খুলনা: থানা পুড়িয়ে, পুলিশ পুড়িয়ে যে বিপ্লব করা শুরু হয়েছিল, তার ফল আজকে এই। পুলিশ এখন নিজের জীবন নিয়েই ভয়ে আছে। পুলিশ যে নাকি জনগণের নিরাপত্তা দেয়, সমাজের নিরাপত্তা দেয়- তাঁদের একা চলাফেরা করাই এখন বিরাট বিপদের!

ভাবুন জনগণ কোথায় আছে?

বাহ! কি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্ম হলো গো!

পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে – রাতে একা চলাচল না করতে। যে পুলিশ মানুষকে পাহারা দেওয়ার কথা ছিলো, সেই পুলিশকেই আজ পাহারা নিয়ে চলতে হচ্ছে।

কারণ দেশে এখনো মাহদীর দেওয়া থানা পোড়ানো, এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মারার স্বীকারোক্তি দেওয়া খুনিরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায়। আর মুক্তিযোদ্ধার গলায় জুতার মালা ঝোলানো হয়, সত্যিকারের দেশভক্তদের হাজতে পুড়ে রাখা হয়।

একটি দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক হলে পুলিশ সদস্যদেরই রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশ দিতে হয়!

খুলনা জেলা পুলিশের এক পরিদর্শক ছিনতাইকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার পর পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে এমন নির্দেশনা সত্যিই ভাবনার বিষয়।

সাধারণ মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে চায়, একটু শান্তিতে নিঃশ্বাস নিতে চায়। পরিবার নিয়ে শান্তিতে বাঁচতে চায়। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে যদি পুলিশকেই সতর্ক থাকতে হয়, সে জায়গায় তো নাগরিকদের মনে বিরাট উদ্বেগের জন্ম নিয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই ভয়াবহ অবনতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিশেষ অভিযান শেষে ফেরার পথে পুলিশ পরিদর্শকের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার পর খুলনায় রাতে একা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা পুলিশ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কায় বিশেষ অভিযানসহ দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানদের কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে জেলার বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পুলিশ সুপার স্বাক্ষরিত এক দাপ্তরিক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে রূপসা, তেরখাদা, দিঘলিয়া ও বটিয়াঘাটা থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চলছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা বিবেচনায় নিয়ে অভিযানে কিংবা অন্য কোনো দায়িত্ব পালনের সময় রাতে কোনো পুলিশ সদস্য যেন একা চলাচল না করেন, তা নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট ইউনিটপ্রধানদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরে নির্দেশনাটির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ, অপরাধ ও অপারেশন, ডিএসবি ও ট্রাফিক), সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার, জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), ট্রাফিক বিভাগ, পুলিশ লাইন্স, রিজার্ভ অফিস ও কোর্ট পুলিশ পরিদর্শক। জেলার সংশ্লিষ্ট থানা ও দপ্তরগুলোকেও এ নির্দেশনার আওতায় আনা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, খুলনার পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক জানান, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রূপসা থানায় বিশেষ অভিযান শেষে ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন এক পুলিশ পরিদর্শক। ঘটনার সময় তিনি সাদা পোশাকে ছিলেন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *