ভাত খাওয়ার জন্য চাল আসবে ভারত থেকে, গোস্ত রান্নায় পেঁয়াজটি দেবো ভারতের, কাঁচা মরিচ দিয়ে আলু ভর্তা মেখে খাবে বেশ আরাম করে সেটিও ভারতের।
বাংলাদেশ থেকে তৈরী পোশাকের লট দ্রুত বিদেশে পাঠাতে ভারতে নিয়ে সেখার বন্দর ব্যবহারকরে শিপমেন্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা আনবো। তাতে কোন সমস্যা নেই । শুধু কি তাই? আমাদের দেশে বিজর বাতি জ্বালোবো কিন্তু তার বিদ্যুৎটি আনতে হচ্ছে ভারত থেকে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্ষমতার লড়াইয়ে বিশ্ববাজার থেকে যখন জ্বালানী তেল আনা যাচ্ছেনা বা অনেক দেরি হচ্ছে, দামও বেশি পড়ছে।
তখন দ্রুত ভারতের কাছে গিয়ে কাঁইমাই করে গিয়ে আমাদের কর্তাব্যক্তিরা বলেন- প্লিজ আমাদেরকে একটু জ্বালানি তেল দিন, নাহলেতো আর বাঁচতে পারছিনা।।
কারণ গাড়ির চাকাও যেমন ঘুরছেনা, তেমনি কলকারখানাও চালাতে পারছিনা বিদ্যুৎ আর জ্বালানী তেলের অভাবে। আপনারা যদি আমাদের প্রতি সদয় না হোনতো আমাদেরতো না খেয়ে মরতে হবে।
ক্যান্সার, পেটের সমস্যা, হৃদরোগ, লিভারের গন্ডগোল? সমস্যা নেই।
ভারতীয় মেডিকেল ভিসা লাগাও। চলে যাও ভারতের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে আরামসে সেখান থেকে বিশাল বিশাল সুটকেসভরে বাজার করে বাংলাদেশে এসেমাত্র ভারতীয়দেরকে গালিগালাজ শুরু ! হ্যাঁ এটাই বাংলাদেশের অধিকাংশ জনগনের সহজাত বৈশিষ্ট।
আর যারা চিকিৎসার জন্য ভারতে যান তাদের মধ্যে প্রচুর মুসলিম নাগরিক আছেন। প্রচণ্ড হিজাবওয়ালী আর কপালে কালো দাগ লাগিয়ে ফেলা দাঁড়ি-টুপি-সফেদ শশ্রুমন্ডিত জোব্বা পরা লোকেরও অভাব নেই।
কিন্তু কেউ যদি আবার তাদের কাছে চিকিৎসার গাইডলাইন চাইতে আসে তখন আবার বলে- ‘ ভাই বাংলাদেশে কোন চিকিৎসা হবেনা, ভারতের ওমুক হাসপাতালে যান , আমি অমুক ডাক্তারকে দেখিয়েইতো ভালো হলাম। কি আর বলবো ভাই ? ওখানকার ডাক্তাররাতো শুধু ডাক্তার না, ওনারা যে যত্ন আর ব্যবহার করেন , এমনকি নার্সরা যে সেবা দেয় সেই জায়গায় বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা আর নাই বা বললাম ভাই আপনি বাঁচতে চাইলে দ্রুত যান সেখানে।’
এমনটাই হলাম আমরা বাংলাদেশের নাগরিক। বিশেষ করে মুসলিম জনগোষ্ঠীর মনমানসিকতা ও আচরণ অধিকাংশই এমন। সম্প্রতি ভারতের চেন্নাই থেকে চিকিৎসা শেষ করে আসা এক রোগী বললেন-‘ ভাই কি আর বলবো?
সবাই চিকিৎসা করেন ওখানে, কাপড়-চোপড় পরেন ওখানকার, এমনকি পোস্তটিও নিয়ে আসেন ওখান থেকে। কিন্তু এদের (মহিলা) অনেকের চোখ ছাড়া আর কিছু দেখা যায়না বাংলাদেশে। কিন্তু এদেরই অনেককে দেখেছি ওখানে জিন্স আর টপস পড়ে ঘুরে বেড়াতে। এমন বৈপরীত্য আর হিপোক্র্যাসি চরমে।
আরো বৈপরিত্য হলো-ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনের ক্ষেত্রে। ফরহাদ হোসেন নামে একজন চেন্নাই ও ভেলোরে চিকিৎসা করাতে গিয়েছিলেন কিছুদিন আগে। তিনি এসে বললেন- ‘ওখানে হিন্দু-মুসলিম-বৌদ্ধ-খ্রীষ্টান সবারই ধর্মীয় প্রার্থনা করার বিশেষ ব্যবস্থা রয়েছে। কোন সমস্যাতো হয়নি আমাদের।’
কিন্তু এই বাংলাদেশেই গত চব্বিশের জুলাই-আগষ্টে “ইসলামী-জঙ্গী-সেনা ক্যু” এর সময় থেকে রাজপথে সেসব টোকাই জঙ্গীদের শ্লোগান ছিল- হেই দিল্লী না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা। গোলামী না আজাদী? আজাদী আজাদী। আহা কত যেন দেশপ্রেম !!
চব্বিশের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরের দিকেই সম্ভবত একসময়ে প্রবল বৃষ্টিপাত হলো বাংলাদেশ ও ভারতের আসাম-ত্রিপুরাতে। তাতে উভয় দেশেই প্রচন্ড বন্যা। ভয়াবহ বন্যা হলো। তখনতো দোষ দেয়া হলো ভারতের। তখনকার নোবেল লরিয়েট সরকার মানে ইউনুস সরকারে লোকজন ও এসব টোকাই জঙ্গীরা প্রচন্ডভাবে ভারতের বিরোধীতায় নেমে পড়লো।
কেউ কেউ তো বাংলাদেশে সুউচ্চ বাঁধ দেয়ার মত অলীক কিছু বাতুলতাও করলেন। তৎকালীন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন যা পরে এনসিপি নামক টোকাই-জঙ্গীদের রাজনৈতিক দল হয়েছে এদের নেতারা লংরোডশো করে ভারতের সেভেন সিস্টার্স দখল করতে নানা হুমকি-ধামকি দিয়ে রাজনীতি গরম করতে চাইলো। করলোও তাই।

বাংলাদেশে ভারতীয় পতাকা পায়েদলে অপমান করা হলো, পতাকা পোঁড়ানো হলো। কথায় কথায় ভারতীয় দালাল আর “র” এর এজেন্ট খোঁজা হচ্ছিলো। অবশ্য সে খোঁজাটি এখনো অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু এর মধ্যে যে সেই “র” এর প্রধান পরাগ জৈন ও ভারতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল বাংলাদেশে এসে ঘুরে গেলেন, হাই-প্রোফাইল মিটিং করলেন তখন এসব “র” এর এজেন্ট খোঁজা দেশপ্রেমিক (!!) টোকাই জঙ্গীরা কই ছিল ?
চব্বিশের বেদনাদায়ক এক পরিণতির মধ্য দিয়ে আওয়ামীলীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকেই ইউনুস সরকার ও এখনকার বিএনপি সরকারের আচার-আচরন কিন্তু সবই ভারত বিরোধী। এদের রাজনীতি মূলত ভারত ও হিন্দু বিরোধীতা। এটিই তাদের রাজনীতির একমাত্র হাতিয়ার।
সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার একমাত্র উপায়। কিন্তু ওই যে উপরে এতসব কথা বলছিলাম যাতে দেখলাম আমরা কি পরিমান নির্ভরশীল আমাদের ‘চরম শত্রু’ ভারতের ওপর।
বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকার, সুদখোর বেহায়া ইউনুস সরকারের আমলে ভারতের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ককে দেশের একটি বড় রাজনৈতিক অংশ “নতজানু পররাষ্ট্রনীতি” বা “গোলামী চুক্তি” হিসেবে তীব্র সমালোচনা করত। তবে ৫ চব্বিশের আগস্টের পর থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং তাদের সহযোগী বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি—যেমন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইনকিলাব মঞ্চ এবং অন্যান্য প্ল্যাটফর্মগুলোর পক্ষ থেকে ভারতের প্রতি একটি অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নেওয়ার নজির দেখা যায়।
জনসমক্ষে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক সমাবেশে তারা ভারতের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুংকার ও শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তবে একই সাথে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে একটি ভিন্ন ও সমালোচনামূলক সমীকরণও তৈরি হয়েছে। অভিযোগ উঠছে যে, একদিকে ভারতের প্রতি কঠোর অবস্থান দেখানোর আড়ালে অন্যদিকে আমেরিকা, মিয়ানমার কিংবা আন্তর্জাতিক অন্যান্য শক্তির সাথে এমন কিছু সিদ্ধান্ত ও চুক্তি করা হচ্ছে, যা বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদী সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
এই প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাম্প্রতিক নানা নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং প্রধান রাজনৈতিক দল বিএনপির কিছু অর্থনৈতিক পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা “নতজানু ও গোলামী নীতি”র সমালোচনামূলক ও তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি।
১. ভারত প্রশ্নে ‘পাত্তা না দেওয়া’ বনাম কূটনৈতিক বাস্তবতার দ্বন্দ্ব:
চব্বিশের আগস্টের পর বাংলাদেশে সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে ভারতের সাথে সম্পর্কের মনস্তাত্ত্বিক ক্ষেত্রে।
ইনকিলাব মঞ্চ, জামায়াতে ইসলামী কিংবা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায় থেকে সরাসরি ভারতকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানি বণ্টন এবং শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার ইস্যুতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে সমালোচকরা মনে করেন, এই হুংকারগুলো মূলত অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে জনপ্রিয়তা ধরে রাখার কৌশল। কারণ, বাস্তব ক্ষেত্রে ভারতের সাথে করা ট্রানজিট, বিদ্যুৎ আমদানি কিংবা বাণিজ্য বিষয়ক বড় চুক্তিগুলো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পুরোপুরি বাতিল বা স্থগিত করতে পারেনি। ফলে লোকদেখানো উগ্র ভারত-বিরোধী স্লোগানের আড়ালে রাষ্ট্রের মৌলিক পররাষ্ট্রনীতিতে কতটা স্বাধীন অবস্থান নিশ্চিত করা যাচ্ছে, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের সংশয় রয়েছে।
২. চট্টগ্রাম বন্দর বিদেশি অপারেটরকে ইজারা:
সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন– ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে অন্যতম বড় সমালোচনা দাঁড়িয়েছে দেশের প্রধান অর্থনৈতিক হৃদপিণ্ড চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশি কোম্পানির হাতে ছেড়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে।

২০২৬ সালের অক্টোবর মাসের শুরুতে সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (NCT) ১৫ বছরের জন্য বিদেশি অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালনার একটি রেয়াতি চুক্তির খসড়া নীতিগতভাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। পূর্বে এটি বাংলাদেশ নৌবাহিনীর মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল এবং বন্দরের প্রায় ৪০ শতাংশ কনটেইনার এখানেই খালাস হতো।
সমালোচকদের বক্তব্য হলো, যেখানে দেশের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান বা নৌবাহিনী এই টার্মিনাল সফলভাবে পরিচালনা করে আসছিল, সেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তড়িঘড়ি করে এটি আন্তর্জাতিক কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বকে খর্ব করে। বামপন্থী দল এবং বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের মতো বিভিন্ন সংগঠন একে “আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত” বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে, এটি পশ্চিমা বা বিদেশি পরাশক্তিগুলোর মনস্তুষ্টি ও প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নের একটি অন্যতম উদাহরণ।
৩. মিয়ানমার-চীন করিডোর এবং ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি—
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ এবং রোহিঙ্গা সংকটের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের তরফ থেকে বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডোর সংক্রান্ত আলোচনা ভূ-রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে মিয়ানমার হয়ে চীনের কুনমিং পর্যন্ত প্রায় ১,২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সরাসরি সড়ক করিডোরের একটি প্রস্তাবনা সামনে আসে।
যদিও সরকারের পক্ষ থেকে রাখাইনে সরাসরি সামরিক বা বিতর্কিত করিডোর দেওয়ার বিষয়টিকে অপপ্রচার বা মিথ্যা বলে বারবার নাকচ করা হয়েছে, তবুও জাতিসংঘের মানবিক করিডোরের প্রস্তাবনা কিংবা অর্থনৈতিক করিডোরের এই আলোচনাগুলো নিয়ে রাজনৈতিক মহল উদ্বিগ্ন।
সমালোচকদের মতে, মিয়ানমারের জান্তা সরকার ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (AA) মধ্যকার চলমান সহিংস পরিস্থিতির মধ্যে এই অঞ্চলে করিডোর বা অতিরিক্ত সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে। এতে বাংলাদেশ কোনো আঞ্চলিক প্রক্সি ওয়ার বা পরাশক্তিগুলোর ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের ফাঁদে পড়ে যেতে পারে, যা এক ধরনের পরোক্ষ দাসত্ব বা নতজানু নীতিরই বহিঃপ্রকাশ।
৪. অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যশস্য আমদানি ও বিদেশি ঋণনির্ভরতা:
বেহায়া এনজিও নেতা ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ ও সমালোচনার জায়গা হলো দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যশস্য আমদানির জন্য সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক ঋণ ও বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়া।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক বিপর্যয় কাটাতে ড. ইউনূসের সরকার বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ (IMF) এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (ADB) কাছ থেকে বিলিয়ন ডলারের ঋণ গ্রহণের প্রক্রিয়া চালাচ্ছে।
সমালোচকরা মনে করেন, এই বিপুল ঋণের শর্ত হিসেবে বাংলাদেশকে চাল, গম, সার ও জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজার ও ঋণদাতা সংস্থাগুলোর নানা কঠিন শর্ত মেনে নিতে হচ্ছে। খাদ্যের মতো একটি কৌশলগত ও সংবেদনশীল বিষয়ে স্বনির্ভরতা অর্জনের দীর্ঘমেয়াদী চেষ্টা না করে, তাৎক্ষণিক আমদানির জন্য বিদেশি শক্তির মুখাপেক্ষী হওয়া দেশের সার্বিক সার্বভৌমত্বকে দুর্বল করে তুলেছে ।
৫. বিএনপির নীতি ও বোয়িং ক্রয়ের অপ্রয়োজনীয় বিলাসিতা
ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল বিএনপি এবং তার শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন বিশ্লেষকরা।
যেখানে দেশের সাধারণ মানুষ তীব্র মূল্যস্ফীতি, অর্থনৈতিক মন্দা ও কর্মসংস্থানের অভাবে জর্জরিত, সেখানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহরে নতুন করে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয়ে অপ্রয়োজনীয় বোয়িং (Boeing) বিমান কেনার পরিকল্পনা বা এই সংক্রান্ত তদবিরের সমালোচনা আসছে।
অভিযোগ রয়েছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা পশ্চিমা বিশ্বকে খুশি রাখার বাণিজ্যিক কূটনীতির অংশ হিসেবে এই ধরনের ব্যয়বহুল ও বিলাসপূর্ণ বিমান ক্রয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর আধুনিকায়ন কিংবা সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজ করার চেয়ে বিদেশি এয়ারক্রাফট ম্যানুফ্যাকচারারদের বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা পাইয়ে দেওয়া কোনোভাবেই জাতীয় স্বার্থের অনুকূলে যায় না।
একে ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকার জন্য বা আন্তর্জাতিক সমর্থন পাওয়ার জন্য এক ধরনের পরোক্ষ আপস বা নতজানু মনোভাব হিসেবেই দেখছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।
জামায়াতে ইসলামী, ইনকিলাব মঞ্চ কিংবা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মতো দলগুলো মাঠপর্যায়ে ভারতের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে কঠোর হুংকার দিলেও, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মার্কিন বা পশ্চিমা ঘেঁষা অর্থনৈতিক নীতি ও বন্দর লিজের মতো স্পর্শকাতর সিদ্ধান্তগুলোর বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান এখনও তুলনামূলকভাবে ধোঁয়াশাপূর্ণ।
দেশের সাধারণ মানুষের আশঙ্কা, একটি দেশের দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে গিয়ে বাংলাদেশ যেন অন্য কোনো বৈশ্বিক পরাশক্তির দীর্ঘমেয়াদী করদ রাজ্যে পরিণত না হয়।
চট্টগ্রাম বন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় সম্পদ বিদেশি কোম্পানির নিয়ন্ত্রণে দেওয়া কিংবা সংকটের মুহূর্তে মিয়ানমার ও চীন সীমান্তে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকিপূর্ণ করিডোর নিয়ে আলোচনার মতো সিদ্ধান্তগুলো কোনোভাবেই একটি স্বাধীন ও স্বনির্ভর রাষ্ট্রের পরিচয় বহন করে না।
এরই মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরের ইজারা চুক্তি বাতিলের জন্য কয়েকটি সংগঠন মৃদু আপত্তি তুলেছে। অথচ তারা বলছে তারা নাকি তীব্র গনআন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে দেশবিরোধী এসব চুক্তি বাতিলে বাধ্য করবে। কিন্তু আমরা দেখেছি যেসব নেতারা এই আন্দোলন নকরছেন তাদের অধিকাংশই গত চব্বিশের সেই কথিত আন্দোলনে মাকিৃণীদের ডলারে পুষ্ট হয়ে নানা কাজ করেছেন।
সুতরাং তাদের এই আন্দোলনও যে লোক দেখানো আন্দোলন তা অঅর বুঝতে বাকী নেই কারো।
অবস্থাটি এমন- ভারতের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য-চুক্তি করলে সেগুলো গোলামির চুক্তি, তখন স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হয়। কিন্তু আমেরিকা কোন কথা ছাড়াই তার সেনাট্রুপ পাঠিয়ে দেয় বাংলাদেশে, তারা অবাধে ঘুরে বেড়ায় কক্সবাজার, বান্দরবান ও মিয়ানমার সীমান্তে, সেনানিবাসে। সেখানে বসে তারা বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনীতে নানা সবক দেয়। তা মানতে বাধ্য করে। তাদের কাছ থেকে অধিক দামে গমসহ অন্যান্য পণ্য কিনতে বাধ্য করে।
“ননডিসক্লোজার চুক্তি” করে। এই গোপন চুক্তিতে কি আছে তা আর এ দেশের জনগণ জানতে পারেনা। তখন আর স্বাধীনতা স্বার্বভৌমত্ব বিনষ্ট হয়না ?
কিন্তু বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন চুক্তিতে এমন কি ক্ষতিকর দিক রয়েছে যেটিকে এনসিপি-জামায়াতী-বিএনপিসহ ইসলামী দলগুলো গোলামীর চুক্তি বলে গলা ফাটাচ্ছে সে নিয়ে কিন্তু কোন তথ্যই প্রকাশ করতে পারছেনা। কিন্তু গলা ফাটিয়ে বক্তব্য রাখবে। আর ওদিকে ভারত থেকে বিপুল পরিমাণ বিদ্যুৎ আর পাইপ লাইনের মাধ্যমে ডিজেল এনে কোনভাবে জনরোষ ঠেকা দেয়ার চেষ্টা করছে। এই যে দ্বিচারিতা তা যে কবে বন্ধ হবে এই জাতির তা কেউ জানেনা।
# নুরুল ইসলাম আনসারি: লেখক, প্রাবন্ধিক।
