ঢাকা: আসিফ মাহমুদ তথা জঙ্গী টোকাই কী ভয় পেয়ে গেলেন‌ নাকি‌ কোনো কারণে হঠাৎ করে? সুর এত নরম যে‌? রাজাকারের সুর নরম!

তিনি বললেন নিজের মুখে – তিনি ভারত বিরোধী নন।

তাহলে আপনার কর্ম আর‌ মুখে তো মিল নেইল আপনার কর্ম ভারত বিরোধী। আর‌ মুখে হঠাৎ এই‌ ভাষণ!

শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলন করে ‘গণঅভ্যুত্থান’ ঘটিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদরা। সুন্দর দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এরা।

এরপরে ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারে উপদেষ্টাও হন তাঁরা। ক্রমে সক্রিয় রাজনীতিতে পদার্পণ এবং তাঁদের রাজনীতির অন্যতম মন্ত্র হল ‘ভারত বিরোধিতা’।

‘দিল্লি না ঢাকা’ স্লোগান দিতে শোনা গিয়েছে বাংলাদেশের এনসিপির নেতাদের।

অথচ এখন যে তিনি বললেন ভারত বিরোধী না, তা কী মানিয়েছে?

বললেন আগ্রাসন বিরোধী!

আচ্ছা ভারত কোনদিন‌ আগ্রাসন করেছে? সে হিসাব তাদের খাতায় নেই।

কী বললেন দেখি‌ একটু?

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, “আমরা ফ্যাসিবাদের আমলে দেখেছি শেখ হাসিনা বলেছিলেন যে ভারতকে যা দিয়েছি, আজীবন মনে রাখবে। সব পলিসিতেই আমরা দেখেছি বাংলাদেশের স্বার্থের বিপরীতে ভারতের স্বার্থ দেখা হতো।

এখন অনেকে বলে যে আমরা ভারতবিরোধী। আমরা কিন্তু ভারতবিরোধী না, আমরা আধিপত্যবাদ বিরোধী। এটা একটু ক্লিয়ার হওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আর সি মজুমদার অডিটোরিয়ামে শহীদ আবরার ফাহাদের সপ্তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ‘আবরার ফাহাদ : দিল্লির আধিপত্যবাদ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আসিফ মাহমুদ‌ ভীষণ কনফিউজড। বলেন, ভারত নিয়ে সরকারের পলিসির স্পষ্ট অবস্থান এখন পর্যন্ত বোঝা যাচ্ছে না। বোঝা যাচ্ছে না যে সরকারের রোলটা কী হতে পারে। তাই এই মুহূর্তে দাঁড়িয়ে এটা বলা একটু কঠিন।

তবে আমাদের আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনীতির ভবিষ্যৎটা বা রাজনীতিটা আসলে কী, এটা বোঝার একটা খুব সহজ উপায় হচ্ছে আবরার ফাহাদের যে আট স্তম্ভ রয়েছে, ওই স্তম্ভের আটটা কনসেপ্ট।

ওই আটটা শব্দ কোনো শব্দ না, ওই আটটা শব্দ হলো আটটা কনসেপ্ট। এটা ভালোভাবে বুঝলে আমরা বুঝতে পারব যে আমাদের আগামী দিনের আধিপত্যবাদ বিরোধী রাজনীতি কী।

তিনি আরো বলেন, এই দেশে পলিসিগত জায়গা থেকে আপনি যতই বিপ্লবী কাজ করেন না কেন, লোকালি বা বিভিন্নভাবে আপনি হয়তো টুকটাক বাধার সম্মুখীন হবেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের সময় সবচেয়ে বেশি বাধার মুখে হয়তো আমি পড়েছি। পাবলিকলি আপনারা দেখেছেন, আবার অনেক কিছু রয়েছে যা আপনারা দেখেননি।

আমার কাছে সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জ মনে হয়েছে, ৮০০০ তরুণকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার কাজটা করতে গিয়ে। তাও প্রপার অস্ত্র দিয়ে নয় কাঠের অস্ত্র দিয়ে প্রশিক্ষণ এবং এর পাশাপাশি তাইকোয়ান্দো, কারাতে ও অন্যান্য আত্মরক্ষামূলক প্রশিক্ষণ ছিল। তো সেটা করতে গিয়ে যে পরিমাণ বাধা দেওয়া হয়েছে এবং আপনারা দেখেছেন, তখন নিউজেও এসেছে যে রক্ষীবাহিনী গঠন করল।

তিনি আরও বলেন, এই রক্ষীবাহিনীতে নির্বাচনের সময় মিলিট্যান্ট কার্যক্রম করা হবে, ভারতে অনেকগুলো নিউজ এজেন্সি সক্রিয় হয়ে ওঠে। এত ছোট একটা প্রজেক্ট, একেবারেই কয়েক কোটি টাকার প্রজেক্ট, ৮০০০ মানুষের প্রশিক্ষণের প্রজেক্ট এবং খুব বেশি যে ফ্যাসিলিটি নিয়ে, খুব বেশি যে সামরিক কায়দায়, সেরকমও না।

আপনারা জানেন যে বাংলাদেশে সাতটা বিকেএসপি সেন্টার রয়েছে। অনেক জায়গা ফ্রি পড়ে রয়েছে, অনেক স্পেস রয়েছে। সেখানে আমরা প্রশিক্ষণের প্ল্যান করেছিলাম এবং সেই প্রজেক্টটা এখনো চলছে। তিন বছরে ৮০০০, এটা কোনো নাম্বারই না আসলে।

মানে, আপনি যদি স্কেল দেখেন, আমাদের তরুণদের সংখ্যা কত, চার থেকে পাঁচ কোটি হবে। আমরা এখন ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এনজয় করছি।

আসিফ মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশের সমস্যাটা হচ্ছে, পলিটিশিয়ানরাই মোটা দাগে উপরে উপরে অনেকেই অনেক কথা বলে। কিন্তু অনেকেই চিন্তা করে যে, ভারত তো আমার জন্য ইমিডিয়েট কোনো থ্রেট না।

আমি যদি কিছু আদায় করে নিতে পারি, মানে একটা এমপি নমিনেশন পেতে যদি আমি প্রো-ইন্ডিয়ান কোনো পলিটিশিয়ান হই, তাহলে আমার জন্য একটু সুবিধা হবে। আমার দলের মধ্যেও আমি একটু প্রমিনেন্স পাব বা একটা মিনিস্ট্রি পেতে সুবিধা হবে। এই যে ব্যক্তিগত বা ক্ষুদ্র চিন্তার জায়গা থেকে অনেকেই পার্সোনালি নৈতিকভাবে ডাইলিউট হয়ে যান। পরে একটা চক্রে তারা আসলে ঢুকে যান, এটা থেকে আর বের হতে পারেন না”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *