ঢাকা: এটা কেমন বিচার রাষ্ট্রের? এটা কেমন ব্যবহার রাষ্ট্রের? এটা কেমন বাংলাদেশ?
অবশ্য এত প্রশ্ন করার জায়গাটাই কোথায়? এই দেশে এত দেশপ্রেমের প্রশ্ন করাই তো সাজে না!
দেলোয়ার মাস্টার একজন খাঁটি বীর মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর সাথে যে অন্যায় হয়েছে, তা ক্ষমার অযোগ্য।
মুক্তিযুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে আজ তাঁরা হয়ে গেলেন দেশদ্রোহী।
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারের বাধায় রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) ছাড়াই বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের (৮৫) দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে জানাজা শেষে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।
রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এই ঘটনায় সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় বইছে।
২০২৪-এর নতুন বাংলাদেশে মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা! ইউনূস সরকার আর তারেক সরকারের কোনো পার্থক্য আছে?
এই দৃশ্যগুলো শুধু একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার অপমান নয়—এগুলি মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমের প্রতি চরম অবমাননা।
এ কি সেই বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের জন্য বীর মুক্তিযোদ্ধারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন?
১৯৭১-এর পরাজিত শক্তির প্রতিশোধেরই এক ভয়ংকর প্রতিচ্ছবি!
জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে তিনি শারীরিক নানা রোগে ভুগছিলেন।
গত বুধবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে মারা যান তিনি।
বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজের বাড়িতে জানাজার নামাজের সময় নির্ধারণ করা হয়।
খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনকে গার্ড অব অনার দিতে পুলিশ নিয়ে মদনেরচর এলাকায় যাচ্ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা।
কিন্তু পথের মধ্যে তার গতিরোধ করেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক নওশেদ আলীসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা।
তারা বলেন, দেলোয়ার হোসেন মুক্তিযোদ্ধা নন। তিনি জাল সনদ বানিয়ে মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন। তাই তাঁকে রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা দেওয়া যাবে না।
তারা ধমকের স্বরে বলেন, কোনোভাবেই আপনারা জানাজায় যেতে পারবেন না এবং রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে পারবেন না। এই ঘটনার পর ফিরে আসেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনা।
পরে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তাঁর লাশ দাফন করা হয়।
বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম মিয়া কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার বাবা একজন শিক্ষক ছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সব সুযোগ সুবিধা পেতেন তিনি।
এখন কতিপয় কিছু মুক্তিযোদ্ধা আমার বাবাকে সম্মাননা দিতে বাধা দিয়েছেন। যে কারণে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তাঁর লাশ দাফন করেছি। কী কারণে তাঁরা বাধা দিয়েছেন, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন। যারা বাধা দিয়েছেন, তাদের বিচার আল্লাহ করবেন।
