চট্টগ্রাম: চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ডিপি ওয়ার্ল্ডসহ দেশি-বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানকে ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বন্দর রক্ষা কমিটি।
দেশের সম্পদ নিয়ে ষড়যন্ত্র চলবে না। এর আগেও বহু প্রতিবাদ হয়েছে।
এর আগে দুবাইভিত্তিক অপারেটর ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড’-এর কাছে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) এবং চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ইজারা দেওয়ার চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত স্থগিত করার জোর দাবি জানিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।
নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল বিদেশি কোনো প্রতিষ্ঠানের হাতে দীর্ঘমেয়াদে তুলে দেওয়ার যে আলোচনা ও তোড়জোড় চলছে, তা জাতীয় স্বার্থ এবং দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।
উল্লেখযোগ্য যে, দেশের সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যের সিংহভাগই সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে। এমন একটি কৌশলগত ও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে চলে গেলে সেটা দেশের সার্বভৌমত্ব ও বন্দর ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
এবার মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর সোনার ডিম পাড়া হাঁস। সোনার ডিম নয়, পুরো হাঁসটিই খেয়ে ফেলতে চায়।’ ‘চট্টগ্রাম বন্দরের নিজস্ব অর্থায়নে তৈরি সিসিটি, এনসিটি ইজারা দেওয়া যাবে না।’
আজ, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মহানগরের বারিক বিল্ডিং এলাকা থেকে মিছিলটি বের হয়ে বন্দরের দিকে যায়।
পৌনে ১২টার দিকে বন্দরের ২ নম্বর গেটের সামনে পৌঁছালে পুলিশের অনুরোধে কর্মসূচি শেষ করেন আন্দোলনকারীরা।
মিছিলে ‘মা মাটি মোহনা বিদেশিদের দেব না’, ‘দুনিয়ায় মজদুর এক হও লড়াই করো’, ‘আমার মাটি আমার মা বিদেশিদের দেব না’ এবং ‘বাধা আসবে যেখানে লড়াই হবে সেখানে’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হয়।
দেলোয়ার মজুমদার আরো বলেছেন, ‘আমাদের আন্দোলন সরকারবিরোধী নয়। জনগণের সরকারকে জনগণের দিকে টেনে আনার আন্দোলন।’
তবে আগামি ৫ অক্টোবর আবারো কর্মসূচি হবে জানিয়ে দেয়া হয়।
দেলোয়ার মজুমদার বলেন, ‘আগামী ৫ অক্টোবর বন্দর ভবনের গেটে সকাল-সন্ধ্যা অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হবে।’
