ময়মনসিংহ: ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ঐতিহ্যবাহী ঝলমল সিনেমা হল পুড়ে ছাই হয়ে গেলো।

সিনেমা হল, বাদ্যযন্ত্র পোড়ানো এইসব ঘটনা এই দেশে পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হচ্ছে । মৌলবাদী, জামাত শিবির, রাজাকার সব মঙ্গলের বিরুদ্ধে, বাঙালি সংস্কৃতির বিরুদ্ধে। তাই স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহ রয়েছে এই ঘটনায়।

ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে গেছে শত বছরের স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক নাট্যমঞ্চ ও ঝলমল সিনেমা হল।

আগুন কি লাগানো হয়েছে নাকি সাধারণ দুর্ঘটনা? জনমনে প্রশ্ন।

বিংশ শতাব্দীর ত্রিশের দশকে গৌরীপুর রাজপরিবারের বীরেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর উদ্যোগে ঐতিহাসিক এই নাট্যমঞ্চ নির্মিত হয়।

কলকাতায় অবস্থানকালে ঐতিহ্যবাহী ‘স্টার থিয়েটার’-এর স্থাপত্যশৈলীতে মুগ্ধ হয়ে তিনি গৌরীপুরে কাঠের নান্দনিক কাঠামোয় এই নাট্যমঞ্চ নির্মাণ করেন।

শুরুতে নাট্যমঞ্চ হিসেবে ব্যবহৃত এই স্থানে ‘শাহজাহান’ নাটকের মঞ্চায়নের মধ্যদিয়ে এর সাংস্কৃতিক যাত্রা শুরু হয়েছিল বলে স্থানীয়দের ভাষ্য।

সময়ের সঙ্গে দেশ-বিদেশের শিল্পী, নাট্যকর্মী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের পদচারণায় স্থানটি গৌরীপুরের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হয়ে ওঠে।

জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাত সোয়া ২টার দিকে পৌর শহরের ঝলমল সিনেমা হলে আগুন লাগে। পরে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় রাত ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, রাত সোয়া ২টার দিকে ঝলমল সিনেমা হলে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়। প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

সিনেমা হলের সঙ্গে গা ঘেঁষে থাকা এলপিজি সিলিন্ডারের গোডাউন, ডেকোরেশন ও পুরোনো কাপড়ের দোকানসহ ১৫-২০টি দোকান পুড়ে গেছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফিয়া আমিন পাপ্পা জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *