ব্রাহ্মণবাড়িয়া: আই হেভ এ প্ল্যান- অশিক্ষিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্ররোচনায় তাঁর সোনার ছেলেরা দেশজুড়ে তাণ্ডব করছে। আর তিনি এদিকে ওদিক সফরে আর উড়োজাহাজ কিনতে ব্যস্ত।
শিক্ষিকাকে পিস্তল ঠেকিয়ে অপহরণ করছিলো এক ছাত্রদল নেতা। কোনোরকমে ঐ শিক্ষিকা বেঁচেছেন। ভাবুন একবার দেশটার অবস্থা!
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দিনদুপুরে আকছিনা-কুল্লাবাড়ি মডার্ন স্কুলের শিক্ষিকাকে পিস্তল ঠেকিয়ে প্রাণের হুমকি দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তুলে অপহরণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।
প্রাণ বাঁচাতে চলন্ত সিএনজি থেকে লাফিয়ে পড়ে প্রাণে রক্ষা পান ওই শিক্ষিকা।
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহর (৩৫) বিরুদ্ধে কসবা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষিকা।
এই ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা গ্রামে। অভিযুক্ত দেলোয়ার ও ভুক্তভোগী শিক্ষিকা একই গ্রামের বাসিন্দা।
ছাত্রদল নেতার মুক্তি শুনলে আপনাদের মনে হবে, আমরা কোন জঙ্গলে বাস করছি?
থানায় দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে আকছিনা গ্রামের রাস্তায় ওই শিক্ষিকার পথরোধ করে দাঁড়ান ছাত্রদল নেতা দেলোয়ার হোসেন।
ব্যক্তিগত বিষয়ে কথা বলতে রাজি না হওয়ায় দেলোয়ার আচমকা কোমর থেকে একটি কালো রঙের পিস্তল বের করে গুলি করার ভয় দেখান এবং টানা হ্যাঁচড়া করে তাঁকে একটি সিএনজিতে তুলে নেন।
এ সময় সিএনজির ভেতরে ছিলো দেলোয়ারের এক সহযোগী। সে ওই শিক্ষিকার মুখ চেপে ধরে এবং গলায় ধারালো ছুরি ঠেকিয়ে কোনোরকম চিৎকার করলে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
সিএনজিটি দ্রুতগতিতে চলা শুরু করে । কুল্লাবাড়ি জোড়া ব্রিজের কাছে পৌঁছালে জীবন বাঁচাতে তিনি চলন্ত সিএনজি থেকেই নিচে লাফিয়ে পড়েন।
এ সময় তাঁর চিৎকারে আশপাশের স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং দুর্বৃত্তরা সিএনজি নিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
ছাত্রদল নেতার অদ্ভুত দাবি:-
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত কসবা পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জিন্নাহ মুঠোফোনে দাবি করেন, “ওই শিক্ষিকার সঙ্গে আমার এক মাসের মতো পরিচয় ও সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্র ধরে কথা কাটাকাটি হলে তাঁর রাগ ভাঙাতে আমি সিএনজি দিয়ে তাঁকে নিয়ে একটু ঘুরেছি। অপহরণের অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয়প্রতিপন্ন করতেই এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।”
অভিযুক্তের এই দাবি সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে ভুক্তভোগী শিক্ষিকা বলেন, “সম্পর্কের যে দাবি সে করছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও চরিত্রহননের অপচেষ্টা। সে আমাকে অস্ত্র ও পিস্তল ঠেকিয়ে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে হত্যার হুমকি দিয়েছে। চলন্ত গাড়ি থেকে লাফ না দিলে হয়তো আমাকে জীবিত পাওয়া যেত না। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি প্রশাসনের কাছে এই সন্ত্রাসীর দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই।”
এখন অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে সঠিক আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে কিনা, সেটাই সন্দেহ।
