আবহাওয়া যদি ভ্যাপসা গরম হয় আর আকাশে মেঘ জমে তাহলে যেমন আমরা পূর্বাভাস পাই ঝড়-বৃষ্টি বা প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঠিক তেমনি বাংলাদেশ নামক বাংলাস্তানে মন্দিরে হামলা, দুর্গা প্রতিমা ভাঙচুরের সংবাদ পেলে বুঝতে পারি যে হিন্দুদের দুর্গাপুজা আসছে। এটিই পূর্বাভাস দুর্গাপুজার। কি সুন্দর পূর্বাভাস বলুনতো!

বিশ্বের আর কোথাও কি এমন ধর্মীয় উৎসবের পূর্বাভাস খুঁজে পাবেন আপনারা ? পাবেন না। কিন্তু এই বাংলাস্তানে পাবেন। এজন্য কোন দিনপঞ্জি লাগবেনা। লাগবেনা কোন বিশুদ্ধ পঞ্জিকা। কত সুন্দর একটি পূর্বাভাস তৈরী করে দিয়েছেন এ অঞ্চলের শান্তির ধর্মের অনুসারিরা। ভাবুনতো একটিবার ! কোন কষ্ট করতে হয়না এ বাংলাস্তানের হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের। এর চেয়ে আর ভালো পূর্বাভাস কি হতে পারে!?
এই পূর্বাভাস অতি সম্প্রতি হয়েছে তা কিন্তু নয়। এটিরও একটি ঐতিহ্য (!!) রয়েছে। ইষ্ট পাকিস্তানের হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে বাঙ্গালীরা বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়েছিল।
১৯৪৭ সালে সৃষ্টি হওয়া ধর্মভিত্তিক পাকিস্তান রাষ্ট্রের পরিবর্তে একটি ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক, জাতীয়তাবাদী উদার ও অসাম্প্রদায়িক মুক্তমনা সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনের জন্য আশায় ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নামক একটি রাষ্ট্রের সৃষ্টি করলো।
আর সেই মুক্তিযুদ্ধে শহীদ , নির্যাতিত ও দেশান্তরী হওয়া হিন্দুদের সংখ্যাইতো সবচেয়ে বেশি। ইতিহাস তাই বলে।
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো- এই স্বাধীন বাংলাদেশে সেই বেশি আত্মত্যাগের শিকার যারা হলেন মানে হিন্দুরা সেই নির্যাতিতই রয়ে গেলেন। বঞ্চিত হতে থাকলেন দিনের পর দিন। মাসের পর মাস। বছরের পর বছর।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর হয়ে গেলেও এদেশের হিন্দুদের ভাগ্যে কোন সুখবর আসেনি। পাকিস্তানী শাসনামলে বিজাতীয় পাকিস্তানীরা শোষণ-নির্যাতন করতো ‘শালা মালাউন’ বলে।
আর স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে স্বজাতি বাংলাদেশীরাই এখন আরো বেশি নানা গালি দিয়ে সোৎসাহে খুন-অত্যাচার-নির্যাতন-ঘরবাড়িতে হামলা-ব্যবসা প্রতিষ্ঠান লুটপাট, হিন্দু নারীদের ধর্ষণ, দেশছাড়া করে যাচ্ছে অবলীলায়।
কেউ কেউ হয়তো প্রশ্ন তুলতে পারেন, একজন মুসলমান হয়ে আমি কেন এ ধরনের কথাবার্তা বলছি বা প্রশ্ন তুলছি। আসলে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেছিলাম। হিন্দু-মুসলমানের রক্ত যে লাল সেটাই দেখেছিলাম। ওই যে কবি কাজী নজরুল ইসলাম ১৯৩২ সালে লিখেছিলেন –
“মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু-মুসলমান।
মুসলিম তার নয়ন-মণি, হিন্দু তাহার প্রাণ॥
এক সে আকাশ মায়ের কোলে
যেন রবি শশী দোলে,
এক রক্ত বুকের তলে, এক সে নাড়ির টান॥
এক সে দেশের খাই গো হাওয়া, এক সে দেশের জল,
এক সে মায়ের বক্ষে ফলে একই ফুল ও ফল।
এক সে দেশের মাটিতে পাই
কেউ গোরে কেউ শ্মশানে ঠাঁই
এক ভাষাতে মা’কে ডাকি, এক সুরে গাই গান॥”
হে মানবতার কবি, অসাম্প্রদায়িকতার কবি নজরুল আপনার কাছে ক্ষমা চেয়ে বলেছি- অঅপনি যা চিন্তা করতেন ও ভাবতেন, যে মানবতার জয়গান গেয়েছিলেন তার সবটাই অসার। সাম্যের কবি নজরুল আজ ২০২৬ সাল, আর আপনি এই গানটি লিখেছিলে ১৯৩২ সালে।
আর মাত্র ৬টি বছর পার হলেই আপনার সেই অমর সৃষ্টির শতবর্ষ পূর্ণ হবে। কিন্তু আপনার যে মানবতার চিন্তা ছিল, যে অসাম্প্রদায়িকতার, যে ভ্রাতৃত্ববোধের একটি সমাজ-রাষ্ট্র আপনি কল্পনা করতেন স্বপ্ন দেখতেন তা আর হওয়ার নয় এই বাংলাদেশে। মানে এই বাংলাস্তানে।
হে নজরুল আপনি আপনার গানে বলেছিলেন-
‘এক সে দেশের মাটিতে পাই
কেউ গোরে কেউ শ্মশানে ঠাঁই।’
কিন্তু আপনি কি জানেন হে কবি আপনার সেই স্বপ্নের সমাজে, স্বপ্নের বাংলাদেশে হিন্দুদের শ্মশানও দখল করে ফেলছে ‘শান্তির ধর্মের’ অনুসারিরা।
তারা চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে চন্দ্রনাথ পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত মন্দিরের সামনে গিয়ে গলা ফাটিয়ে আজান দেয়। শ্লোগান তোলে নারায়ে তকরীর-আল্লাহু আকবর ! সেখানে তারা মসজিদ বানানোর সব পরিকল্পনা করছে।

শুধু কি তাই? মুক্তিযোদ্ধার কবর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। সেই মুক্তিযোদ্ধা কিন্তু হিন্দু নন। তিনি জন্মসূত্রে মুসলিম কিন্তু যতদূর জানি তিনি মনেপ্রাণে একজন অসাম্প্রদায়িক নাগরিক ছিলেন। তিনি আওয়ামীলীগও করতেন না। তিনি আওয়ামীবিরোধী রাজনীতি করতেন।
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) এর রাজনীতি করতেন। বাগ্মী নেতা ছিলেন।
সংসদে দাঁড়িয়ে তিনি উচ্চকন্ঠে মানুষের অধিকারের কথা বলতেন। তাঁর নাম মইনুদ্দিন খান বাদল।

সবসময় অসাম্প্রদায়িক-গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের কথা বলতেন। এটিই ছিল তাঁর দোষ। যার ফলে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে তার কবরে আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তানী ভাবাদর্শের জারজ-কুলাঙ্গাররা। যারা ছিল ২০২৪ এর মার্কিন সাম্রাজ্যবাদী ডিপষ্টেট ও চট্টগ্রামের আরেক বিশ্বকুলাঙ্গার-চরম সুদখোর কথিত শান্তির নোবেল জয়ী ড. ইউনুসের মেটিকুলাস ডিজাইনের পোষ্যপুত্ররা।
হে কবি নজরুল আপনি কি জানেন ঢাকায় আপনার কবরের পাশে কার কবর দিয়েছে ইউনুস-জামাতি আর বাংলাস্তানের সেনাবাহিনী? যে ছিল চরম সাম্প্রদায়িক, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ- মবসন্ত্রাসের ছিচকে মাস্তানদের কুখ্যাত সর্দার হাদী।
সেই হাদীকে আপনার কবরের পাশে শুইয়ে আপনার কবরে ফুল দেয়না চব্বিশ পরবর্তী শাষকগোষ্ঠীরা। তারা জেয়ারত করে সেই মবসন্ত্রাসী হাদী’র কবরে। ফুল দেয় সেই কবরে। তো আপনি কি এই বাংলা চেয়েছিলেন কবি !?

