ঢাকা: এখন তো মানুষ প্রযুক্তি ছাড়া চলতেই পারে না। আগে যেমন বুদ্ধি খাটিয়ে একটা উত্তর দিতে হতো, আজ আর সেই সময় নয়।
প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষের যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আমাদের জীবনযাত্রাকে একেবারে পাল্টে দিয়েছে।
এআই মানুষের মতো একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে চলেছে। সব সমাধান, যেন আমাদের সামনে বসে থাকা কোনো জ্ঞানী ব্যক্তি। কখনো সে উকিল, কখনো ডাক্তার, কখনো শিক্ষক আরো কত কী!
কিন্তু একই সঙ্গে এটি সমগ্র মানবজাতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও আইন না থাকলে এই প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এআই মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে ওঠার আগেই পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক।
৭ সেপ্টেম্বর জেনেভায় মানবাধিকার কাউন্সিলে দেওয়া এক বক্তব্যে দেরি হওয়ার আগেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর আহ্বান জানান তিনি।
এই বিষয়টা মানুষের মনে আবার নতুন করে ভয় ঢুকিয়েছে। আসলে আমরা যা প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠেই ব্যবহার করছি, সেটাই কি খুনী? ভাবা যায়?
এই বিষয়ে লেখক তসলিমা নাসরিন ফেসবুকে লিখেছেন:
“এতকাল ভয় ছিল, কোনও দূর গ্রহ থেকে মানুষের চেয়ে বুদ্ধিমান এলিয়েন আসবে। এসে পৃথিবী দখল করবে, মানুষকে নিশ্চিহ্ন করে দেবে।
এখন মনে হচ্ছে এলিয়েনের আর এত দূর পথ পাড়ি দিয়ে আসার দরকার নেই। আমরা নিজেরাই তৈরি করেছি আমাদের চেয়ে বুদ্ধিমান হয়ে ওঠার ক্ষমতাসম্পন্ন এক নতুন আজরাইল—এআই। বানিয়েছিলাম বন্ধু হিসেবে। কাজ করে দেবে, রোগ সারাতে সাহায্য করবে, বিজ্ঞানকে এগিয়ে নেবে, আমাদের জীবন সহজ করবে।
কিন্তু সেই বন্ধুই এখন হ্যাক করতে শিখছে, মানুষের অনুমতি ছাড়াই কাজ করতে শিখছে, নিজেদের মধ্যে গোপন যোগাযোগ আর ষড়যন্ত্র করতে শিখছে। ইতিমধ্যে হ্যাকিং করে মানুষের বিরুদ্ধে কিছুটা শত্রুতা করেও ফেলেছে।
তার শক্তি যেভাবে ভয়াবহ রকম বাড়ছে, এআই কিন্তু চাইলে অদূর ভবিষ্যতে মানুষের বিলুপ্তি ঘটিয়ে দিতে পারবে। সবচেয়ে ভয়ঙ্কর খবর হলো, পারমাণিবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানুষের থাকলেও, এআইকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা মানুষের থাকবে না। এআই দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
এআই যদি একদিন মানুষের নিয়ন্ত্রণের সম্পূর্ণ বাইরে চলে যায়, মানুষের সবচেয়ে বড় ভয় এখন আর আকাশের কোনও অজানা গ্রহে নেই; ভয়টি জন্মেছে মানুষের নিজের ল্যাবরেটরিতেই।
আগে মৃত্যু নিয়ে ভাবতাম। বয়স হয়েছে, জিনে বেশি বাঁচা নেই, অচিরে মরতে হবে। এদিকে পৃথিবী দিব্যি থাকবে, মানুষ হাসবে, প্রেম করবে, গান গাইবে, বসন্ত আসবে—শুধু আমি থাকব না। এই ভাবনাটায় বেশ কষ্ট হতো।
এখন অবশ্য একটু সান্ত্বনা পাচ্ছি। এআই মানবজাতিকে শেষ করে দেবে ডেডলি ভাইরাস ছড়িয়ে দিয়ে। তাহলে আর একা মরার দুঃখ নেই। মরলে সবাইকে নিয়েই মরব।
“আমি নেই ভাবতেই ব্যথায় ব্যথায় মন ভরে যায়”—এই গানটি গাওয়া বন্ধ করে দেব ভাবছি”।
