ঢাকা: বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কারাবরণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে তিনি ফিরবেনই।

তিনি তাঁর সংকল্পে অটল থাকবেন বলে আবারো জানিয়ে দিয়েছেন এক টেলিফোনিক বার্তালাপে ভারতীয় গণমাধ্যমকে।

তিনি বাংলাদেশে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের আদেশকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালনের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।

তিনি কী ভাবে বাড়ি ফিরবেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা এখনও ঠিক করা হয়নি বলেই জানিয়েছেন।

হাসিনার কথায়, “আমি ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে আমার মাতৃভূমিতে ফেরার দৃঢ় অঙ্গীকার করেছি। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমার দেশে ফেরার অধিকার আমার রয়েছে এবং বাংলাদেশের কোনও আইনই আমাকে ন্যায়সঙ্গতভাবে তা করতে বাধা দিতে পারে না।”

তিনি আরও জানান, তিনি চান তাঁর প্রত্যাবর্তন শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইনের কাঠামোর মধ্যেই হোক।

তিনি বলেন, “আজ আমি খোলাখুলি ও দ্ব্যর্থহীনভাবে ঘোষণা করছি, আমি আমার মাতৃভূমি ও জনগণের কাছে ফিরতে চাই। প্রশ্নটা আমি ফিরব কি না তা নিয়ে নয়, বরং এমন ভাবে ফেরা যায় কি না, যাতে আমাদের দেশ ও তার নাগরিকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকে।”

তিনি “চলমান আলোচনা ও নানামুখী জল্পনা-কল্পনার” কথা উল্লেখ করলেও, দেশে ফেরার পরিকল্পনা নিয়ে বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের সঙ্গে কোনো আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে বিস্তারিত কিছু জানাননি।

“আমার রাজনৈতিক সংগ্রাম চালিয়ে যেতে এবং বাংলাদেশের জনগণের সেবা করার জন্য যদি কারাবাসসহ যেকোনো আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতে হয়, তবে আমি তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত,” হাসিনা বলেন।

তিনি বলেন, তাঁর চলে যাওয়ার পর গঠিত সরকার ছিল “অসাংবিধানিক” এবং তারা “প্রতিহিংসাপরায়ণ মনোভাব” নিয়ে কাজ করেছিল; এছাড়া বিচার ও রায় ছিল “প্রহসনমূলক”, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন।

হাসিনা বলেন, তিনি আশা করেছিলেন যে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা তাঁর ক্ষেত্রে আইন নিরপেক্ষভাবে প্রয়োগ করবে।

“আমার সারা জীবন আমি আইন ও ন্যায়বিচারের নীতিগুলো অবিচলভাবে সমুন্নত রেখেছি,” তিনি তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের হত্যার দায়ে অভিযুক্তদের বিচারের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এ কথা বলেন।

“আমার নিজের ক্ষেত্রেও আইনের অনুরূপ সুষ্ঠু প্রয়োগ আমি প্রত্যাশা করি,” তিনি বলেন।

যেকোনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিজের অধিকারের বিষয়ে “পূর্ণ আইনি সুরক্ষা” দাবি করেন শেখ হাসিনা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *