ঢাকা: বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বলা যায় ২০২৪,৫ আগস্ট থেকে দেশের হাল একদম খারাপ থেকে খারাপ হয়ে গেছে। প্রতিদিন লাশ পাওয়া যায়। প্রতিদিন শিশু নিখোঁজের খবর, প্রতিদিন ধর্ষণ, নারী নির্যাতন!
কী করছেন তারেক রহমান সাহেব? তাঁর চেহারা দেখে মনে হয় না তিনি একটা স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রীত্ব করছেন! দায়িত্বহীন চেহারা, শুধু সফরের পর সফর!
এর আগে ২০ মাসে নদ-নদী থেকে ৯২০ মরদেহ উদ্ধারের খবর আমরা পেয়েছি। হয়তো সংখ্যাটা আরো বেশি হবে। অপরাধের আলামত মুছতে নদীকেই বেছে নিচ্ছে ঘাতকরা?
দেশের বিভিন্ন স্থানে অপরাধ সংঘটনের পর আলামত ধ্বংস করতে লাশ নদীতে ভাসিয়ে দেওয়ার এমন আশঙ্কাজনক প্রবণতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধবিজ্ঞানী ও মানবাধিকার কর্মীরা।
সহিংসতা, নির্যাতন, মব হামলা, কারাগারে মৃত্যু, সাংবাদিক হয়রানি, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের ঘটনায় এই তো সেপ্টেম্বর মাসে দেশের মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উদ্বেগজনক চিত্র উঠে এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির (এইচআরএসএস) মাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় ৪ জন নিহত এবং ৫২৭ জনের বেশি রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন।
এই সময়ে মব সহিংসতা ও গণপিটুনির ৩৫টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন অন্তত ৯ জন, আহত হয়েছেন ৩২ জন।
এ ছাড়াও দেশের বিভিন্ন কারাগারে ২১ জন বন্দির মৃত্যু ঘটেছে, ২৩৬ জন নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন এবং ৩৫ সাংবাদিকের নির্যাতন ও হয়রানির তথ্যও উঠে এসেছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে এইচআরএসএস।
এইচআরএসএসের হিসাবে, সেপ্টেম্বরের ৬৮টি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনার মধ্যে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে কেন্দ্র করে ৩৫টি ঘটনায় অন্তত ৩৪০ জন আহত এবং একজন নিহত হয়েছেন।
এ ছাড়া বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সাতটি সংঘর্ষে ৬১ জন আহত ও একজন নিহত, বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে তিনটি সংঘর্ষে ১৬ জন আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে, নদী নালা থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে মৃতদেহ।
উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ মরদেহই অর্ধগলিত ও বিকৃত, যার কারণে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয়ও জানা যায়নি। কত বেওয়ারিশ লাশ দাফন করে ফেলা হচ্ছে। এই দেশে জীবন এভাবেই যায়।
অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, হত্যাকাণ্ডের পর মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া অপরাধীদের একটি সুপরিকল্পিত কৌশল।
নদীর পানির স্রোতের কারণে মরদেহ মূল ঘটনাস্থল থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে ভেসে যায়। এর ফলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত স্থান ও মরদেহ উদ্ধারের স্থানের মধ্যে বিস্তর ফারাক তৈরি হওয়ায় তদন্তকারী সংস্থা বিভ্রান্তিতে পড়ে।
এছাড়া পানিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার ফলে মরদেহের চামড়া খসে আঙুলের ছাপ (ফিঙ্গারপ্রিন্ট) নষ্ট হয়ে যায় এবং পচনের কারণে আঘাতের চিহ্ন নির্ণয় ও ময়নাতদন্তের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
আর শুধু নদী নয়, দেশের বিভিন্ন উন্মুক্ত স্থান থেকেও উদ্বেগজনক হারে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধার হচ্ছে। অপরাধ এই পরিমাণে বেড়েছে বাংলাদেশে।
