ঢাকা: মনে আছে তো তোফাজ্জলের কথা?সেই নির্মম, করুণ ইতিহাস!
আজকে ছিল তোফাজ্জলের ভাত খাওয়ার শেষ দিন। বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার,কাঁঠালতলী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি তোফাজ্জল হোসেনকে আজকের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক প্লেট ভাতের বিনিময়ে মেধাবী নামক জঙ্গীরা পিটিয়ে হত্যা করেছিল।
এই বাংলার মাটিতে তোফাজ্জল হোসেন হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে- এই আশা নিয়ে আছে জনগণ।
মানসিক ভারসাম্যহীন তোফাজ্জল হোসেনের মৃত্যু দিবস আজ ১৮ সেপ্টেম্বর।
২০২৪ সালের এই দিনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে মোবাইল চোর সন্দেহে তথা ষড়যন্ত্র করে, মব করে তাঁকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
মৃত্যুর আগে জুলাই সন্ত্রাসীরা তাকে খাবার খেতে দেয়। পরে লাঠি, রড, স্ট্যাম দিয়ে পৈশাচিক কায়দায় পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
সেই তোফাজ্জলের সাথে ঘটা নির্মমতা দেখেছে সারা বিশ্ব।
তোফাজ্জল হোসেনের দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর গ্রামের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠালতলী ইউনিয়নের তালুকের চরদুয়ানী গ্রামে খতমে কোরআন, মিলাদ ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তাঁর আত্মীয়, স্বজনরা।
তোফাজ্জল হোসেন (৩২) তালুকের চরদুয়ানী গ্রামের মৃত আবদুর রহমানের ছেলে। তিনি বরিশালের সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ থেকে বাংলা বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেন।
তোফাজ্জলের ঘটনায় শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন তাঁর মামাতো বোন তানিয়া।
মামলার তদন্ত শেষে প্রথম দফায় ২১ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আবেদনের পর মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে পাঠানো হয়।
প্রথম দফার অভিযোগপত্রে আসামিরা—মো. জালাল মিয়া, সুমন মিয়া, মো. মোত্তাকিন সাকিন, আল হোসেন সাজ্জাদ, আহসান উল্লাহ, ওয়াজিবুল আলম, ফিরোজ কবির, আব্দুস সামাদ, শাকিব রায়হান, ইয়াসিন আলী গাইন, ইয়ামুজ্জামান ইয়াম, ফজলে রাব্বি, শাহরিয়ার কবির শোভন, মেহেদী হাসান ইমরান, রাতুল হাসান, সুলতান মিয়া, নাসির উদ্দিন, মোবাশ্বের বিল্লাহ, শিশির আহমেদ, মহসিন উদ্দিন ও আব্দুল্লাহহিল ক্বাফি।
পরে আরো তদন্তে শেখ রমজান আলী, রাশেদ কামাল অনিক, মো. মনিরুজ্জামান সোহাগ, আবু রায়হান, রেদোয়ানুর রহমান পারভেজ, রাব্বিকুল রিয়াদ ও আশরাফ আলী মুন্সীকে আসামি করা হয়। এতে মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হচ্ছে ২৮ জন।
তোফাজ্জলের হত্যা মামলার আইনজীবী ব্যারিস্টার জিয়াউর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালত গ্রহণ করেছেন। বর্তমানে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। এরপর অভিযোগ গঠন হলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।
