ঢাকা: ‘শেখ হাসিনা দূরদর্শী ছিলেন’— এ কথা মুখে বলার থেকে কাজগুলো দেখলেই বুঝাতে বেশি সুবিধা হয়।
ক্রাইসিস এলে তিনি কীভাবে-কোন উপায়ে যেন সব ম্যানেজ করে নিতেন। অথচ এখন?
আওয়ামী লীগের দোষ আছে, গুণ আছে। কিন্তু ওদের?
খাম্বা যুগের শাসকরা আমাদেরকে ‘টেইক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগান শুনিয়ে ফের নিয়ে গিয়েছে সেই খাম্বা যুগে। এখন আপনার বাড়ির পাশে খাম্বা আছে ঠিকই, কিন্তু বিদ্যুৎ নেই।
বিদ্যুৎ মন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার সবথেকে বড়ো ও অভাবনীয় কাজ ছিলো রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র।
গ্রামের যে ঘরে একসময় সন্ধ্যার পর কেরোসিনের বাতি জ্বলত— সেখানে বিদ্যুৎ গেছে। কৃষকের সেচে বিদ্যুৎ গেছে। স্কুলে বিদ্যুৎ গেছে। হাসপাতালে বিদ্যুৎ গেছে।
অথচ আজ আবার যেই সেই অবস্থা।
যাই হোক, এবার দীর্ঘ অপেক্ষার পর রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে বড় অগ্রগতি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার ৮ অক্টোবর এই ইউনিটের চুল্লিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরুর অনুমতি দিয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (বায়রা)।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের আগে এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপগুলোর একটি। এ ধাপকে বলা হয় ‘ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি’।
বায়রা চেয়ারম্যান মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এখন আরও দুটি অনুমোদন নিতে হবে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রথম ইউনিটের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তাব্যবস্থার ভালভে জটিলতা দেখা দেওয়ায় এত দিন অনুমোদন আটকে ছিল। স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাপ কমানোর ওই ভালভের সমস্যা সমাধানে রাশিয়া থেকে বিশেষজ্ঞ দল আসে। তাদের কাজের পর একাধিক পরীক্ষায় ব্যবস্থাটি সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়।
ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চালুর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, অনুমোদনের পর প্রথমে চুল্লিতে খুব কম শক্তিতে নিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক বিক্রিয়া শুরু করা হবে। এটিই ফার্স্ট ক্রিটিক্যালিটি।
এই সময় চুল্লির বিভিন্ন ব্যবস্থা, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে কি না, সেটা পরীক্ষা করা হবে।
এই পরীক্ষা ও প্রস্তুতির পুরো প্রক্রিয়ায় ৩০ থেকে ৪০ দিন লাগতে পারে। সব ঠিক থাকলে ধীরে ধীরে চুল্লির শক্তি বাড়ানো হবে। এরপর শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতি।
পরের ধাপে চুল্লির ক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি টারবাইন চালু করা হবে। এরপর জেনারেটরকে জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত করে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে। এ জন্য বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী সংস্থাকে বায়রার কাছ থেকে আরও একটি পরিচালন অনুমোদন নিতে হবে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানান, শুরুতে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি মাত্র ৩ শতাংশ ক্ষমতায় চালানো হবে। পরে ধাপে ধাপে উৎপাদন ২০ থেকে ৩০ শতাংশে নেওয়া হবে। সব পরীক্ষা সন্তোষজনক হলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে। ডিসেম্বরের শেষে পরীক্ষামূলকভাবে গ্রিডে বিদ্যুৎ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
