ঢাকা: বাংলাদেশে সন্ত্রাসী ও চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলোকে কীভাবে দমন করতে হয়, সেটা খুব ভালোভাবে জানতেন শেখ হাসিনা। এবং দেশটাকে সেভাবেই রেখেছিলেন, যেমন মা সন্তানকে গর্ভের ভেতর নিরাপত্তা দিয়ে রাখে।

২০২৪, ৫ আগস্টের পর দেশের পরিস্থিতি একদম বিগড়ে গেছে।

শেখ হাসিনা জানিয়ে দিয়েছেন দেশের স্বার্থে দেশে ফিরবেন।

এবং চরমপন্থীদের হুমকি গুরুতর, তা কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশ আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সংগঠনগুলোর নিরাপদ আশ্রয়স্থলে পরিণত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের সময়ে দেশকে চরমপন্থীদের ঘাঁটিতে পরিণত হওয়া থেকে ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল।

তিনি বলেন, নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা, কার্যকর গোয়েন্দা তৎপরতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা এবং উগ্রবাদ প্রতিরোধে সামাজিক সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

শেখ হাসিনার ভাষ্য, উগ্রবাদী নেটওয়ার্ক ও মতাদর্শ কোনো একটি দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাই বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন না করে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলা করা উচিত।

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী আবারো একবার বলেন, ‘‘২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফিরতে আমি বদ্ধপরিকর। আমি মনে করি, দেশে ফেরার অধিকার আমার রয়েছে। সেখানকার কোনও আইন আমায় বাধা দিতে পারে না।’’

তার পরেই হাসিনা বলেন, ‘‘আজ ঘোষণা করছি, আমি নিজের দেশে, দেশের মানুষের কাছে ফিরতে চাই। আমি ফিরব কি না, তা নিয়ে আর প্রশ্নই নেই। কী ভাবে ফিরলে দেশের মানুষের স্বার্থরক্ষা হবে, সেটাই প্রশ্ন।’’

প্রসঙ্গত, ২০২৫ সালের নভেম্বরে হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেয় বাংলাদেশের ক্যাঙ্গারু ট্রাইবুনাল।

সেই প্রসঙ্গ তুলে হাসিনা বলেন, ‘‘যে কোনও আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে আমি প্রস্তুত। এমনকি, জেলে যেতেও প্রস্তুত। যদি বাংলাদেশের মানুষের সেবা করার জন্য সেই দাম দিতে হয়, আমি তাতেও রাজি।’’

তবে তিনি দাবি করেছেন, ‘রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ’ করতে তাঁর মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি দেশ ছাড়ার পরে যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে, তা ‘অসাংবিধানিক’। আর সে কারণেই বিচারের নামে ‘প্রহসন’ হয়েছিল। তাঁর আশা, বাংলাদেশের বিচারব্যবস্থা স্বচ্ছ ভাবেই তাঁর মামলা শুনবে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *