মিরপুর: মিরপুরে মধ্যরাতে এ কী পৈশাচিক তাণ্ডব! শিশুদের টিকাদান কেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও দখল করা হলো!

রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অসহায় মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারি টিকাদান কেন্দ্র ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’-এ মধ্যরাতে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালিয়েছে একদল দুর্বৃত্ত।

ক্লিনিকের ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার চিকিৎসা সরঞ্জাম ও মালামাল লুটপাট করা হয়েছে।

এই কাণ্ড কি শুধু তোর ডাকাত ছ্যাচড়ারা করেছে? করতে পারে? এই সন্ত্রাসীদের ধরতে পারবে পুলিশ?

টিকা বিরোধীতার কথা মনে আছে? এত এত ওয়াজ মাহফিলের নামে জঙ্গিগুলো কীভাবে বিষোদ্গার করলো? জঙ্গিগুলোর বিচার হয়েছে? এই কাণ্ডটা সেই জঙ্গীরাই ঘটায়নি তা বলা যাবে?

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, হামলাকারীরা একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলেছে। লুটপাট ও ভাঙচুরে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

শুক্রবার সকালে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার এই তথ্য জানিয়েছেন।

এটা আজকে কালকের নয়। দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে সেবা দিচ্ছে।

ডা. নাসরিন আখতার বলেন, সরকারের সঙ্গে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও শিশুদের বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, প্রসূতি ও পরিবার পরিকল্পনা সেবা দিয়ে আসছে।

এলাকার হাজারো নারী ও শিশুর জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ছিল।

প্রতিষ্ঠানটির দাবি, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে আড়াইশো জনের বেশি মুখোশ পরা ব্যক্তি ‘সম্মাননা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’-এর ব্যানারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এসে ক্লিনিকে হামলা চালায়।

সেখানে দায়িত্বে থাকা দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে ঢুকে ভাঙচুর করে।

তারপর ক্লিনিকটি দখলে নিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেয়া হয় না।

সেখানে থাকা প্রচুর জিনিস লুটপাট করে নিয়ে গেছে হামলাকারীরা।

প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, হামলাকারীরা সরকারি সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) টিকা, টিকাদানের সরকারি রেজিস্টার ও নথি, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ও উপকরণ, ওষুধ ও ভ্যাকসিন, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, প্রায় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, একটি জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি স্টিলের আলমারি, পাঁচটি স্টিলের ফাইল কেবিনেট, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি ও রিএজেন্ট, দুটি টিভি, দুটি কম্পিউটার, দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র নিয়ে যায়।

এবং ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে উক্ত হামলায় জড়িত সবাইকে দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে ।

এবং রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের ক্ষতি পূরণ করে শীঘ্রই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চালুর দাবি জানানো হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *