ঢাকা: আসিফ নজরুলের মতো রং পাল্টানো গিরগিটি মনে হয় এই পৃথিবীতে আর দুটো খুঁজে পাওয়া যাবে না। অবশ্য এই কথাটাও ভুল বললাম- জঙ্গী ইউনূসের সাঙ্গোপাঙ্গো সবকয়টা গিরগিটি, দেশদ্রোহী রাজাকার।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক আসিফ নজরুলের বাবা ‘বিহারি এবং একজন খাস রাজাকার’ ছিলেন বলে আমরা সকলেই জানি।

এই দাবি সরাসরি করেওছিলেন সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক।

জামাত শিবিরকে চেটে খাওয়া এই আসিফ নজরুল বাংলাদেশ ক্রিকেটকে অর্ধেক ধ্বংস করেছে। ভারতকে নাকি এত ভয় যে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা ভারতে গেলে নাকি তাদের মেরেই ফেলা হবে, এই জন্য ভারতে খেলতে যেতে দেননি তিনি। এত দরদ তাঁর? নিজের নাক কেটে হলেও পরের যাত্রা ভঙ্গ করা মানুষ এরা।

আসিফ নজরুল গলা উঁচিয়ে কণ্ঠ ছিঁড়ে বলেছিলেষ, ভারতীয় ২৬ লাখ নাগরিক বাংলাদেশে চাকরি করার কারণে বাংলাদেশের ছেলে-মেয়েরা চাকরি পাচ্ছে না!

আপনি‌ ও আপনারা অনেকে বিশ্বাস করেছেন হয়তো! কিন্তু আমি বিশ্বাস করিনি।সেই ২৬ লাখ ভারতীয় নাগরিক কোন-কোন দপ্তরে চাকরি করে তাদের তালিকা দিতে পেরেছেন এই রাজাকার? আসিফ নজরুল দিতে পারেননি।

জুলাই স,/ন্ত্রা,/সীদের‌ সাথে আঁতাত করে আসিফ নজরুল দখলদার বাহিনীর অন্যতম সদস্য। দিনকে রাত বানাচ্ছেন, রাতকে দিন। ফাঁসির দন্ডপ্রাপ্ত থেকে যাবজ্জীবন দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদের টাকার বিনিময়ে ছেড়ে দিয়েছেন।

এতো কিছু করছেন, কিন্তু ২৬ লাখ তো দূরের কথা, ২৬ জন ভারতীয় নাগরিকের তালিকা প্রকাশ করতে পারেননি।

এরা মানুষকে বোকা বানিয়ে ধোকা দিতেই মূলত একের পর এক মিথ্যাচার করে আসছে।

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে ভারতে যায়নি বাংলাদেশ দল। তখন সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বে ছিলেন এই আসিফ নজরুল।

বিশ্বকাপ না খেলার কারণ অনুসন্ধানে গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আসিফ নজরুলের সিদ্ধান্তেই বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে যায়নি জাতীয় দল। সাফ হয়ে গেছে বিষয়টি।

এমনকি তখন ক্রীড়া মন্ত্রণালয় তথা আসিফ নজরুলের সেই সিদ্ধান্তে সায় দিয়েছিল বিসিবি।

এ নিয়ে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাতে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অবস্থান তুলে ধরে বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়েছেন আসিফ নজরুল।

এমন ভাবে লিখলেন, যেন কোনো বিষয়ই না এটা!

‘টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?’ শিরোনামে লেখা তার সেই স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হলো।

টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ: কেন ভারতে যাইনি?

ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এতোদিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটলো বুঝলাম না।

ঘটনার সূত্রপাত উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের নির্দেশে মুস্তাফিজকে আইপিএল থেকে অপমানজনকভাবে বাদ দেওয়া থেকে। এর পরপরই আমরা নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং বাংলাদেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদে ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার বিষয়ে অনীহা জানাই।

আমাদের আশঙ্কা যে অমূলক ছিল না, আইসিসির প্রথম রিপোর্টেই তার স্বীকৃতি ছিল। সেখানে ভারতে নিরাপত্তা-আশঙ্কার তিনটি কারণ উল্লেখ করা হয়েছিল—বিশ্বকাপের দলে মুস্তাফিজ থাকলে, বাংলাদেশের সমর্থকরা মুক্তভাবে ঘোরাফেরা করলে এবং বাংলাদেশে নির্বাচন এগিয়ে আসার প্রেক্ষাপটে।

বিবিসি বাংলা ওই রিপোর্টের হুবহু বাংলা অনুবাদও প্রকাশ করেছিল। এই পরিস্থিতিতে আমরা ভারতে খেলতে যাবো কেন?

আমরা শেষ পর্যন্ত অন্য কোনো ভেন্যুতে বিশ্বকাপ খেলার জন্য বহু চেষ্টা করেছি। কোনো কোনো দেশ থেকে সমর্থনও পেয়েছিলাম। কিন্তু সম্ভবত আইসিসির নেতৃত্বে ভারতীয়দের আধিপত্যে থাকার কারণে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আমাদের ভারতে নিয়ে যাওয়ার ব্যাপারে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

আমাদের সিদ্ধান্তের পেছনে তিনটি বিষয় ছিল অত্যন্ত পরিষ্কার—দেশের মর্যাদা, আমাদের ক্রিকেটার-সাংবাদিক-সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং আগামী নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখা।
বিজ্ঞাপন

সে সময় বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপ না খেললে বিদেশি দলগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের খেলা বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের নানান উদ্যোগে সেই আশঙ্কাও শেষ পর্যন্ত দূর হয়েছিল। আমি মনে করি, আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।

একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নেবো এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী । মাথা নত করে সব মেনে নেওয়ায় নয়।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *