গাজীপুর: ১৯ বছরের মরিয়ম হত্যার আদৌ কোনো বিচার হবে কিনা তা আমাদের জানা নেই। কারণ দেশে যখন পলিটিক্যাল মার্ডার হয়, তার কোনো বিচার হয় না। একদম সোজা বাস্তব কথা। আর মরিয়ম শেষ অবধি ঐ পলিটিক্যাল মার্ডারের শিকার।

পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপ হওয়ার কারণে একটা চাকুরী চেয়েছিলেন। সে-ই মারিয়াম জামাতির জিঘাংসার শিকার হয়ে নিথর দেহ নিয়ে ফিরে এসেছেন।

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার আগে জামায়াতের সৎ লোকের শাসন চাই রাজনীতির সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপনই ছিলেন এ-ই গাজী নজরুল ইসলাম।

জামায়াতের বর্তমান হাইকমান্ডের সাদা শকুন শফিকুর রহমান, এটি এম আজহারুল ইসলাম সহকারে শীর্ষ নেতারা বারবার নির্বাচনে পরাজিত হয়েছেন তখন এ-ই গাজী নজরুল একাধিকবার এমপি হয়েছেন।

জামায়াতের সৎ লোকের শাসন চাই এ-ই রাজনীতির সবচেয়ে বড়ো বিজ্ঞাপন গাজী নজরুলের জন্য আজ একটা অপ্রাপ্ত বয়সী মেয়ে লাশ হয়ে ফিরেছেন।

জামাত শিবিরকে, এবং তাদের পরিবারের একটা লোককেও যে বিশ্বাস করবে সেই ঠকবে।

মরিয়মের ঘটনাটি নিয়ে এবার মুখ খুললেন তসলিমা নাসরিন।

তিনি ফেসবুকে লিখেছেন:

“মরিয়মের মৃত্যুকে স্রেফ ‘আত্মহত্যা’ বলে মেনে নিই না। নির্যাতিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত, লাঞ্ছিত মেয়েদের মৃত্যুকে শুধু আত্মহত্যা বলে দায় সারলে নির্যাতকেরই সুবিধা হয়। মেয়েটি মরে যায়, মৃত্যুর দায়ও পড়ে মেয়েটির ঘাড়ে।

মরিয়মের বাবার দায়ের করা মামলায় গাজী নজরুলের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এই অভিযোগের জবাব চাই, তদন্ত চাই, বিচার চাই। ধর্মের বুলি আর স্বামীর পরিচয় কাউকে নির্যাতনের ছাড়পত্র দেয় না।

একটি মেয়েকে ইচ্ছেমতো ব্যবহার করবে, তার অসহায়ত্বের সুযোগ নেবে, তার আত্মসম্মান গুঁড়িয়ে দেবে, প্রতিবাদ করলে অপমান করবে—তারপর তার মৃত্যুকে বলবে ‘ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত’!

নির্যাতন চলার সময় মেয়েটির কোনও স্বাধীনতা থাকবে না, অথচ মৃত্যুর পর সিদ্ধান্তটি হয়ে যাবে সম্পূর্ণ তার নিজের! দায় ঝেড়ে ফেলার কী চমৎকার ব্যবস্থা!

মরিয়মদের মৃত্যুর দায় এই নোংরা পুরুষতন্ত্রের, এই নারীবিদ্বেষী সমাজেরও—যে সমাজ মেয়েদের নির্যাতন সহ্য করতে শেখায়, নির্যাতকদের থামাতে শেখায় না।
কোনও হত্যা প্রত্যক্ষ, কোনও হত্যা পরোক্ষ। ‘আত্মহত্যা’ শব্দটি দিয়ে নির্যাতকের হাত ধুয়ে দেওয়ার অধিকার কারও নেই”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *