Oplus_131072

গোপালগঞ্জ: বড় অবেলায় চলে যাচ্ছেন তাঁরা। গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মাহবুব আলী খান মারা গেছেন।

শোকপ্রকাশ করে সহকর্মী, সহযোদ্ধারা ফেসবুকে অনেক লেখাই লিখছেন তাঁকে নিয়ে।

একজন লিখেছেন, “মাননীয় নেত্রী শেখ হাসিনার আপনাকে অনেক প্রয়োজন ছিল,অনেক কাজ করার বাকি ছিল”!

বাংলাদেশ সময় ১১ অক্টোবর রাত ১:২২ মিনিটে গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সম্মানিত সভাপতি মাহবুব আলী খান শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন)।

তাঁর চলে যাওয়ায় লীগের রাজনৈতিক পরিমন্ডলে যে গভীর শূন্যতা তৈরি হলো সহসা তা পূরণ হবার নয়।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পরে সারাদেশে যখন আওয়ামী লীগের উপর সীমাহীন নীপিড়ন নির্যাতন চলছিলো ঠিক সেই মুহূর্তেও বঙ্গবন্ধু কন‍্যা শেখ হাসিনার নির্দেশে ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে গোপালগঞ্জে দুর্বার গণআন্দোলনে নেতৃত্ব দেন তিনি।

মাহবুব আলী খানের মৃত্যুতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

তাঁর শোকবার্তাটি আওয়ামী লীগের ফেসবুক পেইজে প্রকাশ করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেছেন, “গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সংগ্রামী সভাপতি মাহবুব আলী খান গতরাতে রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মাহবুব আলী খানের আকস্মিক মৃত্যুতে আমি গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।

পঁচাত্তর পরবর্তী অত্যন্ত বৈরি সময়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে বুকে ধারণ করে ছাত্ররাজনীতির বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে বর্তমানে তিনি গোপালগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার প্রত্যয়ে সকল লড়াই-সংগ্রামে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন।

শত নির্যাতন, হামলা-মামলা মোকাবেলা করে অতীতের মতোই বিগত অসাংবিধানিক সরকারের সময়ে অত্যন্ত সাহসী ভূমিকা পালন করেছেন। তাঁকে হত্যা সহ একাধিক মিথ্যা মামলার আসামী বানিয়ে ফেরারি জীবন-যাপনে বাধ্য করা হয়েছে, যার ফলে যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার মৌলিক অধিকার থেকেও তিনি বঞ্চিত হয়েছেন।

মাহবুব আলী খান ছিলেন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রতি অত্যন্ত অনুগত ও নিষ্ঠাবান একজন রাজনীতিক। আজীবন তিনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শের প্রতি অবিচল থেকে গোপালগঞ্জের মাটি ও মানুষের কল্যাণে কাজ করে গেছেন।

বর্তমানের স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার বিশৃঙ্খল সমাজব্যবস্থা, অন্যায়-অবিচার এবং অরাজক পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে তাঁর মতো কুশলী ও পরিশ্রমী রাজনীতিকের চলে যাওয়া আওয়ামী লীগ পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। তাঁর চিরবিদায়ে রাজনীতিতে যে গভীর শূন্যতা তৈরি হলো, তা সহসা পূরণ হওয়ার নয়।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের দুঃসময়ের পরীক্ষিত ও নিবেদিত প্রাণ গণমানুষের এই নেতার মৃত্যুতে গোপালগঞ্জে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।

তাঁর মৃত্যুতে গোপালগঞ্জবাসী একজন রাজনীতিবিদের পাশাপাশি একজন অভিভাবকতুল্য সাহসী ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস গোপালগঞ্জবাসী মরহুমের অবদান শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।

মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। তিনি স্ত্রী, এক কন্যা ও এক পুত্র সহ অগণিত বন্ধু-স্বজন, সহকর্মী-সহযোদ্ধা ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবার এবং শোকাহতদের প্রতি আমার আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।

আমি মাহবুব আলী খানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি”।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *