ঢাকা: আজ ১১ অক্টোবর- আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। প্রতি বছর ১১ অক্টোবর বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। দিবসটি ঘিরে বিভিন্ন দেশে নানান আয়োজন করা হয়।
দিবসটি পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো কন্যাশিশুদের মানসম্মত শিক্ষা, পুষ্টি, চিকিৎসাসেবা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
এবং বাল্যবিবাহ বন্ধ করা, নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে মেয়েদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কন্যা শিশু দিবস, নারী দিবস এসব পালনের কোনো মূল্য নেই যতদিন আমাদের দেশে নারী অত্যাচার, কন্যা ভ্রূণ হত্যা, ধর্ষণ এইসব নিকৃষ্ট, ঘৃণ্য কাজ বন্ধ না হচ্ছে।
অনেকে বলবেন, এই দিবসগুলো পালন করে সজাগতা সৃষ্টি করা হয়। কার সজাগতা সৃষ্টি করবেন?
সরকার, প্রশাসন যদি দেশের নারীদের বাঁচতে না দেয়, বাঁচতে সাহায্য না করে তাহলে কার সজাগতা বাড়াবেন?
এই দেশে কন্যা শিশুদের পরিস্থিতি দেখলে, আর ঘটনাগুলো শুনলে চোখের পানি গড়িয়ে পড়বে।
মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্য বলছে-২০১৬ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে দেশে সহিংসতা, নির্যাতন এবং যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে ৫ হাজার ২৬৪ কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়েছে। আর এসব মৃত্যুর ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ২ হাজার ২২০টি।
তবে ঘটনাগুলো যে এইটুকুই সেটার কোনো বাস্তবতা নেই। এর চাইতে আরো বেশি ঘটেছে ঘটনা। সঠিক তথ্য বের হয় না।
সংস্থাটির হিসাবে প্রতি ১০টি মৃত্যুর বিপরীতে মামলা হয়েছে প্রায় চারটি।
নিহতদের মধ্যে ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সি শিশুর সংখ্যা ২ হাজার ৩৭৭, যা মোট মৃত্যুর প্রায় ৪৫.১ শতাংশ।
এ সময়ে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৭৫ কন্যাশিশুকে।
শারীরিক নির্যাতনের পর হত্যা করা হয়েছে ১ হাজার ৬১ জনকে। এ ছাড়াও পারিবারিক নির্যাতনে ৯০৫ শিশু মারা গিয়েছে।
এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অনির্দিষ্ট বা সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে ৯১৬ শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক চাপে আত্মহত্যা করেছে ৭৬৩ শিশু। নিখোঁজ হওয়ার পর মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে আরও ৩২৪ জনকে।
দেখুক একটু সরকার কী অবস্থা দেশটার।
এদিকে আসকের তথ্য অনুযায়ী, এই বছর জানুয়ারি থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত নির্যাতন, সহিংসতা ও ধর্ষণের শিকার হয়ে ২৫৪ কন্যাশিশু মারা গিয়েছে।
এই সমস্ত ঘটনায় মামলা হয়েছে মাত্র ৮১টি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যেও নারী ও শিশু নির্যাতনের ভয়াবহ বাস্তবতা উঠে এসেছে।
২০২৬ বছরের প্রথম ৯ মাসে ঢাকাসহ সারা দেশে মামলা হয়েছে ১৬ হাজার ৭১৫টি। এইসব মামলার একটি বড় অংশ কন্যাশিশু নির্যাতনের ঘটনার।
পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক।
