বাস্তবতার একদম সঙ্গে মেলে না৷
দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই একই সময়ে নতুন করে ১ হাজার ২৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
আজ, মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোলরুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৯৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এর মধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে ১০০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৮৯৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৫৭ জন। এ সময়ে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৯ জনের মধ্যে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, “আমাদের ৪০ লাখের মতো পথশিশু রয়েছে। তারা হামের টিকা পায়নি। আপনি যদি ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় না আনতে পারেন তাহলে শিশুদের আক্রান্ত হওয়া বা মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব নয়।’’
