জামালপুর: ইমাম তো ধর্ম কর্ম করেন তাই না? সাধারণ মানুষ তো পাপী, হিন্দুরা কাফের, ইমাম তো কোরান পড়েন, পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ কালাম করেন- তারপরেও এরা মানুষের সাথে প্রতারণা কীভাবে করে? ধর্ষণে কীভাবে অভিযুক্ত হয়?
এদেরকে বলে বকধার্মিক। হিন্দুরা একটা কথা বলে- একটা প্রবাদ- “একাদশীর মা ডুব দিয়ে পানি খায়”! অর্থাৎ উপোসের দিন লুকিয়ে পানি খাওয়া।
সেই ব্যাপারটা হয়েছে।
জামালপুরের মেলান্দহে ঐতিহ্যবাহী মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মিজানুর রহমান (৩৮) বিপুল টাকার প্রতারণা করেছে।
১৫ লাখ টাকা নিয়ে উধাও হয়ে গেলেন ধার্মিক ব্যক্তিটি! এখন আবার কেউ কিছু বলবে না, ইমাম যে!
ইমামের বিরুদ্ধে স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা নিয়ে পালানোর অভিযোগ উঠেছে।
মসজিদের ইমাম হঠাৎ উধাও হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) এই ঘটনায় মসজিদভিত্তিক মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের (৩০) বাদী হয়ে ভুক্তভোগীদের পক্ষে মেলান্দহ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্ত মিজানুর রহমান ঢাকার ৩১২ দক্ষিণ যাত্রাবাড়ির ফরিদাবাদ এলাকার বাসিন্দা।
মসজিদের সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ফরহাদ হোসেন এবং ভুক্তভোগীরা জানান, মুফতি মিজানুর রহমান তিন মাস আগে ৪০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানির শর্তে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগদান করেন।
যোগদানের পর থেকেই তিনি মসজিদের নির্দিষ্ট আবাসনে সপরিবারে অবস্থান করছিলেন।
হংকং থেকে তাঁর এক আত্মীয়র পাঠানো স্বর্ণ এয়ারপোর্ট থেকে ছাড়িয়ে আনতে টাকার প্রয়োজন আছে এই কথা বলে গত মঙ্গলবার তিনি ১৪/ ১৫ জন বাসিন্দার কাছ থেকে প্রায় ১৫ লাখ টাকা ধার নেন।
এইভাবে প্রতারণার ফাঁদ পেতেছিলেন তিনি। মানুষ তো ভেবেছে ইমাম মানুষ, তিনি কী আর টাকা মারবেন?
পরে সেদিন রাতেই সপরিবারে তিনি নিরুদ্দেশ হয়ে যান।
পরে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। কোনো খোঁজখবর না পেয়ে থানায় অভিযোগের সিদ্ধান্ত নেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শ অনুযায়ী ভুক্তভোগীদের পক্ষে মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের মক্তব শিক্ষক মাওলানা জোবায়ের বাদী হয়ে এই অভিযোগ করেন।
মেলান্দহ থানা ওসি এটিএম হক বলেন, মালঞ্চ কেন্দ্রীয় মসজিদের ইমাম ও খতিব মুফতি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার অভিযোগে করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করা হচ্ছে।
