নাটোর: যে বীরেরা নিজেদের বুকের রক্ত দিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, তাদের গলায় জুতার মালা পরানো হয়, মারধর করা হয়, মব করা হয়।

তাঁদেরই কার্যালয় ভাঙচুর করে লুটে নেওয়া হলো চেয়ার-টেবিল, আসবাব, আলমারি, এমনকি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র! নাটোরের বড়াইগ্রামে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কার্যালয়ে এই ঘটনা শুধু লুটপাট নয়, এটি জাতির ইতিহাস, আত্মত্যাগ আর মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা নিয়ে গভীর উদ্বেগের বিষয়।

বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর রাতে মৌখারা বাজারের কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

নাটোরের বড়াইগ্রামে পৌরসভা ও সদর ইউনিয়নের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ‌‘বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ’ কার্যালয় ভাঙচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই ঘটনায় ৭৫ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

এমন ঘটনায় সবাই হতবাক। কী ঘটলো?

মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা উপজেলার মৌখাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ।

গোলাম মওলা বলেন, ২০০৪ সালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে লিখিত অনুমতি নিয়ে মৌখাড়া বাজারস্থ অফিসটি বড়াইগ্রাম পৌরসভা ও বড়াইগ্রাম ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার হয়ে আসছিল।

যা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বড়াইগ্রাম পৌর ও ইউনিয়ন কার্যালয়। আমি সেই থেকে কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি।

বৃহস্পতিবার রাতে অজ্ঞাতনামা কিছু ব্যক্তি উপজেলার মৌখাড়া বাজারস্থ অফিস কক্ষের আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

তারা অফিসে ভেতর থেকে তিনটি কাঠের জানালাসহ লোহার গ্রিল, ১৪টি প্লাস্টিকের চেয়ার, টেবিল, লোহার গদিযুক্ত চেয়ার, আলমারি ও মুক্তিযোদ্ধা সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নিয়ে যায়।

তিনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তার তৈরি করা দল ক্ষমতায় থাকাবস্থায় এই ধরনের কর্মকাণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানাচ্ছি।

প্রশ্ন হলো, যাঁরা দেশ রক্ষা করেছিলেন, তাঁদের স্মৃতি ও কার্যক্রমের কেন্দ্রই যদি নিরাপদ না থাকে, তবে নিরাপত্তা দেবে কে?

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে অর্জিত স্বাধীনতার দেশে আজ মুক্তিযোদ্ধাদের কার্যালয়েই ভাঙচুর-লুটপাট!

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *