ঝিনাইদহ: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা!
জাতির পতাকা খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন।
মুক্তিযোদ্ধা, মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইতিহাস অক্ষত থাকে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার এই দেশ থেকে মুক্তিযুদ্ধ ভুলিয়ে দেবে রাজাকাররা?
সরকার পরিবর্তন হলে-ও ধ্বংস করা মুক্তিযুদ্ধের একটা স্মৃতিচিহ্নও সংস্কার করা হয়নি। অথচ বিএনপি এই মুক্তিযুদ্ধ নিয়েই ভোটের আগে ইমোশনাল কার্ড খেলেছিলো।
শেখ হাসিনাকে উৎখাত করতে
ওরা বলেছিলো
তুমি কে আমি কে
রাজাকার রাজাকার
আর অক্ষরে অক্ষরে সেটি করে দেখাচ্ছে।
জীবন বাজি রেখে এই অকৃতজ্ঞ জাতিকে কেন স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান!?
যে মানুষটি মাত্র ১৮ বছর বয়সে মাতৃভূমির স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন, আজ তাঁর ভাস্কর্যের গলায় জুতার মালা!
এ অপমান শুধু হামিদুর রহমানের নয়। এ অপমান আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের, ত্রিশ লাখ শহীদের, স্বাধীনতার ইতিহাসের—এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের।
রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, সরকার বদলাতে পারে, ক্ষমতার পালাবদল হতে পারে। কিন্তু যাঁদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে এই স্বাধীন রাষ্ট্র, তাঁদের সম্মান কোনো রাজনৈতিক পক্ষের সম্পত্তি নয়।
যে জাতি তার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সম্মান করতে জানে না, সে জাতি নিজের ইতিহাস, আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎকেই অপমান করে।
বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান, আমাদের ক্ষমা করো।
তোমরা জীবন দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ রেখে গিয়েছিলে—আমরা কি সেই স্বাধীনতার মর্যাদা রাখার যোগ্য হতে পেরেছি?
ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকায় নির্মাণাধীন বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমানের ভাস্কর্যে জুতার মালা পরানোর ঘটনা ঘটেছে। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে ভাস্কর্যের মাথায় জুতার মালা ঝুলছে—এই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর দুপুরের দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা অপসারণ করা হয় বলে জানান জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা কামালুজ্জামান।
তিনি বলেন, “সোমবার রাতের কোনো একসময়ে দুর্বৃত্তরা ভাস্কর্যে জুতা ঝুলিয়ে দেয়। দুপুরে খবর পেয়ে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তা সরিয়ে ফেলি। এর কয়েক মাস আগেও নির্মাণাধীন এই ভাস্কর্যটি ভাঙচুর করা হয়েছিল।”
জুতার মালা পরানোর দায়ে আব্দুর রহমান ওরফে সম্রাট নামে একজনকে আটক করেছে ঝিনাইদহ জেলা পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কাঞ্চননগর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সম্রাট সদর পৌর এলাকার কাঞ্চননগর পাড়ার মৃত শাহাদাৎ হোসেনের ছেলে। বর্তমানে তাকে ঝিনাইদহ সদর থানায় রাখা হয়েছে।
