ঢাকা: মুসলমানের দেশেও তাহলে মুসলমানরা নিরাপদ নয়। ঘটনায় তো তাই প্রমাণ হচ্ছে।
পাকিস্তানের অস্থিতিশীল উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে এক মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা এবং তার পরবর্তী বন্দুকযুদ্ধে অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের একটি মসজিদের ভিতরে বোমা বিস্ফোরণ ঘটলো। শুক্রবার এই বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন ৭৮ জন।
নিহতদের মধ্যে ১৫ জন পুলিশকর্মী রয়েছেন। পুলিশ দফতরের একটি ভবনের কাছেই ওই মসজিদে হামলা চালানো হয়। বিস্ফোরণের পর ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকতে দেখা যায় মৃতদেহ।
খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কোহাট জেলায় এই হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রদেশের পুলিশ প্রধান জুলফিকার হামিদ।
তিনি বলেন, বিস্ফোরক বোঝাই করা একটি গাড়ি মসজিদের ভিতরে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুলিশ দফতরের বাইরের দেওয়াল ভেঙে পড়ে। মসজিদটি ভেঙেচুরে শেষ।
২০২৩ সালেও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের রাজধানী পেশোয়ারে একটি মসজিদের ভিতরে আত্মঘাতী হামলায় ১০১ জনের মৃত্যু হয়েছিল।
এই ঘটনা নিয়ে ফেসবুকে নিজের মত প্রকাশ করেছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
তিনি লেখেন, “পাকিস্তানের কোহাটে জুমার নামাজের সময় পুলিশ লাইন্সের মসজিদের কাছে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি নিয়ে আত্মঘাতী হামলা চালিয়েছে জিহাদিরা।
এর আগেও পাকিস্তানের বহু মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা হয়েছে। জিহাদের নামে ওরা অন্যকে যেমন হত্যা করে, নিজেকেও হত্যা করে। নিজের জীবন, অন্যের জীবন—কোনওটারই মূল্য নেই। এ এক বীভৎস ধর্ম।
ইসলামকে নিরীহ ধর্ম আর জঙ্গিবাদকে তার নিছক অপব্যবহার বলে চালিয়ে দেওয়ার আমি কোনও কারণ দেখি না।
জিহাদিরা তাদের জিহাদ, শহিদ, কাফের, জান্নাতের ভাষা আকাশ থেকে পায়নি; ইসলামের ধর্মগ্রন্থ ও ধর্মীয় ঐতিহ্য থেকেই পেয়েছে। সব মুসলমান জঙ্গি নয়—কিন্তু সেই কথাটি বললেই ইসলামের জঙ্গিবাদী উপাদানগুলো মুছে যায় না”।
