ঢাকা: রাজধানীর ইসিবি চত্বরে অবস্থিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর তথা ঝুলাই যোদ্ধা সালমান মোহাম্মদ মুক্তাদিরের স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। সব দামি দামি জিনিসপত্র ভেঙেচুরে ফেলা হয়েছে।
স্টুডিওতে এবার হামলা চালিয়ে একেবারে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিয়েছে সন্ত্রাসীরা
সালমান মুক্তাদিরের দাবি, চাঁদা না দেওয়ার কারণেই তার স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে। শুধু ভাঙচুর নয়, স্টুডিওর ভেতরের সবকিছু তছনছ করে দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর ক্ষোভ আর হতাশা নিয়ে লাইভে আসেন সালমান মুক্তাদির। আর সেখান থেকেই তিনি সরাসরি কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমেদের উদ্দেশে।
সালমান মুক্তাদির বলেন,
“এই ভিডিওটা স্পেশালি আমাদের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দীন আহমেদকে উদ্দেশ্য করে বানানো। প্লিজ সালাউদ্দীন সাহেব, আপনি কোনো টেনশন করবেন না।
‘এটা বাংলাদেশে নরমাল বিষয়’—একজন নাগরিককে যদি এমন কথা বলতে হয়, তাহলে আমাদের বুঝতে হবে পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে!
তবে এই বিষয়টা নিয়ে অনেক সন্দেহ প্রকাশ করে জনগণ। এতদিন কোনো চাঁদাবাজি নেই তাঁর কাছে, হঠাৎ করে এই জুলাই যোদ্ধা চাঁদাবাজির প্রসঙ্গ তুলছেন!?
জামাত শিবির, শাবক এনসিপিকে খুশি করার জন্য নাকি?
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতে স্টুডিওতে ভাঙচুরের ঘটনাটি ঘটে। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লাইভে এসে স্টুডিওর ভেতরের পরিস্থিতি দেখান সালমান মুক্তাদির। তাঁর অভিযোগ, চাঁদা না দেওয়ায় স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে।
লাইভ ভিডিওর শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। আপনি প্লিজ কোনো টেনশন নেবেন না! বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামুদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত। তিলে তিলে গড়া স্বপ্নগুলোকে এভাবেই ধ্বংস করে দেওয়া হয় এ দেশে।’
ভিডিওতে সালমান বলেন, এই ঘটনার পরও তিনি আরও ভালো কিছু করে দেখাবেন। কেউ তাকে থামাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরেকটি ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশ করে সালমানকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’
স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ জন হঠাৎ স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন।
তাঁর দাবি, হামলাকারীদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল। পরিস্থিতি আশঙ্কাজনক দেখে স্টুডিওর কর্মকর্তারা টয়লেটে লুকোন । সেখানেও গিয়ে অস্ত্র ও চাপাতি দেখিয়ে তাঁদের মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ছিনতাই করা হয়।
