চট্টগ্রাম: চীন, পাকিস্তানের নাগরিকরা বাংলাদেশে এসে বিস্তার করছে প্রতারণার জাল। দফায় দফায় ধরা পড়ছে এরা। তারপরেও আমাদের দেশের প্রেম প্রীতি বন্ধ হয় না। আমাদের দেশের অধিকাংশ জনগণ এবং সরকার তো আছেই- শত্রু চিনেও চেনে না।
এবার পাকিস্তানসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাকড়সার জালের মতো মানুষকে ফাঁসায় এরা।
সিএমপির কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে অনেকগুলো ডিভাইসসহ ৬৩ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকাল থেকে দিবাগত গভীর রাত পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে তাদের গ্রেফতার করা হয়। উদ্ধার করা হয় বিপুল সরঞ্জাম।
বিদেশি চক্রটি অবৈধভাবে দেশে থেকে দীর্ঘদিন ধরে নানান অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছিল। তারা আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের সক্রিয় সদস্য।
অভিজাত এলাকায় বাড়ি ভাড়া নেয় এরা। এটা এরা করেই। তারপর চক্রটি অনলাইনে ডিজিটাল প্রতারণা, মাদক, এটিএম জালিয়াতি, অনলাইন ক্যাসিনো, স্বর্ণ চোরাচালান ও মানবপাচারের মতো কাজ করছিল।
চট্টগ্রামের অভিজাত খুলশী এলাকার একটি ভবনে অভিযান চালিয়ে এমন অপরাধী চক্রের ৬৩ জনকে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা পুলিশ।
তাদের কাছ থেকে ১৭০টি ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
এর মধ্যে ১৩৪টি মোবাইল ফোন, ৫৭টি ল্যাপটপ, একটি অ্যাপল ট্যাব, একটি সিপিইউ, একটি স্যামসাং মনিটর, একটি কি-বোর্ড, একটি মাউস ও একটি প্রিন্টার উদ্ধার করা হয়েছে।
এছাড়া পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র এবং একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ডও উদ্ধার করা হয়।
জানা গিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, চীনের ৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, নেপাল ও ভিয়েতনামের একজন করে নাগরিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
তবে এই অপরাধ চক্রটির পালের গোদাকে গ্রেফতার করতে পারেনি। পুলিশ এখন তাকে খুঁজছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গ্রেফতারকৃত আসামিরা প্রায় দেড় মাস আগে খুলশী থানাধীন কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নাম্বার রোডের জনৈক দুবাই প্রবাসীর ১ নাম্বার বাড়িটি ভাড়া নিয়ে প্রতারণামূলক কাজ পরিচালনার জন্য ব্যবহার করে আসছিল।
প্রতারকরা ভুয়া পরিচয় ও মিথ্যা তথ্য ব্যবহার করে মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলেন। কখনো লোভনীয় অফার দেয়, চাকরির প্রস্তাব দেয়, বিনিয়োগে অতিরিক্ত লাভের আশ্বাস দেয়।
