সাতক্ষীরা: সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ভয়াবহ কিশোর গ্যাং।

সাতক্ষীরা, কুমিল্লা সবেতেই কিশোর গ্যাংয়ের উৎপাত।

শান্ত ও নিরিবিলি শহর হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরায় এখন চরম আতঙ্কের নাম ‘কিশোর গ্যাং’ ও ‘মাদক।’

দিন দিন বেপরোয়া হয়ে ওঠা এসব গ্যাংয়ের হাতে একের পর এক অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটছে, কিন্তু দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী প্রতিকার মিলছে না।

স্থানীয়দের মতে, এক একটা খুনের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়—দীর্ঘদিনের অবহেলা, প্রশাসনিক শিথিলতা এবং রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়েরই করুণ পরিণতি।

এবার কুমিল্লা জেলাজুড়ে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ ও গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

চালালেও মাথা না কাটলে ডালপালা গজাবেই।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত জেলার ১৮টি থানা এলাকায় একযোগে পরিচালিত এই অভিযানে কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সম্পৃক্ত সন্দেহে ২৫২ জনকে আটক করা হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান।

পুলিশ জানায়, কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়।

কুমিল্লা মহানগরীসহ প্রতিটি উপজেলার যেসব স্থানে কিশোর বয়সি বখাটেদের উৎপাত ও আড্ডা বেশি, সেসব স্পটকে কেন্দ্র করে অভিযান চালায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। অভিযানে পুলিশের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সরাসরি মাঠে নেমে তদারকি করেন।

আটকদের বিষয়ে প্রাথমিক যাচাই-বাছাই ও অপরাধে তাদের সম্পৃক্ততা বের করার কাজ চলছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক ছত্রছায়া ও ‘পাতি নেতা’ সংস্কৃতি এই অপরাধচক্র রাতারাতি এতটা শক্তিশালী হয়ে ওঠার পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে একশ্রেণীর সুযোগসন্ধানী ‘পাতি নেতা।’

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এদের নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক আদর্শ নেই; যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের নাম ভাঙিয়ে তারা অপকর্ম চালিয়ে যায়।

পরবর্তীতে বড় বড় রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টার বা আশ্রয় পাওয়ায় এরা হয়ে ওঠে আরও অপ্রতিরোধ্য। যার খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।

এর থেকে দ্রুত প্রতিকার চায় মানুষ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *