ঢাকা: আজ ২০ সেপ্টেম্বর, বিশিষ্ট ছান্দসিক, প্রখ্যাত রবীন্দ্র-বিশেষজ্ঞ, ইতিহাসবিদ এবং উনিশ শতকের যুক্তিবাদ, মানবতাবাদ ও বাঙালি সাংস্কৃতিক চেতনার অন্যতম প্রসূন অধ্যাপক প্রবোধচন্দ্র সেনের আজ প্রয়াণ দিবস।
প্রবোধচন্দ্র সেনের প্রয়াণ দিবসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বিনম্র শ্রদ্ধাঞ্জলি জানিয়েছে।
আওয়ামী লীগ তাদের ফেসবুক ভেরিফাইড পেজে লিখেছে:
“ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার চুন্টা গ্রামে জন্মগ্রহণকারী এই মহীয়ান কীর্তিমান স্বীয় মেধা, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলা সাহিত্যের ছন্দতত্ত্ব বিশ্লেষণ, রবীন্দ্র-গবেষণা এবং বাঙালি ইতিহাস-ঐতিহ্য চর্চায় এক কালজয়ী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছেন।
আধুনিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলা সংস্কৃতির মূলধারাকে সমৃদ্ধ করতে তাঁর বুদ্ধিবৃত্তিক অবদান চিরস্মরণীয়।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে বাঙালি জাতির মেধা, শিক্ষা ও মননশীলতার এই অনন্য স্তম্ভ, অধ্যাপক প্রবোধচন্দ্র সেনের স্মৃতির প্রতি জ্ঞাপন করছি গভীর বিনম্র শ্রদ্ধা ও প্রণাঞ্জলি”।
প্রসঙ্গত, কর্মজীবনের শুরুতে ১৯৩২ থেকে ১৯৪২ সাল পর্যন্ত খুলনার দৌলতপুর কলেজের ইতিহাস ও বাংলার অধ্যাপক ছিলেন প্রবোধ চন্দ্র সেন।
পরে রবীন্দ্রনাথের ছেলে রথীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আমন্ত্রণে বিশ্বভারতীতে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন।
বিদ্যাভবনের রবীন্দ্র-অধ্যাপক ও রবীন্দ্রভবনের অধ্যক্ষ ছিলেন ১৯৪১ থেকে ১৯৫১ সাল পর্যন্ত।
এরপর বাংলা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক (১৯৫১-১৯৬২) এবং পুনর্গঠিত রবীন্দ্রভবনের রবীন্দ্র-অধ্যাপক ও অধ্যক্ষ (১৯৬২-১৯৬৫) ছিলেন।
অবসর নেওয়ার পর বিশ্বভারতীর ইমেরিটাস অধ্যাপক ছিলেন ১৯৬৫ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত।
তিনি ছিলেন বাংলা ছন্দের নিপুণ বিশ্লেষক। প্রবোধচন্দ্র সেন ছন্দের ইতিহাস রচনা, রবীন্দ্রনাথ এবং অন্য প্রধান কবিদের ছন্দ বিশ্লেষণ, অন্য ছান্দসিকদের ছন্দ আলোচনার বিচার, বাংলা ছন্দের ব্যাকরণ ও পরিভাষা ইত্যাদি তৈরিতে অসাধারণ পাণ্ডিত্যের পরিচয় দিয়েছেন।
প্রবোধচন্দ্র কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ বঙ্কিম স্মৃতি পুরস্কার, ‘দেশিকোত্তম’ উপাধি, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট, উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডি.লিট ও এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে মরণোত্তর রবীন্দ্রশতবার্ষিকী স্মারক পদক পেয়েছেন।
১৯৮৬ সালের ২০ সেপ্টেম্বর তথা আজকের দিনেই শান্তিনিকেতনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
