চট্টগ্রাম: চুল কাটতে বেরিয়ে নিখোঁজ হয়ে যায় ১২ বছরের রায়হান। সাত মাস পর তাকে পাওয়া গেছে কিন্তু সুস্থ নয় সে। তার পা নেই, শরীরের বিভিন্ন জায়গা ক্ষতবিক্ষত। তাকে নিয়ে যে চক্রান্ত করা হয়েছে সেটা পরিষ্কার।

এছাড়াও পেটের ডান পাশে ও পিঠে রয়েছে তাজা অস্ত্রোপচারের দীর্ঘ দাগ। হয়তো কিডনি নিয়ে বেচে দেয়া হয়েছে।

ঢাকার একটি ভয়ংকর অপরাধ চক্রের হাত থেকে কোনোমতে পঙ্গু অবস্থায় ফিরে আসা এই শিশুর শরীরে এখন শুধু নির্যাতনের ক্ষতচিহ্ন।

এইভাবে দেশে ৭ মাসে প্রায় ১৬০০০ শিশু নিখোঁজ হয়ে গেছে। পুলিশ বলছে তাদের অধিকাংশকেই উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু এই তথ্য সঠিক নয়।

ঘটনাটি চট্টগ্রামের। চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাতগড় নোয়াপাড়া এলাকার দিনমজুর নাজিম উদ্দীনের  ১২ বছরের ছেলে  মোহাম্মদ  রায়হান। সাত মাস আগে বাবা তাকে ১০০ টাকা দিয়েছিলেন চুল কাটতে। ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বের হয়েছিল ।

এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর হঠাৎ রবিবার ভোরে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ার চুনতি সীরত মাহফিলে হঠাৎ দেখা পাওয়া যায় সেই শিশুটির।

তবে ফিরে আসা রায়হান আর আগের মতো নেই । তার ডান পা নেই। শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতচিহ্ন।

পরিবারের অভিযোগ, একটি সংঘবদ্ধ চক্র তাকে আটকে রেখে পা কেটে ভিক্ষাবৃত্তিতে বাধ্য করেছে। সে সাতগড় তাহফিজুর কোরআন হিফজখানার ছাত্র।

রায়হানের কথা অনুযায়ী, প্রায় সাত মাস আগে তার বাবা তাকে ১০০ টাকা দিয়ে চুল কাটতে পাঠান। অভিমান করে সে বাড়ি থেকে চলে যায় কক্সবাজারে। সেখানে সমুদ্রসৈকতে প্রায় দুই মাস কাজ করে।

পরে বেশি টাকা উপার্জনের প্রলোভন দেখিয়ে অপরিচিত এক ব্যক্তি তাকে ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশনে নিয়ে যায়।

রায়হান জানায়, কমলাপুর রেলস্টেশনের কাছাকাছি গাছপালা ঘেরা একটি টিনের ঘরে তাকে রাখা হতো। সেখানে তার মতো আরও প্রায় ২০ জন শিশু ছিল। সালমা নামে এক নারীসহ আরও দুই ব্যক্তি তাদের সবসময় পাহারা দিত যাতে তারা পালাতে না পারে।

আর এইসব শিশুদের দিয়ে কমলাপুর রেলস্টেশনে পানি বিক্রি করানো হতো।

কিন্তু পানি বিক্রি করে আয় তেমন হয় না। তারপর তাকে ভিক্ষাবৃত্তিতে নামানোর জন্য ডান পা কেটে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রায়হানের।

অর্থাৎ পঙ্গু করে মানুষের দয়া ভিক্ষা করে টাকা আয় করা।

একদিন সকালে ঘুম থেকে উঠেই সে দেখতে পায় তার ডান পা কাটা। অসহ্য ব্যথায় বিছানায় কাতরাতে থাকে সে। পরে ওই চক্রের লোকজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়।

তবে কাটার সময় কি সে টের পায়নি? এই বিষয়টা জানা যায়নি। হয়তো নয়। কিছু খাইয়ে দেয়া হয়েছিলো হতে পারে।

রায়হানের দাবি, হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছে ঘটনাটি ভিন্নভাবে বলার জন্য তাকে শিখিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তাকে বলতে বলা হয় ট্রেন দুর্ঘটনায় তার পা কেটে গেছে।

শনিবার তাকে ঢাকা থেকে বাড়ির উদ্দেশে একটি গাড়িতে তুলে দেওয়া হয়। তার হাতে ৩৫০ টাকা দিয়ে তাকে ফিরে যেতে বলা হয়।

ছেলে এসেছে শুনে সেখানে ছুটে যান তার বাবা নাজিম উদ্দীন। দীর্ঘ সাত মাস পর ছেলেকে ফিরে পেলেও সন্তানের শারীরিক অবস্থা দেখে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন তিনি।

নাজিম উদ্দীন বলেন,  আমার সুস্থ-সবল ছেলেকে পঙ্গু করে দেওয়া হয়েছে। তার ডান পা কেটে ফেলেছে।

বিষয়টি তদন্ত করে সত্য উদঘাটন ও জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *