মিরপুর: প্রায় দুই-তিন ঘণ্টা সময় নিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো। অথচ কেউ একটা আওয়াজ পেলো না?
প্রশ্ন তো থেকেই যায়—আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নাকের ডগায়, একটি থানার এতটা কাছে, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুর ও গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা কীভাবে নির্বিঘ্নে ঘটতে পারে?
প্রায় ৫০ বছরের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভেঙে ফেলা হলো!
মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের মতো একটি জনসেবামূলক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এটি শুধু একটি ভবন বা কিছু সরঞ্জামের ক্ষতি নয়—এটি সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার ও নিরাপত্তার ওপর আঘাত।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার পর শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) উপ-কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) মো. শাহরিয়ার আলীর সই করা আদেশে তাঁকে প্রত্যাহার করা হয়।
এই আদেশ শনিবার জারি করা হলেও আজ রবিবার বিষয়টি সামনে আসে।
কারণ হিসেবে ‘প্রশাসনিক কারণ’ দেখানো হয়েছে। জাহাঙ্গীর আলমকে ঢাকা মহানগর পুলিশের সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগের কেন্দ্রীয় সংরক্ষণ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলার ঘটনার দুই দিন পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।
তবে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নামটাও কিন্তু বারবার উঠে আসছে। সঠিক তদন্ত হচ্ছে না কেন এটাই প্রশ্ন।
ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে এখানে আসেন গর্ভবতী মা, নবজাতক, শিশু আর শিশুর মায়েরা টিকা, শিশু স্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য আর মায়েদের স্বাস্থ্য চেকআপ আর চিকিৎসার জন্য। করা হতো গর্ভকালীন আলট্রাসনোগ্রামও।
এসে তাঁরা দেখলেন বিএনপির সংরক্ষিত আসনের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি আর উত্তর বিএনপির কিছু প্রভাবশালী নেতা মিলে ৫০ বছরের পুরানো স্বাস্থ্যকেন্দ্রটা ভাঙ্গচুর আর লুটপাট করে গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
ওদের বিরুদ্ধে এলাকায় আরো কিছু জমি দখলের অভিযোগ আছে।
ফলে গর্ভবতী মা আর শিশুদের বসতে হল রোদের মধ্যে তীব্র গরমে।
লোক দেখানোর জন্য পুলিশ কয়েকজনকে ধরেছে। বিএনপি এমপি ফেরদৌসী আহমেদ আর বিএনপি নেতাদের এরেস্ট করানোর ক্ষমতা নেই কেন? এই প্রশ্ন আমাদের না, জনগণের।