বলার চেষ্টা করেছিলাম দুর্গাপুজার পূর্বাভাস নিয়ে। কিন্তু তা প্রসঙ্গক্রমে চলে গেলো অন্যদিকে। আরো কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ না করলেই নয়। কারণ সব ঘটনার বিবরণ দিতে গেলে আপনাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটবে।
১। এরই মধ্যে সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম বাজার নবীনগর সার্বজনীন পূজামণ্ডপে গত ২০ সেপ্টেম্বর প্রতিমা ভাঙচুর করে এক আল্লার আইন চায় এমন এক যুবক সাইদুজ্জামান শিমুল(২৯)।

ওই দিন রাতে এক যুবক বটি দিয়ে কুপিয়ে নির্মাণাধীন দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী ও কার্তিকের প্রতিমা ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা সাইদুজ্জামানকে আটকে পুলিশে সোপর্দ করে। মন্দির কমিটির মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। তবে এই সাইদুজ্জামানকে মানসিক ভারসাম্যহীন বা পাগল বলে আখ্যায়িত করার অপচেষ্টা চালিয়েছে পুলিশ ও ‘শান্তির ধর্মের’ স্থানীয় অনুসারিরা।
২। রাজবাড়ী সদর উপজেলার বানিবহ ইউনিয়নের বানিবহ বাজার সর্বজনীন দুর্গা মন্দিরে (বড়বাজার দুর্গামণ্ডপ) এই ঘটনা ঘটে। মন্দির কর্তৃপক্ষের ধারণা অনুযায়ী, সোমবার রাতের কোনো এক সময়ে দুর্বৃত্তরা নির্মাণাধীন দেবী দুর্গা ও সরস্বতীর প্রতিমার মুখমণ্ডলে লাঠি দিয়ে আঘাত করে ভাঙচুর চালায়। পরবর্তীতে ২২ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) সকালে বিষয়টি সবার নজরে আসে।
এছাড়াও, এর আগে গত বছরের অর্থাৎ ২০২৪ এর ৯ অক্টোবর রাজবাড়ী শহরের বড়পুল এলাকার একটি পূজামণ্ডপে প্রতিমা ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল, যে ঘটনায় পরবর্তীতে পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছিল। তবে তাকে পুলিশ অদৃশ্য ইশারায় বুদ্ধি প্রতিবন্ধী যুবক হিসেবে আখ্যায়িত করে।
৩। এছাড়া এ বছর পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ, কুষ্টিয়ার আরুয়াপাড়া, এবং পাবনার সুজানগরে দুর্গাপূজার প্রতিমা ভাঙচুরের খবর গণমাধ্যমে এসেছে।
অতীতে বিভিন্ন সময়ে (যেমন ২০২১ সালে কুমিল্লায় নানুয়া দীঘির পাড়ের মণ্ডপে কুরআন শরীফ রাখার ঘটনায় ইকবাল হোসেনকে নিয়ে) এবং বর্তমানের কিছু ক্ষেত্রে অভিযুক্তদের “মানসিক রোগী” বা “নেশাগ্রস্ত” বলে প্রচার করার একটি প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।

আমাদের দেশের কথিত সু-শীল সমাজের কেউ কেউ মৃদুস্বরে বলার চেষ্টা করেন যে- “কেউ আটক হলেই তাকে পাগল বা না বুঝে ঘটনা ঘটিয়েছে বলে দায় এড়িয়ে যাওয়া ঠিক হবে না। এতে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপরাধীর পরিচয় গোপন না করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।”
প্রবাসী চিকিৎসক-লেখক প্রভাতী দাস বাংলাদেশের এ ধরনের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে লিখেছেন- “বিসমিল্লাহ” বলে “শ্রেষ্ঠ” ধর্মের অনুসারীরা শুরু করে দিয়েছে…। এখন বাকি সবাই বলবেন, “আলহামদুলিল্লাহ”।
আর কাকে পাগল, কাকে মানসিক রোগী বা বিকারগ্রস্ত বলবেন সেটাও রেডি করে রাখবেন। আর “অশ্রেষ্ঠ”ধর্মের অনুসারীদের জন্য, আসন্ন দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা, মূর্তি ভাংচুর শুরু হয়েছে বলেই জানলাম!
তার আরেকটি ক্ষুব্ধ উক্তিটি- “ডাক্তার আসিবার পূর্বে রুগী মরিয়া গেল” এর বাংলাদেশ ভার্সান “ছুটি হইবার আগেই পূজা শেষ হইয়া গেল”।

এবারে পূজা ১৬ থেকে ২০ শে অক্টোবর, আমাদের বিএনপি সরকার ছুটি দিয়েছেন ২০ থেকে ২৪শে অক্টোবর! এই ছুটি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের কী কী উপকার হইবে বলিয়া আপনি মনে করেন?
(তারেক রহমান নিঃসন্দেহে হিন্দু বান্ধব, বিএনপি একটি সেক্যুলার রাজনৈতিক দল।)
২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর এবং ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেস ব্রিফিংয়ের ডেটা অনুযায়ী, দেশে কয়েক হাজার সাম্প্রদায়িক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
২০২৬ সালের জুলাই মাসে সংগঠনটির প্রকাশিত অর্ধবার্ষিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম ছয় মাসেই ২৫৭টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে এবং ৪৪ জন সংখ্যালঘু প্রাণ হারিয়েছেন।
পরিসংখ্যানের বোঝা আর উদাহরন দিয়ে দিয়ে পাঠক আপনাদের ধৈর্য্যচ্যুতি ঘটাতে চাইনা। কিন্তু কিছু তথ্য উল্লেখ না করেতো পারছিনা। তবে এসব তথ্যে হিন্দুদের যে পরিসংখ্যান দেখানো হয়েছে প্রকৃত অর্থে এর চেয়ে আরো বেশি হিন্দু আছে বাংলাদেশে। কিন্তু ইচ্ছে করেই সরকারিভাবে কতা কমিয়ে দেখানো হয়েছে।
সরকারি আদমশুমারি ও মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সংগৃহীত তথ্যের মধ্যে এক বড় ধরনের অমিল ও বিতর্ক দীর্ঘকাল ধরে বিদ্যমান। ১৯৪১ সালের অবিভক্ত বাংলার অবিচ্ছেদ্য অংশ পূর্ববঙ্গে (বর্তমান বাংলাদেশ) হিন্দু জনসংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার প্রায় ২৮ দশমিক শতাংশ।
১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর প্রথম পাকিস্তানি শুমারিতে (১৯৫১) তা নেমে আসে প্রায় ২২ শতাংশে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ায় বিপুলসংখ্যক হিন্দু ভারতে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেন।
স্বাধীনতার পর ১৯৭৪ সালের প্রথম শুমারিতে হিন্দু জনসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে । ১৯৯১ সালের শুমারিতে তা আরও হ্রাস পেয়ে ১০ দশমিক ৫ শতাংশে পৌঁছায়।
২০২২ সালের সরকারি জনশুমারি অনুযায়ী, বাংলাদেশে হিন্দু জনসংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ৯৫ শতাংশে ।
২০২৬ সালের সাম্প্রতিক অবস্থায় ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের বিভিন্ন সেমিনারের তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই আনুপাতিক হার প্রায় একই জায়গায় বা সামান্য নিম্নমুখী ধারায় আটকে আছে, যা মোট জনসংখ্যার তুলনায় বৃদ্ধির স্বাভাবিক গতিকে নির্দেশ করে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও গবেষক আবুল বারকাতের গবেষণার তথ্যমতে, ১৯৬৪ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ১৩ লাখ হিন্দু ধর্মীয় নিপীড়ন ও নিরাপত্তার অভাবে দেশত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।
অনেক সংখ্যালঘু নেতার অভিযোগ, আদমশুমারির কার্যপদ্ধতি ও মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহে ত্রুটি থাকার কারণে হিন্দুদের প্রকৃত সংখ্যা অনেক সময় কমিয়ে দেখানো হয়, যাতে নীতিনির্ধারণী বা প্রতিনিধিত্বের জায়গায় তাদের দাবি দুর্বল থাকে।
২০২৪ সালের আগষ্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে কমপক্ষে ৪ লাখ হিন্দু দেশান্তরী হতে বাধ্য হয়েছেন। এভাবে প্রতিনিয়ত নানাভাবেই বাংলাদেশকে হিন্দুশূণ্য করা হচ্ছে।
জনসাধারণের মনে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে যে, তবে কি বাংলাদেশকে “হিন্দু-শূন্য” করার কোনো অলিখিত নীলনকশা চলছে ? প্রাতিষ্ঠানিক কোনো প্রামাণ্য নীলনকশার অস্তিত্ব দৃশ্যমান না হলেও, অব্যাহত ভূমি দখল, আইনি বৈষম্য এবং বিচারহীনতার পরিবেশ পরোক্ষভাবে হিন্দুদের দেশত্যাগে বাধ্য করার একটি ‘কাঠামোগত উপাদান’ হিসেবে কাজ করছে।
অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে “গজওয়াতুল হিন্দ” (ভারত ও এই অঞ্চল জয় করার ইসলামী সাম্প্রদায়িক শক্তির ধারণা) বা বাংলাদেশ ও ভারতকে মিলিয়ে একটি উগ্রবাদী ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি প্রচারনাও কিন্তু চলমান রয়েছে। এটিকে কোনভাবেই উড়িয়ে দেয়া যাবেনা।
# রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
