ঢাকা: জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বোধহয় দেখতে পান না দেশের হাল হকিকত? এখন কেমন আর শেখ হাসিনার সময় দেশের জনগণ কেমন ছিলো?

কোথাও শুনেছেন শেখ হাসিনার শাসনামলে কোনো ব্যক্তি গ্যাসের অভাবে রান্না চাপাতে পারেননি চুলোয়? বাচ্চাকে খাবার বানিয়ে দিতে পারেনি? অথবা কল কারাখানা বন্ধ হয়ে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে? অথচ এইসব কিছু হচ্ছে বিএনপির আমলে!

তারপরেও এদের চোখ কান নাক সব বন্ধ। তেলবাজি না করলে এদের জীবন চলে না।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে। যা কিছু বিদেশি সাহায্য এসেছে, সবকিছু তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সেই ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করে তারা ফিলিপাইন নিয়ে গেছে।

ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন সবাই কারাগারে আছে। কিন্তু এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি।’

অথচ আসিফ নজরুলের কথা বলেননা, জঙ্গী ইউনূসের কথা বলেননা, আসিফ মাহমুদের কথা বলেননা! কেন?

স্পিকার বলেন, ‘আমাদের…অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’

‘যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। বাংলাদেশে দিনরাত কান্নাকাটি, বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এই অপরাধের কোনো বিচার তাদের হয় না,’ যোগ করেন তিনি।

আওয়ামী লীগের নেতা, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীরা ‘লুটপাট করে দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে’ উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আমলের একটা প্রতিমন্ত্রী জাবেদ (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী); তার ৩৬০টা বাড়ি পাওয়া গেছে লন্ডনেই। দুবাইয়ে বাড়ি আছে, আমেরিকায় বাড়ি আছে। সব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘এখনো প্রশাসনে তাদের বেশ কিছু লোক বসে আছে, যে জন্য প্রকৃত চিত্র এখনো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।’

এছাড়া ভারতকে খোঁচা না দিলে তো তাদের পেট ব্যাথা করে, তাই তিনি জামাতের মন জয় করতে বলেন, ভারত নাকি বাংলাদেশের ভালো দেখতে পারে না।

ভারতকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, বিশেষ করে বাংলাদেশ ভালো থাকুক, সেটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘তারা আমাদেরকে একটা করদ রাজ্য বানাবার চেষ্টা করছে। আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে, ওই প্রতিবেশীর স্বার্থই দেখেছে। অনেকগুলো অসম চুক্তি করেছে, যে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে।’

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *