ব্রাহ্মণবাড়িয়া: নারী ধর্ষণ, হত্যা, চুল কেটে মধ্যযুগীয় অত্যাচার, কোমরে শেকল পরিয়ে কিশোরীকে গ্রাম ঘোরানো- এইসব কাণ্ড যে দেশে হয় সেই দেশে মেয়ে জন্ম নেয়াটাই পাপ।

প্রত্যেকটা ঘরে মেয়েরা এখন ভয়ে ভয়ে থাকে, না জানি কখন কী হয়!

এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশন করতে গিয়ে দুই নারী নৃত্যশিল্পী দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, যাদের মধ্যে একজন কিশোরী। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে সরাইল থানা-পুলিশ।

গ্রেপ্তার করলেও কী হবে? দুইদিন পর সব ঠাণ্ডা! আস্তে করে ছেড়ে দেবে! এই প্রশাসনের ওপর বিন্দুমাত্র আস্থা নেই মানুষের।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর এলাকায় তিতাস নদীতে এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে।

ভুক্তভোগী দুই নারী কুমিল্লার চান্দিনার বাসিন্দা এবং পেশাগতভাবে চুক্তিভিত্তিক নৃত্যশিল্পী হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠান করেন।

মামলার তথ্যমতে, এক যুবক ফেসবুক পেজ থেকে নম্বর নিয়ে শাহবাজপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে নাচ পরিবেশনের জন্য তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।

কিন্তু তাদের অসৎ উদ্দেশ্য ছিলো।

৯ হাজার টাকা পারিশ্রমিকের চুক্তিতে তারা বৃহস্পতিবার বিকেলে সরাইল বিশ্বরোড এলাকায় পৌঁছালে রাকিব এবং তার সহযোগীরা তাদের অটোরিকশায় করে একটি সেতুর নিচে নিয়ে যান, এরপর দ্রুত অনুষ্ঠানে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় তোলেন।

নৌকাটি নদীর মাঝামাঝি পৌঁছালে ইঞ্জিন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং নৌকার ছাউনির ভেতরে নিয়ে দুই নারীকে দলবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়।

বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত এ ঘটনা চলে বলে জানা গেছে। রাত আটটার দিকে নির্যাতিতদের নাসিরনগর উপজেলার ভুঁইয়া ঘাট এলাকায় নামিয়ে দিয়ে ধর্ষকরা পালিয়ে যায়।

এরপরেই ভুক্তভোগীরা প্রথমে নাসিরনগর থানায় গেলেও ঘটনাস্থল সরাইল থানার আওতাধীন হওয়ায় তাদের সেখানে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সরাইল থানায় মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে রাকিব মিয়াকে প্রধান আসামি করে অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনকে আসামি করা হয়।

ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *