ঢাকা: বাংলাদেশে মানবাধিকার বলতে তো এখন আর কোনো বস্তুই নেই। তার উপর মানবাধিকার সুরক্ষার ব্যবস্থাকে দুর্বল করে সেপ্টেম্বরে সংসদে তিনটি আইন অনুমোদন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।
সংস্থাটির দাবি, এইসব আইন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেওয়া কিছু সুরক্ষা ব্যবস্থা বাতিল করেছে এবং মানবাধিকার সংস্কারের বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দেওয়া প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
তবে জঙ্গী ইউনূস দেশের জন্য কোন ভালোটা করেছেন তা আমাদের জানা নেই। বরং শেখ হাসিনা যা গড়ে দিয়েছেন, তার ৯০ শতাংশ ভেঙেছেন ইউনূস। এবং বাকি যা আছে এই কাজটা চালাচ্ছে বিএনপি।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উক্ত কথা জানিয়েছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ।
সংস্থাটির মতে, নতুন আইনগুলো কার্যকর হওয়ার ফলে অতীতে সংঘটিত জোরপূর্বক গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি ঠেকানোর প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা কমেছে।
হিউম্যান রাইটস হয়তো বর্তমানের খুন খারাবি, মানবাধিকার লঙ্ঘনের কাজগুলো চোখেই দেখে না।
এইচআরডব্লিউ জানায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে (এনএইচআরসি) শক্তিশালী করতে দুটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। এসব ব্যবস্থায় গুম প্রতিরোধ, অভিযোগ তদন্ত এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছিল।
তবে চলতি বছরের শুরুতে নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার এসব সংস্কারকে আইনে পরিণত না করে নতুন আইন প্রণয়ন করেছে।
এইচআরডব্লিউর দাবি, নতুন আইনে এনএইচআরসির স্বাধীনতা ও তদন্ত ক্ষমতা সীমিত করা হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর সংসদে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত আইন এবং ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন’ পাস করা হয়।
নতুন ব্যবস্থায় নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তের ক্ষেত্রে এনএইচআরসির সরাসরি ক্ষমতা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। গুমের অভিযোগ তদন্তের দায়িত্বও অভিযুক্ত সংস্থা ছাড়া অন্য কোনো নিরাপত্তা সংস্থাকে দেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধ্যাদেশে আটককেন্দ্র পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের যে ক্ষমতা এনএইচআরসিকে দেওয়া হয়েছিল, নতুন আইনে তা বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছে এইচআরডব্লিউ। একই সঙ্গে জোরপূর্বক গুমের ঘটনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার দায় নির্ধারণের আইনগত মানদণ্ডও পরিবর্তন করা হয়েছে।
আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম স্ট্যাটিউটভিত্তিক মানদণ্ডে কোনো কর্মকর্তা কোনো লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতেন বা জানা উচিত ছিল এবং তা প্রতিরোধ করতে পারতেন—এমন পরিস্থিতিতেও দায় নির্ধারণের সুযোগ ছিল। নতুন আইনে সরাসরি নির্দেশ দেওয়ার প্রমাণ প্রয়োজন হবে।
