নারায়ণগঞ্জ: বৃহস্পতিবার রাতে প্রায় ২০০-২৫০ জন দুর্বৃত্ত এসে মিরপুর-১ এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দিয়েছে। প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিশুরা।
প্রায় ৫০ বছর ধরে এই সেন্টারে প্রসূতি মা ও শিশুদের টিকা দেওয়া হয়। হামলাকারীরা ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিঃ’ এর ব্যানারে এসে ক্লিনিকের যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, ফ্রিজ, এসি, নগদ টাকা সব লুট করে নিয়ে গেছে।
শুধু তাই না, নগদ টাকা, সরকারি নথি অনেক কিছু লুটপাট করে নিয়ে গেছে।
শোনা যাচ্ছে, ভাঙচুরকারীদের পেছনে সংরক্ষিত নারী আসনের একজন এমপি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির একজন নেতা রয়েছেন। অথচ সারারাত ধরে হাসপাতাল ভাঙচুর চললেও পুলিশ এসে থামায়নি! আর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেন “মবের দিন শেষ!”
এগুলো কী এত সহজ কথা?
আজ মায়েদের, শিশুদের অনেক কষ্ট হয়েছে কাঠফাটা গরমে।
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার এক দিন পর সড়কের পাশে ত্রিপল টানিয়ে শিশুদের টিকা দেওয়া হচ্ছে।
আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সেন্টারের মূল ফটকের বাইরে কোনোরকমে টেবিল-চেয়ার পেতে হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়।
টিকা নিতে আসা শিশু ও তাদের মায়েদের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকর্মীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হয়। যেহেতু কোনো ঘর নেই তাদের।
কেউ চেয়ারে বসে অপেক্ষা করছেন, কেউ দাঁড়িয়ে আছেন। গরমে শিশুদের অস্বস্তিতে পড়তে দেখা যায়। মায়েরাও কোলে নিয়ে খুব কষ্ট পাচ্ছেন।
রাজধানীর বুকে একটা আধা-সরকারি হাসপাতাল সারারাত ধরে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো! শোনা যাচ্ছে স্থানীয় থানা পুলিশ স্বেচ্ছায় নীরব ছিল।
তাহলে প্রশ্ন উঠাই স্বাভাবিক – দেশে কি আসলেই সরকার আছে?
প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় শাহ আলী থানায় মামলা করা হয়েছে। কিন্তু এখনো মামলার এজাহারের কপি তাঁদের হাতে পৌঁছায়নি বলে জানিয়েছেন নাসরিন আখতার।
রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে অতর্কিত হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
প্রায় ৫০ বছর ধরে এলাকার দরিদ্র ও অসহায় মানুষ এবং শিশুদের বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছে এই প্রতিষ্ঠান।
কর্তব্যরত দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা।
হামলাকারীরা ক্লিনিকটির সরকারি ইপিআই টিকা, টিকা প্রদানের সরকারি রেজিস্টার, পরিবার পরিকল্পনার বিভিন্ন উপকরণ, মূল্যবান ওষুধ, নগদ প্রায় ১১ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, জেনারেটর, ফ্রিজ, এসি, সিসিটিভি ক্যামেরা, ল্যাবরেটরির যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার ও অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যায়।
পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে ক্লিনিকটির একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবন সম্পূর্ণ ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় এবং সেখানে একটি সমিতির সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
১০ কাঠা জমি দখলের উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠানটি, যার ফলে সবমিলিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
