চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর মা সন্ধ্যা রানী’কে খুন করেছে সরকার। রাষ্ট্র ও আদালত তাদের ভূমিকা পালন করেনি। পালন করেনি বললে ভুল বলা হবে হয়তো।

কারণ সরকার রাষ্ট্র ও আদালত চেয়েছিল চিন্ময় নামে এক সংসারত্যাগী সাধুর মা জীবিত অবস্থায় তাঁর কারাবন্দী পুত্র চিন্ময়কে না দেখেই মরে যাক।

তো সেক্ষেত্রে সরকার-রাষ্ট্র ও আদালতে খুনী বলা ছাড়া আর কি বলতে পারি বলুন? হয়তো এমনও হতে পারে আরো কিছুদিন কারা প্রকোষ্ঠে বিনাবিচারে আটক থাকতে থাকতে এবং মায়ের শোকে একদিন চিন্ময়ও প্রাণত্যাগ করবেন। তারপর হিন্দু বা সনাতনীদের আন্দোলন সমাপ্ত হবে।

তখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হয়তো রিল এর রিল, শোকবাণী, নানা সমালোচনায় ভরে উঠবে।

মূলত এটিই যে বাংলাদেশের আপামর হিন্দুদের জীবনের পরিণতি- সেটি সাবেক অবৈধ ইউনুস সরকার ও এখনকার তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার বেশ ভালোভাবে বুঝিয়ে দিয়েছে।

আর চিন্ময়ের গ্রেপ্তার, তাঁর মায়ের অসুস্থতা, কারাবন্দী পুত্রকে একনজর দেখার যে আকুতি এসব ঘটনাপ্রবাহের বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়েও বলা চলে এই বাংলাস্তানে মা-বাবা-ভাই-বোন-স্ত্রী-স্বামী-পুত্র-কন্যা কেউ মারা না গেলে কারাগার থেকে প্যারোলে কাউকে কারাগারের বাইরে আসতে দেয়া হবেনা।

কারণ মানুষ মারা না গেলে ‘ মানবিক’ হয়না। মারা গেলেই তবে বোধ হয় মানবিক হয় এই জালেম সরকার-রাষ্ট্র ও আদালতের কাছে।

সংসারত্যাগী সাধু চিন্ময় দাসকে কেনো জেলে আটকে রাখা হয়েছে, তাঁর ঠিক অপরাধটা কি- সেটা কেউ বলতে পারছেনা। অথচ আপনি ডানপন্থী ঘরানার কাউকে জিজ্ঞেস করুন, বলবে, চিন্ময় দাশ জামাতের আইনজীবি আলিফকে হত্যা করেছে। এই হল তাঁর অপরাধ।

পুলিশ-আদালতের কাস্টডিতে থাকা অবস্থায় একজন মানুষ কি করে খুন করলো প্রায় আধামাইল দূরে মারামারি করতে যাওয়া আইনজীবী আলিফকে?

চব্বিশের ৫ আগস্টের পর অন্য রাজনৈতিক মতাবলম্বী ও হিন্দুদের বাড়িঘর-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে যে হামলা শুরু হয়েছিল তা নিশ্চয়ই আপনারা ভুলে যাননি।
সেই চব্বিশের কথিত ছাত্র-গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম উস্কানিদাতা ও সংবাদ কারিগর মতি আলু মানে প্রথম আলো এ নিয়ে তাদের এক রিপোর্ট করেছিল দেখিয়েছিল, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০ আগস্টের মধ্যে প্রথম ১৫ দিনেই ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অন্তত ১ হাজার ৬৮টি ঘরবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা হয়।

বাংলাদেশে এসব ন্যাক্কারজনক-মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় ভারতসহ বিশ্বের নানা মাধ্যমে এসব খবর আসা শুরু হলে সরকার চাপে পড়ে বলেছিল, “এসব সাম্প্রদায়িক হামলা নয়; বরং রাজনৈতিক হামলা।”

তারা যে দায় নেয়নি ও হামলা বন্ধ করতে পারেনি- তার প্রমাণ আমরা পরের মাসগুলোতে দেখেছি। ময়মনসিংহে দীপুকে যেভাবে মারা হয়েছে, যেভাবে মাজার, ঔরসে হামলা হয়েছে সেসব বাংলাদেশে নজিরবিহীন।

এমনিতেই বাংলাদেশের হিন্দুদের বিরুদ্ধে একটা গড়পড়তা অভিযোগ হল, এরা সবার কাছে বিক্রি হয়, প্রতিরোধ গড়ে না তোলে মিনমিন করে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর ওসব হামলার পর দেখলাম যে, তারা ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করেছে। এর মধ্যে চট্টগ্রামের অবস্থানটি ছিল বেশ অগ্রগণ্য।

সাম্প্রদায়িক হামলার প্রতিবাদে সেই ২০২৪ সালে ২৫ অক্টোবর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে ‘বাংলাদেশ সনাতন জাগরণ মঞ্চ’-এর ব্যানারে চট্টগ্রামের লালদীঘি মাঠে বিরাট সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

সেই মহাসমাবেশে সংখ্যালঘু সুরক্ষাসহ ৮ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।

কিন্তু ওই দিনের সমাবেশকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম নগরের নিউমার্কেট মোড়ে আমাদের জাতীয় পতাকার ওপর অন্য একটি পতাকা ওড়ানোর অভিযোগ ওঠে।

একে কেন্দ্র করে ৩১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের (বিষয় পতাকা, কিন্তু মামলা রাষ্ট্রদ্রোহের!) মামলা করা হয়। ঘটনাপ্রবাহ ও স্থান খেয়াল করুন।

চিন্ময়সহ প্রতিবাদী হিন্দুদের সমাবেশ ছিল লালদীঘিতে। কিন্তু ঘটনা নিউ মার্কেট এলাকার, যার দূরত্ব কমপক্ষে এক কিলোমিটার।

তবে মামলাটি তখনকার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন বা অন্য কোন সংগঠনের কেউ করেনি। করেছিল চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও মোহরা ওয়ার্ড বিএনপির তৎকালীন সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ খান।

বিএনপি তখন এই মামলার কারণে একেবারেই খুশি ছিল না, এমন ভাব দেখিয়েছিল । তারা ফিরোজ খানকে দল থেকে বহিষ্কার করে একটি বিজ্ঞপ্তিও জারি করেছিল।

তবে যতদূর জেনেছি তা পরে প্রত্যাহার করা হয়েছে। কারণ সেই ফিরোজকে বিএনপি নানা অনুষ্ঠানে দেখা গেছে বলে চট্টগ্রামের লোকজন জানিালেন।

কিন্তু ইউনূস সরকার পরের মাসের, মানে নভেম্বরের ২৫ তারিখ চিন্ময়কে রংপুর থেকে ফেরার পথে ঢাকা থেকে গ্রেফতার করে। শুধু তাই নয় পরের দিন তাকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করে। আদালতে হাজির হয় চিন্ময়ের বহু অনুরাগী।

আদালত চিন্ময়ের জামিন নাকচ করে জেলে পাঠানোর আদেশ দেন। এতে তার ভক্তরা ক্ষুব্ধ হয়। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যাচ্ছে, আদালত চত্বরে চিন্ময়ের অনুসারিদের সাথে জামাতপন্থী আইনজীবিদের সংঘাত হয়।

আলিফ আরো কিছু লোকজন নিয়ে আদালত পাহোড়ের নীচে মনে মূল আদালত থেকে প্রায় ৫০০ গজেরও বেশি দুরে মেথরপট্টির গলিতে ঢুকে সেখানকার সনাতনীদের ধাওয়া করেছে। সংঘাত হয় সেখানে। সেই সংঘাতে পড়ে আলিফ আহত হয়।

কিন্তু স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী আলিফকে সেখান থেকে যখন একটি অটোরিক্সাতে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল তখন তাকে হাঁটিয়েই অটোরিক্সায় তোলা হয়েছে।

তার মানে তার আঘাত মারা যাওয়ার মত ছিলনা বলেই বোঝা গেছে সাধারণের বক্তব্যে। কিন্তু সেই আলিফকে হাসপাতালে নিতে দুই ঘন্টারও বেশি সময় লাগানো হয়েছে। পরে তাঁকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে নেয়া হয়।

আসলে ওই সিএনজি অটোরিক্সাতেই আলিফের সহযোগী জামায়াত-শিবিরের ক্যাডাররাই তাঁকে খুন করে সেই দায় হিন্দুদের ওপর চাপিয়েছে।

আর যখন এসব ঘটনা ঘটে তখন চিন্ময় আদালত পাহাড়ে পুলিশ ও আদালতের জিম্মায় আটক। তাহলে কখন ও কিভাবে চিন্ময় এই হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত তা আমার মাথায় ঢোকেনা।

তবে অভিযোগ তোলা হচ্ছে চিন্ময়ের প্ররোচনাতেই আলিফকে হত্যা করা হয়েছে। কিন্তু চিন্ময় প্ররোচনাটিই বা দিলেন কখন?
এখানেই থেমে থাকেনি ষড়যন্ত্রকারিরা। তার বিরুদ্ধে একে একে আরও চারটি মামলা দায়ের করা হয় পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া, বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারে মামলা, জমি দখলের মামলা।

তবে বলার অপেক্ষা রাখে না, এসবের সাথে চিন্ময়ের কোনো দূরতম সম্পর্কও নেই। এর মধ্যে পতাকা অবমাননার সাথে তার কোনো সংশ্লিষ্টতা না থাকলেও এই মামলায় তার জামিন হয়নি। বাকি চারটিতে হয়েছে।

আচ্ছা, গত দুই বছর যে দেশের বিভিন্ন স্থানে পতাকার উপর আইএস ও আল কায়েদার পতাকা উড়ানো হল, কয়জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে?

জামায়াত শিবিরও তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকার ওপর কলেমা লেখা ও তাদের দলীয় পতাকা লাগিয়েছে। কই তাতেতো কোন মামরঅ হরেঅনা ? নাক ইসলামিষ্টরা পতাকার অবমাননা করলে সেটি জায়েজ?

চিন্ময়ের মা অসুস্থ ছিলেন। চিন্ময় দাস অসুস্থ মাকে দেখার জন্য তিনি প্যারোল চেয়ে পাননি। এরমধ্যে তার মা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। জীবিত মাকে দেখতে চেয়েও পারেননি, মৃত মাকে দেখতে চিন্ময় ৫ ঘণ্টার জন্য জামিন পেয়েছেন।

সেই ৫ ঘণ্টায় যে অবর্ণনীয় দৃশ্য আমরা নানা মাধ্যমে দেখেছি, মায়ের পায়ের উপর পড়ে, মৃত মায়ের গলা জড়িয়ে ধরে তাঁর যে হৃদয়বিদারক কান্না আমরা দেখেছি, সেই কান্না ঈশ্বরের কাছে না পৌঁছালে ধরে নিতে হবে ঈশ্বরের মন নেই।

চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে ‘জঙ্গী-সেনা ক্যু’ না হলে , বেগম খালেদা জিয়া যদি একই সময়ে মৃত্যুবরণ করতেন, তাহলে কি তারেক রহমান তাঁর মাকে শেষবারের মত দেখতে পেতেন? আমার তা মনে হয় না।

কারণ তখনতো তিনি লন্ডনে পলাতক অবস্থা থেকে আসতেই পারতেন না। মাকে শেষবারের মত দেখতে না পারার, মায়ের শেষ সময়ে থাকতে না পারার, মায়ের কাছ থেকে দূরে থাকার বেদনা সব সন্তানেরা বোঝে। কিন্তু কোন কোন সন্তান বা পুত্রদের গদিটা পাল্টে গেলে সেসব মানবিক অনুভূতিও লোপ পেয়ে যায়। চিন্ময়ের কান্না দেখে মন গলেনি হেন মানুষ বোধ হয় খুঁজে পাওয়া যাবেনা।

চিন্ময় যদি সত্যিই অপরাধী হন তাহলে সেটির ন্যায়সঙ্গত বিচার হোক। কিন্তু বিনা বিচারে, জামিন ছাড়া এভাবে আটকে রাখা কোনো ভাবেই আইনের শাসন নয়।

অবশ্য নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত আইনের শাসন যদি সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তবেই সেটি হতে পারে। না হলে আইনকে সরকার তার নিজেদের মত করেই যে চালাচ্ছে সেটিতো দেখাই যাচ্ছে।

অথচ এই তারেক রহমানই লন্ডন থেকে চিন্ময়ের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে মধুর মধুর কথা বলেছেন।

ধর্মীয় সংখ্যালঘু তথা হিন্দুদের দাবি দাওয়া নিয়ে তার একাত্মতা প্রকাশ করতেও ভোলেননি তখন। কিন্তু গত ১২ জানুয়ারি অধিকাংশ হিন্দুদের ভোটে ( যদিও এই ভোট নিয়ে প্রচন্ড সমালোচনা রয়েছে) দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জিতে প্রধানমন্ত্রী হয়ে তারেক রহমান সব ভুলে গেলেন!

অথচ এই তারেক রহমান নিজেদেরকে রংধনু সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের কান্ডারি হিসেবে দাবি করে থাকেন। তো আমরা তো দেখলাম তার সরকারের ৭ মাসের মধ্যে দেখেছি। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক জনপ্রিয় সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি অভিযোগ করেন- ভোটারবিহীন জাতীয় নির্বাচনের আগে চট্টগ্রামের বিএনপি নেতারা হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোট টানতে তাদের নেতাদের আশ্বাস দিয়েছিলেন—নির্বাচনে জয়লাভ করতে পারলে চিন্ময় দাশের জামিনের ব্যবস্থা করা হবে।

অথচ নির্বাচনের সাত মাস পরেও মিথ্যা মামলায় তার জামিন হয়নি। বরং তাকে আরও বেশি আইনি জটিলতায় জড়িয়ে ফেলা হয়েছে।

অথচ চট্টগ্রাম থেকেই বিএনপির এই অবৈধ সরকারের মন্ত্রী-এমপি হয়েছেন অনেকেই। যাদের কথায় নাকি তারেক রহমান ওঠেন-বসেন!

এদিকে চিন্ময় দাশের মা মারা গেলেন। মৃত্যুশয্যায় তিনি শেষবারের মতো ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন। সেই ইচ্ছা পূরণের জন্য আদালতে চিন্ময় দাশের জামিন/প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়েছিল।

কিন্তু জামিন বা প্যারোলে মুক্তি—কোনোটিই হয়নি। মারা গেলেন চিন্ময়ের মা।

এখন প্রশ্ন হলো, মায়ের মৃত্যুর পর ৫ ঘণ্টার জন্য চিন্ময় দাশকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হলো। তাহলে কি এটিই হবে দুর্বল ও নির্যাতিত হিন্দু সম্প্রদায়ের মন জয় করার আরেকটি রাজনৈতিক কৌশল?

যদি তাই হয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—মৃত্যুশয্যায় মায়ের শেষ ইচ্ছার সময় কেন তাকে ছেলের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হলো না?

বিক্ষুব্ধ চয়ন চৌধুরী বলেছেন- ‘রাষ্ট্র কিংবা বিচারালয় বস্তুত মানুষ নয় বলে মানবিক আচরণ করেনি বা করতে পারেনি। তাই কারান্তরীণ চিন্ময় কৃষ্ণের পক্ষে প্রত্যাশিতভাবে মৃত্যুশয্যায় মাকে শেষবেলায় দেখার সুযোগ হয়নি।

অবশ্য সরকার বাহাদুর দয়ালু বলে মায়ের মরদেহ চিতার উঠার আগে ছেলে মায়ের নিষ্প্রাণ মুখ দেখতে পেরেছে! কিন্তু এভাবে কারান্তরীণদের জন্য স্বজনের মৃত্যুর পর নিষ্প্রাণ মুখ দেখার সুযোগ দেওয়ার কোন মানে নেই।

বরঞ্চ রাষ্ট্র, আইন ও সরকার মৃত্যুপথযাত্রী স্বজনকে জীবিত অবস্থায় অন্তত একবার দেখার সুযোগ করে দিলে তা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মানবিক মানসিকতার পরিচয় বহন করবে। দিনশেষে প্রতিষ্ঠানগুলো তো মানুষ-ই পরিচালনা করেন!’

আসলে চিন্ময় প্রভুর সবচেয়ে বড় দোষ হলো তিনি কেন অন্য সাধু বা নিরীহ হিন্দুদের মতন চুপচাপ বসে না থেকে এবং ‘ ভগবান এসব অন্যায়ের বিচার করবেন’- এ ধরনের অপ্তবাক্যে সন্তুষ্ট না হয়ে সনাতনীদের অধিকার রক্ষায় প্রতিবাদী হয়েছিলেন? তিনি কেন দেশের আপমর সনাতনী ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ করে গণজাগরণ গড়ে তুলেছিলেন প্রতিবাদের?

তিনি কেন ইসলাম ধর্মীয় ও প্রশাসনের রক্তচক্ষুকে ভয় না পেয়ে সব হিন্দুদের “সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট” নামে একটি মঞ্চের পতাকাতলে সমবেত করেছিলেন? কেন চট্টগ্রামসহ সারাদেশে এই প্রতিবাদের উত্তাল ঢেউ তুলেছিলেন?

আসলে হিন্দুদের এই একতাবদ্ধ প্রতিবাদে প্রচন্ড আতংকিত হয়ে পড়েছিল ইসলামিষ্টরা। আতংকিত ক্ষমতা আকড়ে থাকা অসৎ রাজনীতিবিদগণ।

আসলে দোষতো শুধু একা ড. ইউনুসের নয়। ইউনুস আসলে কাদেরকে রিপ্রেজেন্ট করতেন তা ভুলে গেলে চলবেনা। তাছাড়া চিন্ময় দাশের ব্যাপারে বাংলাদেশের মেজোরিটির বড় অংশই ইউনুসের মতোই দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করে থাকে।

এই যে বড় অংশটার কথা বললাম এদের কাছে অশ্লীল নোংরা ভাষায় গালিগালাজ দেয়ার জন্য হাদীর জীবনের মূল্য আছে। চিন্ময়ের সাথে অন্যায় হচ্ছে কী না হচ্ছে এদের কাছে এটা ম্যাটারই করেনা।

চিন্ময়ের মা মরেছে, চিন্ময়ের মা শেষ নিঃশ্বাসটুকু যখন নিয়েছে সে সময় যে সন্তানকে দেখতে পারেনি, বা মা হারা চিন্ময়ের বেদনা আর্তনাদ এসব এদের কাছে ম্যাটারই করেনা। চরম নোংরা মানসিকতার হাদী যাদের কাছে বীর, আপনি মনে করেন এদের মধ্যে নীতি নৈতিকতার কোনো কিছু অবশিষ্ট আছে?

তবে বাংলাদেশের হিন্দুরা আর কবে নিজেদের অধিকার আদায়ে,অত্যাচার-নির্যাতন বন্ধের জন্য একতাবদ্ধ হয়ে সোচ্চার ভূমিকা পালন করতে পারবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ আছে।

কারণ যেকোন হিন্দু এসব নিয়ে কথা বলবে, সোচ্চার হবে তাকেই নানা মিথ্যা মামলায় জেলে পুরে দেয়া হবে- এটি নিশ্চিত ।

বাংলার ঘরে ঘরে যদি এমন চিন্ময়ের জন্ম না হয় তাহলে হিন্দুরা যতই রাজনৈতিক দলগুলোর পদলেহন করুক না কেন তাদের মুক্তি নেই। এমনকি দেশও নেই।

# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *