রাঙামাটি: ১৩ বছরের বাচ্চা, একটা ফুটফুটে ছেলে অপ্রতিমকে খুন করা হয়েছে। খুব সম্ভবত তার হাতে থাকা আই ফোনটির জন্য তাকে খুন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে পাওয়া গিয়েছে একাধিক আলামত, কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
এই ঘটনায় তুহিন নামক এক যুবককে আটক করা হয়েছে।
আটককৃত তুহিন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলো অপ্রতীমকে সাথে নিয়ে।
অপ্রতিমের হাসি-খুশি ছবিগুলো এখন কেবলই স্মৃতি! তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে।
তার মা বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক এবং কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম (লেখক নাম নাহিদা নাহিদ) ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছিলেন, ১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সদর দক্ষিণ থানাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোটবাড়ি এলাকার বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হয় অপ্রতিম। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি সে।
সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওইদিন সদর দক্ষিণ থানায় জিডি করেন তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার।
সেই ছেলের নিথর দেহ উদ্ধার হয়। এই মা বাবা বুক থাবড়ে কাঁদছে। কীভাবে সান্ত্বনা দেবে নিজেকে? এর কোনো সান্ত্বনা হয়?
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দিন কে দিন অবনতি হচ্ছে। অপরাধীরা আরও মাথাচাড়া উঠেছে!
কোটবাড়ি পুলিশ ফাড়ির ইন্সপেক্টর মহিবুল আলম ভূঁইয়া জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত চলছে। তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহজনকভাবে তুহিনকে আটক করা হয়েছে।
ওসি রকিবুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কয়েকজন পুলিশ হেফাজতে আছে। তবে তাদের নাম তদন্তের স্বার্থে এখনই বলা যাবে না।’
অপ্রতিমের মৃত্যুর ঘটনায় একাধিক ক্লু (আলামত) পেয়েছে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একাধিকজন পুলিশের হেফাজতে রয়েছে, তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান বলেন, ‘অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই পুলিশের একাধিক টিম মাঠে নামে। আমরা এ হত্যাকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ একাধিক ক্লু পেয়েছি। হত্যাকাণ্ডটির পেছনে শুধু আইফোন ছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল তা দ্রুত উদ্ঘাটন করা হবে। হত্যাকাণ্ডে যতজনই জড়িত থাকুক তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।’
