ঢাকা: মেসি! মেসি! মেসি! একটাই ধ্বনি কেবল!
বুয়েনস আইরেসের ঐতিহ্যবাহী মনুমেন্তাল স্টেডিয়াম। গ্যালারিজুড়ে হাজারো দর্শকের কেবল নীরবতা, শুনশান, সব নিস্তব্ধ। এবং পরক্ষণেই মুহুর্মুহু করতালি।
মাইক্রোফোন হাতে দাঁড়িয়ে আছেন লিওনেল মেসি। মুখে হাসি ধরে রাখার চেষ্টা করছেন, তবে চোখের কোণের পানি বলে দিচ্ছিল বিদায়ের বেদনাটুকু।
কোচ লিওনেল স্কালোনি, সতীর্থ ক্রিস্টিয়ান রোমেরো, এনজো ফের্নান্দেসসহ স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকে বিদায় জানালেন ফুটবল মহাতারকা।
আবেগঘন বক্তব্যে লিওনেল মেসি বলেন, দুই দশকের বেশি সময় আর্জেন্টিনার জার্সি পরতে পারা তার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানগুলোর একটি। কঠিন সময়েও লড়াই থামাননি এবং দলের হয়ে নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন, জানান তিনি।
মেসি বলেন, আর্জেন্টিনার জার্সিতে আর মাঠে না ফেরার বিষয়টি তার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। জীবনের বাকি সময়ও তিনি এই দলের হয়ে খেলতে চাইতেন। তবে এখন তার মনে হচ্ছে, সরে দাঁড়ানোর এটাই সঠিক সময়।
বিদায়ী ভাষণে গত বিশ্বকাপের স্মৃতিচারণ করেন মেসি। বলেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য দল সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিল। কঠিন পরিস্থিতিতেও সতীর্থদের নিয়ে শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা স্মরণ করেন তিনি।
সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। আর্জেন্টিনার হয়ে বিশ্বকাপ, কোপা আমেরিকা ও ফিনালিসিমা জয়ের পেছনে সতীর্থদের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
শৈশবের স্বপ্ন পূরণে যারা তাকে সহযোগিতা করেছেন, তাদের প্রত্যেককে ধন্যবাদ জানান।
বিদায়ী বক্তব্যের শেষ দিকে ভীষণ আবেগঘন হয়ে মেসি বলেন, তাঁর চলে যেতে ইচ্ছে করছে না এবং এই সবুজ গালিচা ছেড়ে যাওয়াটা কঠিন।
একজন আর্জেন্টাইন হিসেবে গর্বিত হওয়ার পাশাপাশি দেশের মানুষের সঙ্গে নিজের স্বপ্নগুলো পূরণ করতে পারাকে জীবনের বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
