ব্রাহ্মণবাড়িয়া: বিএনপি কোন ভালোটা করছে জনগণের জন্য? ছোট একটা বাচ্চাকে জিগাসা করলেও বলবে তার পরিবারে কী ভোগান্তি হচ্ছে! রান্নার গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই, কাজ নেই- কোন সমস্যাটা সরকার কমাতে পেরেছে?
অথচ বলা যাবে না কিছু! সমালোচনা করলে বিএনপি জামাতের ৫০০ টাকা হাজিরা দেয়া লোকেরা ঝাড়ু জুতা হাতে বোরখা পরে বেরিয়ে পড়বে! এটা কি একটা সুষ্ঠু রাষ্ট্র?
জাতীয় সংসদে বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি।
তাতে রুমিনের বয়েই গেলো! অবাঞ্ছিত ঘোষণা করলে কী রুমিনের কথা অবাঞ্চিত হয়ে যায়?
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলা
বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা ঝাড়ু হাতে বিক্ষোভ মিছিল করে তাকে আশুগঞ্জে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা মিছিলে অংশ নেন।
এর আগে আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। পরে সেখান থেকে ঝাড়ু হাতে মিছিলটি বের হয়ে উপজেলার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিল শেষে
নেতাকর্মীরা ফের বিএনপি কার্যালয়ের সামনে সমবেত হন।
কালো কালো বোরখা পরে মহিলারা হাতে ঝাড়ু নিয়ে বের হন!
আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী মো. শাহজাহান সিরাজের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সদস্য মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. হাবিবুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন জয় ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শামীম চৌধুরী প্রমুখ।
সভাপতির বক্তব্যে হাজী মো. শাহজাহান সিরাজ বলেন, রুমিন ফারহানার পরিবারের ইতিহাস দালালি আর বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস। তার বাবা নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন। তিনি আওয়ামী লীগের প্রোডাক্ট। র-এর দালাল।
তিনি আরও বলেন, সরকারের ছয় মাস যেতে না যেতেই গ্যাস-বিদ্যুতের অজুহাতে অসংসদীয় ভাষায় সংসদে বক্তৃতা করে মূলত ভারত ও আওয়ামী লীগের পারপাস সার্ভ করছেন। আমরা তাঁর এ বক্তব্য ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছি। আশুগঞ্জের মাটিতে তাঁকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছি।
প্রসঙ্গত, গত ৯ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে বিএনপির সমালোচনা করে বক্তব্য দেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল, আশুগঞ্জ ও বিজয়নগরের একাংশ) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা।
সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন,প্রত্যেকটা সরকারের একটা চরিত্র থাকে। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট হবে না, এটা হতে পারে না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর সারের সংকট হবে না, গরিব কৃষক সার লুট করবেন না, সেটাও হতে পারে না।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসবে আর দুর্নীতিতে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হবে না, সেটাও হওয়া সম্ভব না। বিএনপি ক্ষমতায় আসবে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ স্থান অর্জন করবে না, সেটাও হতে পারে না।
সুতরাং বিএনপি ক্ষমতায় আসা মানে ঋণ খেলাপিতে সর্বোচ্চ হওয়া।
ভুলটা তিনি কোথায় বললেন? যা ঘটছে তাই তো বললেন!? তবে বিএনপির তো এগুলো হজম করার শক্তি থাকতে হবে?
