ঢাকা: জিন্নাহ মরে ভূত হয়ে গেছে, কিন্তু পাকি জিন্নাহর ভূত রয়ে গেছে আমাদের দেশের জামাত শিবির, রাজাকারদের মধ্যে। তাই তো তারা রাজাকার!

এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ঐতিহাসিক সংগ্রহশালা থেকে পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি ছিঁড়ে ফেলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সাবেক শিক্ষার্থী। ঘটনার পর সেখানে গোলাম আযমকে জু*তাপেটার ঐতিহাসিক ছবি টাঙানো হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ডাকসু ভবনের সংগ্রহশালায় গিয়ে জিন্নাহর ছবিগুলো ভে*ঙে ছিঁড়ে ফেলেন আবু তৈয়ব হাবিলদার।

তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০০১-০২ শিক্ষাবর্ষের উর্দু বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন এবং ২০২৫ সালের ডাকসু নির্বাচনে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।

এই বাংলাদেশে জিন্নাহ কোথা থেকে আসে? এবার মেঝেতে লাগানো হলো জিন্নাহ, গোলাম আযমের ছবি যাতে যাওয়া আসার সময় পদদলিত করা যায়।

ডাকসুর প্রবেশপথের ফ্লোরে জিন্নাহ ও গোলাম আযমের ছবি পদদলিত করেছেন একদল শিক্ষার্থী। তারা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। উপযুক্ত এবং সাহসী কাজটি করেছেন তাঁরা। জনগণ বাহবা দিচ্ছে তাঁদের।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা আড়াইটার দিকে তারা এই কর্মসূচি পালন করেন।

ডাকসুর মেঝেতে জিন্নাহ-গোলাম আযমের ছবি, পা মাড়িয়ে শিক্ষার্থীরা প্রতিবাদ জানান।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) সংগ্রহশালায় পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ছবি প্রদর্শনের প্রতিবাদে ব্যতিক্রমী কর্মসূচি পালন করেন একদল শিক্ষার্থী।

জিন্নাহর পাশাপাশি যুদ্ধাপরাধের দায়ে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আযমের ছবি ডাকসুর মেঝেতে সাঁটিয়ে সেগুলোকেও পা দিয়ে মাড়িয়ে দেশ তাঁরা।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী ওয়াসিম উদ্দিন রাহাত বলেন, বাংলাদেশ ভাষার জন্য সালাম-বরকতের রক্ত দেওয়া এবং মুক্তিযুদ্ধের ত্যাগের মধ্য দিয়ে অর্জিত দেশ। যারা এ দেশের মানুষের ভাষার অধিকার কেড়ে নিতে চেয়েছিলেন, তাদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থান দেওয়ার বিষয়টি তারা মেনে নেবেন না।

এর আগে দেখা গেছে তৈয়বের সাহসিকতা।
ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, তিনি উত্তেজিত অবস্থায় ফ্রেম ভেঙে ছবি বের করে ছিঁড়ে ফেলছেন। পরে ছবির টুকরো ও ভাঙা ফ্রেম মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখা যায়।

ঘটনার সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “যে জিন্নাহ আমাদের মাতৃভাষার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত দিয়েছিল, যে জিন্নাহ ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হলে ছাত্র-ছাত্রীদের গ্রেপ্তার করেছিল, সেই জিন্নাহ ডাকসুতে স্থান পেতে পারে না।”

তিনি আরও বলেন, ভাষা আন্দোলনের আসল নায়কদের বাদ দিয়ে জিন্নাহর ছবি রাখার যৌক্তিকতা নেই এবং এখানে আবুল কাসেম, শেখ মুজিবুর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের নায়কদের ছবি থাকা উচিত।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *