ঢাকা: মৃত্যু শয্যায় শায়িত একজন মা, রাষ্ট্রের কাছে বলেছিলেন শেষ মুহূর্তে তাঁর সন্তানকে দেখতে চান। রাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে মায়ের সাথে সন্তানকে দেখা করতে দিলো না!
অতৃপ্ত মা পৃথিবীর মায়া ছাড়লেন। তারপর রাষ্ট্র বললো ৫ ঘন্টার প্যারোলে মুক্তি দেওয়া যাবে!
কেন?
মায়ের মৃত মুখ দেখে,আবার জেলে গিয়ে বুক ফা/টা কান্না করার জন্য? এর থেকে নির্দয় আর কোনো ঘটনা হতে পারে?
লেখক তসলিমা নাসরিন এর আগেও চিন্ময় প্রভুর সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছেন। এবারো করলেন।
হুবহু তাঁর কথাগুলো তুলে ধরলাম।
“চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের কারাবাসের গল্পটি শুরু হয়েছিল একটি পতাকা দিয়ে। কিন্তু প্রায় দুই বছর পর ঘটনাটি আর একটি পতাকার মামলা মাত্র নয়। এটি এখন বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা, সংখ্যালঘু অধিকার, জামিন, একের পর এক মামলায় একজন মানুষকে আটকে রাখা এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতার ব্যবহার নিয়ে অনেক বড় একটি প্রশ্ন।
২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পালাবদলের পর বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দুদের বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও উপাসনালয়ে হামলার খবর আসছিল। হিন্দু শিক্ষককে পদত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগও উঠছিল।
এই পরিস্থিতিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস সনাতনী সম্প্রদায়ের আট দফা দাবি নিয়ে প্রকাশ্যে আন্দোলন করছিলেন। সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়, সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন, হামলার বিচার, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন—এসব ছিল সেই দাবির মধ্যে। ২৫ অক্টোবর চট্টগ্রামের লালদীঘির বড় সমাবেশেও তিনি নেতৃত্ব দেন।
এর ছয় দিন পর, ৩১ অক্টোবর, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় চিন্ময়সহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হলো। অভিযোগ কী?
লালদীঘির সমাবেশের সময় চট্টগ্রামের নিউমার্কেট মোড়ের একটি স্তম্ভে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকার ওপরে গেরুয়া পতাকা তোলা হয়েছিল। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ।
মামলার বাদী ছিলেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। লক্ষ করার মতো ঘটনা—মামলা করার পরদিনই বিএনপি তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করে।
অবশ্য তাঁর দল থেকে বহিষ্কার হওয়া মামলাটিকে আপনা-আপনি বাতিল করে না। কিন্তু একটি প্রশ্ন থেকেই যায়: এত গুরুতর রাষ্ট্রদ্রোহের মামলার ভিত্তি কতটা শক্ত ছিল?
এই প্রশ্নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উত্তর পরে দিয়েছে বাংলাদেশের হাইকোর্ট নিজেই।
কিন্তু তার আগেই চিন্ময়ের জীবনের দরজা বন্ধ হয়ে গেল।
২২ নভেম্বর তিনি রংপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের আরেকটি বড় সমাবেশে অংশ নেন। তিন দিন পর, ২৫ নভেম্বর ২০২৪, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার জন্য শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গেলে গোয়েন্দা পুলিশ তাঁকে আটক করে।
ডিবি পরে জানায়, চট্টগ্রামের মামলার সূত্রে তাঁকে আটক করা হয়েছে। পরদিন তাঁকে চট্টগ্রামের আদালতে হাজির করা হয়। জামিনের আবেদন নাকচ হলো। তাঁকে পাঠানো হলো কারাগারে।
সেই ২৫ নভেম্বর ২০২৪ থেকে আজ পর্যন্ত চিন্ময় মূলত কারাগারেই আছেন।
প্রথম প্রশ্নটি এখানেই: রাষ্ট্রদ্রোহের মতো ভয়ংকর অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে আদৌ টিকত কি না?
২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল হাইকোর্ট যখন তাঁকে জামিন দেয়, দুই বিচারপতির লিখিত রায় এই প্রশ্নের অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ উত্তর দেয়।
হাইকোর্ট দেখতে পায়, এজাহারে কোথাও বলা নেই যে চিন্ময় নিজে জাতীয় পতাকার ওপরে অন্য পতাকা তুলেছিলেন। এমনকি যে জায়গায় পতাকা তোলার অভিযোগ, সেখানে তিনি উপস্থিত ছিলেন—এমন অভিযোগও নেই।
তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল তিনি অন্যদের “উসকানি” দিয়েছেন।
কিন্তু হাইকোর্টের ভাষায় সেই অভিযোগ ছিল “vague and indistinct”—অস্পষ্ট ও অনির্দিষ্ট। কোথায়, কখন, কীভাবে তিনি অন্যদের পতাকা তুলতে উসকানি দিয়েছিলেন, এজাহারে তার বর্ণনাই নেই।
আরও তাৎপর্যপূর্ণ হলো, আদালত বলেছে, অভিযোগ সত্য ধরে নিলেও তা জাতীয় পতাকা-সংক্রান্ত বিধি লঙ্ঘনের প্রশ্ন হতে পারে; বর্তমান অবস্থায় তা দণ্ডবিধির ১২৪এ ধারার রাষ্ট্রদ্রোহের মধ্যে পড়ে না।
্আদালত এ-ও উল্লেখ করে যে গ্রেপ্তারের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। এসব বিবেচনায় হাইকোর্ট তাঁকে জামিন দেয়।
এই রায় পড়ার পর আমার প্রশ্ন আরও তীব্র হয়।
যে অভিযোগকে হাইকোর্টই রাষ্ট্রদ্রোহ বলে দেখতে পেল না, সেই অভিযোগে একজন মানুষকে প্রথম পাঁচ মাস কারাগারে রাখা হলো কেন?
আর হাইকোর্ট জামিন দেওয়ার পর কী ঘটল?
তিনি কি বেরিয়ে এলেন?
না।
৩০ এপ্রিল রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের জামিন পেলেন। ৫ মে তাঁকে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যা মামলায় নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
৬ মে আদালত প্রাঙ্গণের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের ওপর হামলা-সংক্রান্ত আরও চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখাল। একই দিনে রাষ্ট্রের আবেদনে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় পাওয়া হাইকোর্টের জামিনও আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে স্থগিত হয়ে গেল।
একজন মানুষ একটি মামলায় জামিন পেলেন; তারপর পরপর আরও মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো।
আইনের ভাষায় প্রতিটি মামলার নিজস্ব প্রক্রিয়া আছে। কিন্তু নাগরিকের চোখে এই ধারাবাহিকতা একটি ভয়াবহ প্রশ্ন তৈরি করে:
বিচার চলছিল, নাকি তাঁকে কারাগারে রাখার রাস্তা একটির পর একটি খোলা হচ্ছিল?
এখানে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের হত্যার কথা অবশ্যই বলতে হবে।
২৬ নভেম্বর ২০২৪ চিন্ময়ের জামিন নাকচ হওয়ার পর আদালত এলাকায় তাঁর সমর্থকেরা বিক্ষোভ করেন, কারাভ্যান আটকে দেওয়া হয়, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ঘটে। সেই ভয়াবহ বিশৃঙ্খলায় আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
এই হত্যাকাণ্ড জঘন্য। এর বিচার অবশ্যই হতে হবে। হত্যাকারীদের শনাক্ত করে শাস্তি দিতে হবে। সাইফুলের হত্যাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।
কিন্তু একজনের হত্যার বিচার করতে গিয়ে আরেকজনের ন্যায়বিচারের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না।
পরে পুলিশ চিন্ময়কে সেই হত্যা মামলার প্রধান আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। পুলিশের বক্তব্য, জামিন নাকচ হওয়ার পর তাঁর বক্তব্য জনতাকে উসকে দিয়েছিল এবং সেই উসকানির ফলেই হামলা ঘটে। ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে আদালত তাঁর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ১০৯ ধারায় অভিযোগ গঠন করেছে। বিচার এখন চলছে।
সুতরাং আমি এমন দাবি করব না যে আদালত ইতিমধ্যে তাঁকে এই মামলা থেকে নির্দোষ ঘোষণা করেছে। করেনি।
কিন্তু আদালত তাঁকে দোষীও সাব্যস্ত করেনি।
এই পার্থক্যটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে মৌলিক।
অভিযোগ মানে অপরাধ নয়।
চার্জশিট মানে দোষ প্রমাণ নয়।
আসামি মানে অপরাধী নয়।
বিচার শেষে অপরাধ প্রমাণিত হলে শাস্তি হবে। কিন্তু বিচার শেষ হওয়ার আগেই বছরের পর বছর কারাবাস যদি কার্যত শাস্তিতে পরিণত হয়, তবে নির্দোষ বলে বিবেচিত হওয়ার নীতিটির অর্থ কী থাকে?
আরেকটি উদ্বেগজনক ঘটনা ঘটেছিল তাঁর কারাবাসের একেবারে শুরুতেই।
৩ ডিসেম্বর ২০২৪ তাঁর জামিন শুনানিতে কোনো আইনজীবী তাঁর পক্ষে আদালতে দাঁড়াননি; শুনানি এক মাস পিছিয়ে যায়।
আগে যাঁরা তাঁর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকজন The Daily Star-কে বলেছিলেন, ২৬ নভেম্বরের সহিংসতার পর তাঁরা আদালত প্রাঙ্গণে নিজেদের নিরাপদ মনে করছিলেন না। চিন্ময়ের পক্ষে দাঁড়ানো বহু আইনজীবীকেও পরবর্তী একটি মামলায় আসামি করা হয়েছিল।
কোনো অভিযুক্ত মানুষ জনপ্রিয় হোক বা অজনপ্রিয়, মুসলমান হোক বা হিন্দু, বাম হোক বা ডান—আইনজীবী পাওয়ার নিরাপদ সুযোগ তার থাকতে হবে।
ন্যায়বিচার শুধু বিচারকের রায় নয়।
ন্যায়বিচার হলো অভিযুক্ত যেন ভয় ছাড়া নিজের পক্ষে দাঁড়াতে পারে, আইনজীবী পায়, সময়মতো শুনানি পায় এবং রাষ্ট্র যেন তাকে আগে থেকেই অপরাধী ধরে না নেয়।
২০২৬ সালে চিন্ময় একের পর এক মামলায় জামিন পেতে শুরু করেন।
এপ্রিল মাসে একটি মামলায় জামিন পেলেন। আগস্টে আরও দুটি মামলায় হাইকোর্ট জামিন দিল। ৬ সেপ্টেম্বর আরও দুটি মামলায় জামিনের আদেশ হলো।
তবু তিনি বেরোতে পারলেন না—রাষ্ট্রদ্রোহ মামলার হাইকোর্টের জামিন স্থগিত এবং আলিফ হত্যা মামলার বিচার চলমান থাকায় তাঁর কারাবাস অব্যাহত রয়েছে।
এর মধ্যে বাংলাদেশে সরকারও বদলেছে।
চিন্ময়কে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়।
১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অর্থাৎ চিন্ময়ের কারাবাসের শুরুটির দায় বর্তমান সরকারের নয়। এই সত্য স্বীকার করতেই হবে।
কিন্তু এখানেই বর্তমান সরকারের দায় শেষ হয়ে যায় না।
ক্ষমতা গ্রহণের পর একটি সরকার আগের সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তকে অন্ধভাবে বহন করার জন্য নির্বাচিত হয় না। অন্যায় হয়ে থাকলে তা পরীক্ষা করা, রাষ্ট্রপক্ষের অবস্থান পুনর্বিবেচনা করা এবং আইনকে প্রতিহিংসার হাতিয়ার হতে না দেওয়া নতুন সরকারেরও দায়িত্ব।
বরং এপ্রিল মাসে তারেক সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী প্রকাশ্যেই বলেছিলেন, চিন্ময়ের মুক্তির পথ সুগম করতে সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আজ সেপ্টেম্বর।
চিন্ময় এখনও কারাগারে।
তাহলে সেই আশ্বাসের কী হলো?
এর চেয়েও করুণ ঘটনা ঘটেছে এখন।
চিন্ময়ের মা সন্ধ্যা রাণী ধর গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি ছেলেকে দেখতে চেয়েছিলেন। ৯ সেপ্টেম্বর তাঁর পরিবার চিন্ময়কে সাময়িক প্যারোলে মুক্তি দেওয়ার আবেদন করে।
প্রশাসন জানায়, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে প্যারোলের বিধান নেই। একই দিন চিন্ময়ের মুক্তি ও মায়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও স্মারকলিপি দেওয়া হয়।
পরদিন সকালেই সন্ধ্যা রাণী ধর মারা গেলেন।
ছেলের সঙ্গে শেষ দেখা আর হলো না।
একজন মানুষের বিরুদ্ধে যত অভিযোগই থাকুক, এই দৃশ্য আমাকে বিচলিত করে।
একজন বৃদ্ধা মৃত্যুর আগে তাঁর সন্তানকে দেখতে চাইছেন। রাষ্ট্রের কাছে এই সামান্য মানবিকতার জায়গাটুকুও কি নেই?
চিন্ময়ের পুরো ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে তাই আমি শুধু একটি ব্যক্তির মামলা দেখি না। আমি একটি বিপজ্জনক রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি দেখি—মামলা করো, গ্রেপ্তার করো, জামিন হলে অন্য মামলায় গ্রেপ্তার দেখাও, বিচার শেষ হওয়ার আগেই বছরের পর বছর কারাগারে রাখো।
এই সংস্কৃতি শুধু চিন্ময়ের বিরুদ্ধে ব্যবহার হলে অন্যায় নয়। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবহার হলেও অন্যায়। বিএনপির বিরুদ্ধে হলে অন্যায়। জামায়াতের বিরুদ্ধে হলে অন্যায়। নাস্তিকের বিরুদ্ধে হলে অন্যায়। ধর্মীয় নেতার বিরুদ্ধে হলেও অন্যায়।
আইনের ন্যায়বিচারের কোনো ধর্ম নেই, কোনো দল নেই।
আজ যে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা আপনার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে কারাগারে রাখার জন্য ব্যবহার হচ্ছে, কাল সেই একই ক্ষমতা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হতে পারে।
এই কারণেই আমি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের মুক্তি চাই।
আমি বলছি না, তাঁর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগের বিচার হবে না। আলিফ হত্যা মামলার বিচার হোক। নিরপেক্ষভাবে হোক। রাষ্ট্রের কাছে প্রমাণ থাকলে আদালতে পেশ করুক। তাঁর বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা হোক।
কিন্তু বিচার আর কারাবাসকে এক করে দেওয়া চলবে না।
তাঁকে জামিনে মুক্তি দিন। বিচার চলুক মুক্ত মানুষের বিরুদ্ধে, আগে থেকেই শাস্তি পাওয়া মানুষের বিরুদ্ধে নয়।
বিশেষ করে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় হাইকোর্টের লিখিত পর্যবেক্ষণের পরও সেই মামলার জামিন স্থগিত রেখে তাঁকে বন্দি রাখার বিষয়টির দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া দরকার। যে আদালত বলেছে অভিযোগে তাঁর উপস্থিতির কথাই নেই, উসকানির বিবরণ অস্পষ্ট, এবং বর্তমান পর্যায়ে রাষ্ট্রদ্রোহের উপাদান পাওয়া যাচ্ছে না—সেই মামলাকে একজন মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়ার অনির্দিষ্ট হাতিয়ার হতে দেওয়া যায় না।
বাংলাদেশে আর কোনো মানুষকে এভাবে কারাগারে পচতে দেওয়া উচিত নয়।
কোনো হিন্দুকে নয়।
কোনো মুসলমানকে নয়।
কোনো বৌদ্ধকে নয়।
কোনো খ্রিস্টানকে নয়।
কোনো নাস্তিককে নয়।
কোনো রাজনৈতিক কর্মীকেও নয়।
প্রথমে মানুষকে জেলে ঢোকাও, তারপর অপরাধ খুঁজতে থাকো—এই রাষ্ট্রীয় সংস্কৃতি বন্ধ হোক।
অপরাধীকে শাস্তি দিন। কিন্তু নিরপরাধকে শাস্তি দেবেন না। সন্দেহভাজনকে অপরাধী বানাবেন না। অভিযোগকে রায় বানাবেন না। বিচার শুরু হওয়ার আগেই কারাবাসকে সাজা বানাবেন না।
চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচার আদালত করবে।
কিন্তু প্রায় দুই বছরের কারাবাসের পর আজ রাষ্ট্রকেও বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।
রাষ্ট্রকে জিজ্ঞেস করতে হবে—
একজন মানুষকে আর কতদিন দোষী প্রমাণের আগেই শাস্তি দেবেন?
আমি চিন্ময়ের মুক্তি চাই।
শুধু চিন্ময়ের জন্য নয়।
আমি এমন একটি বাংলাদেশের জন্য তাঁর মুক্তি চাই, যেখানে রাষ্ট্র অপরাধীর বিচার করবে—কিন্তু কাউকে দোষ প্রমাণের আগেই অপরাধী বানিয়ে শাস্তি দেবে না”।
