বাংলায় কিছু প্রবাদ রয়েছে। সে প্রবাদ বা কথ্য প্রচলিত বাক্যগুলো সত্যিই অনেক বেশি প্রযোজ্য আমাদের দেশের ক্ষেত্রে। নেতা-নেত্রী ও সরকার পরিচালনাকারি কিছু লোকের ক্ষেত্রে। এই যেমন ‘কয়লা ধুলেও ময়লা যায়না,’ ‘ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়’। এমন আরো অনেক প্রবাদ রয়েছে।
তো আমাদের যে বেহায়া নো-বেল লরিয়েট সুদখোর জোচ্চোর ড.ইউনুস রয়েছেন তার বেলায় কিন্তু উপরের দুটি প্রবাদ একদম যুৎসই।
যত ভাবি যে, গত ১২ জানুয়ারিতো ইলেকশন হয়ে গেলো। তিনি তো আর ক্ষমতায় নেই। তাই এখন আর এই চরম লোভী, দেশদ্রোহী এই সুদখোর ইউনুসকে নিয়ে আর ভাবতে হবেনা, কিছু লিখতে হবেনা।
কিন্তু আমরা যতই তাকে ভুলে থাকতে চাইনা কেন তিনি কিন্তু আমাদেরকে ভুলতে দেননা তার মহৎ মহৎ (!!) কাজের মাধ্যমে, বা তিনি এমন সব পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন যাতে করে তাকে স্মরণ করতেই হয়। এমনই লীলা তাহার।
একজন শঠ, জোচ্চোর, লুইচ্চা ( শব্দটি ব্যবহার করার জন্য দুঃখিত) ইউনুসকে নিয়ে বার বার লিখতে হচ্ছে বলে সত্যিই খুব অস্বস্তি ও বিব্রত বোধ করছি একজন বাংলাদেশী হিসেবে। হাজার হলেও একজন বাংলাদেশ যিনি যেভাবেই পান না কেন নো-বেল পুরস্কার। পেয়েছেনতো!
অবশ্য ইউনুস সাহেব একা পাননি, গ্রামীন ব্যাংকের নারীরাও সেই নোবেল পুরস্কারের ৫০ শতাংশ অংশীদার। যদিও তিনি ও তার ইউনুস সেন্টার মানে তার প্রচারমাধ্যম সেটি স্বীকার করতে খুব লজ্জা পায়।
বেচারা ইউনুস তাঁর অসুস্থ অধ্যাপিকা স্ত্রীর সেবাযত্ন করতে করতে এত বেশি ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন যে, এখন আসলে তার সেবা ও দেখভাল করার জন্যই কয়েকজন করিৎকর্মা নারী খুব বেশি প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। এজন্য অবশ্য তার কখনো কমতি হয়নি।

কারণ হাজার হোক এতবড় নোবেল জয়ী বাংলাদেশী যার পশ্চিমা বিশ্বে এতসব নামডাক। তারতো কয়েকজন সামান্য নারী বন্ধু বা সেবাদানকারি থাকতেই পারে। এ নিয়ে অবশ্য সমালোচকরা নানা কথা বলে থাকেন। কি আর করা বলুন?
সমালোচনাকারিরাতো নানা কথা বলবেনই সুযোগ পেলে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে তার অসুস্থ স্ত্রী আফরোজী ইউনূস-এর শারীরিক অবস্থা এবং তাকে নিয়ে তার ব্যক্তিগত উৎকণ্ঠা ও আবেগের কথা বিভিন্ন সময়ে প্রকাশ করেছেন।
তার বিরুদ্ধে শ্রম আইন ও দুর্নীতির বিভিন্ন মামলার ব্যাপারে আদালতে হাজিরা দিতে গিয়ে এমন সব নাটকীয়ভঙ্গিতে তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছেন যে এসব করে তিনি সাধারণ জনগণের সহানুভূতি কুড়ানোর সব চেষ্টা চালিয়েছেন। অভিনয়ের পারঙ্গমতা ও কথার চাতুর্যে তার জুড়ি মেলা ভাড়।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে আদালত প্রাঙ্গণে গণমাধ্যমের সাথে আলাপকালে তিনি তার গুরুতর অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি আবেগঘন কণ্ঠে বলেছিলেন, তার স্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত অসুস্থ এবং শয্যাশায়ী। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমি যদি কারাবন্দী হই, তবে আমার এই অবশ ও সম্পূর্ণ শয্যাশায়ী অসুস্থ স্ত্রীকে কে দেখাশোনা করবে? এই চিন্তাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভাবিয়ে তুলছে।”
স্ত্রীর স্মৃতিভ্রম (ডিমেনশিয়া) সংক্রান্ত পরিস্থিতি: ড. ইউনূসের স্ত্রী আফরোজী ইউনূস (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের প্রাক্তন অধ্যাপক) দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত জটিলতা এবং ‘ডিমেনশিয়া’ বা স্মৃতিভ্রম রোগে ভুগছেন।
পারিবারিক সূত্র এবং বিভিন্ন প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তিনি এই রোগের কারণে অনেক কিছু ভুলে যান এবং ড. ইউনূস ছাড়া অন্য কাউকে সহজে চিনতে পারেন না।
দীর্ঘদিন ধরে ড. ইউনূস নিজেই ব্যক্তিগতভাবে তার স্ত্রীর দেখাশোনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি নিজেই বিভিন্নভাবে। এসব করে তিনি সস্তা সহানুভূতি কুড়োতে চেয়েছেন মাত্র।
এসব শুনে অনেকেই তখন বলেছেন- আহারে বেচারার কত কষ্ট ! এতসব থেকেও নিজের স্ত্রীকে কতই না ভালোবাসেন তিনি, কি মহৎ প্রাণ মানুষ ইউনুস সাহেব ! তো সেসব লোকজনই ধীরে ধীরে যখন তার অধিক নারীপ্রেম ও লুইচ্চামির বিষয়গুলো জানতে পরেছেন তখন তারাই এতদিনের সহানুভুতি ভুলে গিয়ে তাকে রীতিমতো যাচ্ছেতাই গালিগালাজ শুরু করে দিয়েছেন। সেটা তো অস্বাভাবিক কিছু নয় বোধ হয়।
কারণ এই মানুষগুলো সরল বিশ্বাসে একজন নোবেল লরিয়েটকে বিশ্বাস করেছিলেন।
এই নোবেল লরিয়েট ইউনুস তার অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে বেশ আবেগঘন বক্তব্য দিয়েছিলেন ২০২৪ সালে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের আগে ও পরে। কিন্তু এর থেকে তিনি লামিয়া মোরশেদ নামে এক মহিলাকে নিয়ে নানা অসামাজিক ও বিবাহবহির্ভুত কাজ করে বেড়াচ্ছেন।
এছাড়া আরো অনেক নারীর সঙ্গেই তিনি এমন করেছেন, সে অভিযোগও রয়েছে । হাম-ডেঙ্গুতে অনেক শিশু মারা গেছে কিন্তু ইউনুস কোন পদক্ষেপ নেননি।
সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুষ্ঠান থেকে তাকে বাদ দেয়া হয়েছে। তিনি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় বাংলাদেশে অসংখ্য দেশবিরোধী কাজ করেছেন।
নিজের ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৬৬৬ কোটি টাকা জরিমানা মাফ করেছেন। কিন্তু এর মধ্যে আবারো আদালত সেই ৬৬৬ কোটি টাকা দেয়ার জন্য আদেশ দিয়েছে। এই যে একজন নোবেল লরিয়েট ও বাংলাদেশের সাবেক সরকার প্রধান হিসেবে বাংলাদেশের যে অসম্মান করেছেন তা বিশ্বে আর কেউ করেছে বলে মনে হয়না।
তারওপর নারীঘটিত বিবাহবহির্ভূত কাজও অত্যন্ত অপমানজনক। নিউইয়র্ক জেএফকে তে বিক্ষুব্ধ বাঙ্গালীরা তাকে সন্ত্রাসী-জঙ্গী-শিশুহত্যাকারি হিসেবে আখ্যায়িত করে গালি দেয়েছে যেখানে লামিয়াও ছিল। কিন্তু লামিয়াকে মিটিমিটি হাসতে দেখা গেছে। মব সন্ত্রাসের জনক এই ইউনুস।

বাংলাদেশে জঙ্গীবাদ ও ভারত বিরোধীতার কুমন্ত্র ও উষ্কানিদাতাও এই ইউনুস।
প্রবাসী ফরিদ আহমদ একটি কাল্পনিক রসালোচনা করেছেন ইউনুস-লামিয়া” কে নিয়ে। জেএফকে বিমানবন্দরে ঘটনার পর বেশ মজা করে তিনি লিখেছেন–
“এইটা কী হলো লামিয়া?” রাগতস্বরে ইউনূস বললেন।
“কী হয়েছে সুদি?” হাসিমুখে লামিয়া বললো।
“আওয়ামী জঙ্গিরা আমাকে মব করলো। অপমান আর অপদস্থ করলো। তুমি আমাকে বাঁচানোর কোনো চেষ্টা তো করলেই না। বরং দেখলাম হাসিমুখে দাঁড়িয়েছিলে।”
“ওটা তো মব ছিলো না সুদি, প্রেশার গ্রুপ ছিলো। তাই আমি কিছু না করে দাঁড়িয়েছিলাম। তোমাকে ধোলাই দিলে আমি ঠিকই তোমাকে বাঁচাতাম।”
ফিক করে লামিয়া হেসে দেয়। ইউনূসের মার খাবার দৃশ্য কল্পনা করে হাসি এসে গেছে তার।
“আওয়ামী জঙ্গিরা আমাকে আক্রমণ করলো, আর তুমি বলছো ওটা মব না?” রাগে দাঁত কটমট করলেন ইউনূস।
“থামুন সুদি! ওটা আমার কথা না। ইট ওয়াজ ডিফাইনড বাই আওয়ার ওওন ডার্টি ডাস্টবিন।”
ডার্টিকে একটা ডার্টি গালি দিতে গিয়েও থেমে গেলেন তিনি। নোবেল লরিয়েট গালি দিচ্ছে, এই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গেলে সমস্যা।
তিনি রাগকে নিয়ন্ত্রণ করে বললেন,
“ডার্টি ডাস্টবিন যেদিন এই রকম অবস্থায় পড়বে, সেদিন বুঝবে কোনটা মব আর কোনটা প্রেশার গ্রুপ। কিন্তু, তুমি কেনো আমার অপমানে হাসলা সেইটা বলো আগে? আই ডিডনট এক্সপেক্ট ইট ফ্রম ইউ। তুমি কি খুশি হয়েছে আমাকে অপদস্থ হতে দেখে?”
“তোমার অপমানে আমি অনেক অনেক কষ্ট পেয়েছি সুদি। কিন্তু, আমার মুখটাই এমন। দেখলে মনে হয় যেনো হাসছি।” এটা বলেই ফিক করে হেসে দিলো লামিয়া।
ইউনূস গম্ভীর হয়ে থাকলেন। পত্নী আর উপপত্নীর মধ্যে এই হচ্ছে তফাৎ। পত্নী পাশে থাকলে আজ পরম যত্নে আগলে রাখতো। উপপত্নী উপহাস করছে তাঁকে নিয়ে।
“আপসেট হয়ো না সুদি। এই ঘটনার ভালো দিকটা দেখো। ওরা কেউ তোমাকে সুদি মহাজন বলে গাল দেয় নাই।” হাসতে হাসতে লামিয়া বললো।
“সুদ কি আমি একাই খাই? তুমি সুদ খাও না
সুদানির মাইয়া?” সুদের কথা শুনে গর্জে ওঠেন ইউনূস।
চাটগাঁইয়া গালি খেয়েও নির্লজ্জের মতো হাসতে থাকে লামিয়া। গুনগুন করে গানের সুর ভাজতে থাকে সে, “আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে!”
মোহাম্মদ গোলাম লিখেছেন—“ মুহম্মদ ইউনুস জেএফকে বিমান বন্দরে “হেনস্থার” শিকার হয়েছেন। পরিচয় বিহীন, তবে বোঝা যায় কয়েকজন আওয়ামীলীগ সমর্থকদের দ্বারা তিনি এই অভিজ্ঞতাপ্রাপ্ত হয়েছেন।
দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, মুহম্মদ ইউনুস যতদিন বেঁচে আছেন, থাকবেন, ওনার পাবলিক লাইফ বলে কিছু থাকবেনা। আধুনিক দুনিয়ার রাজনীতিতে এমনটা ঘটেছিলো কেবল নাৎসি শীর্ষ নেতাদের বেলাতে।
আমি দেখতে পারছি, একই অভিজ্ঞতা হবে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা এদের বেলাতেও।
মুহম্মদ ইউনুস এর লাইফটাইম গাধামীটা ছিলো, উনি বুঝতে পারেন নি, আওয়ামীলীগ জনগনের মাঝ থেকে উঠে আসা একটি দল, একে নিষিদ্ধ করা যায়, কিন্তু ধ্বংস করা যায়না।
টু বি অনেস্ট, মুহম্মদ ইউনুসের পাশে ওনার অসহায় প্রেমিকা লামিয়া মোরশেদ’কে দেখে আমার খারাপ লেগেছে, ভদ্রমহিলা খুব অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। অবশ্য এটাও বলা দরকার, আওয়ামীলীগ সমর্থকেরা জনাবা লামিয়া মোরশেদ কে কিছুই বলেন নি, সেই সাধুবাদ তাদেরকে দিতে হবে।”
সুদী ইউনুসের প্রতি জেএফকে বিমানবন্দরে সন্ত্রাসী-জঙ্গী-খুনী হিসেবে গালি দেয়ায় কিছুটা গোস্বা ও মনক্ষুন্ন হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য ইউপদেষ্টা ‘কষা জাহেদ’।
ডা. জাহেদ উর রহমান বুধবার মন্ত্রনালয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেছেন–, ড. ইউনূস, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী, অভিনেত্রী বাঁধনকে হেনস্থার চেষ্টা প্রেশার গ্রুপ ট্রুপ কিছু না, এগুলো আওয়ামী সন্ত্রাস। সেটা নিয়ে লিগ্যাল প্রসেস শুরু হয়েছে, ভবিষ্যতেও নেয়া হবে। আওয়ামী সন্ত্রাসীদের এ ধরনের পদক্ষেপ আনচ্যালেঞ্জড যাওয়ার প্রশ্নই আসে না।
প্রসঙ্গত সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, বিমানবন্দরের ভেতরে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. ইউনূসের দিকে এগিয়ে গিয়ে কয়েকজন লোক উচ্চস্বরে স্লোগান দিচ্ছেন। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ইউ আর আ টেরোরিস্ট’ এবং ‘হোয়াই ইউ কাম হিয়ার’ বলে চিৎকার করছিলেন।
এছাড়া, বিক্ষোভকারীরা ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতন্ত্র ধ্বংস করার অভিযোগ তোলেন। পাশাপাশি বাংলাদেশে পুলিশ হত্যাকারি হিসেবে আখ্যায়িত করে তার বিরুদ্ধে নানা স্লোগান দিতে দেখা যায়।
ওই যে লেখার প্রথমে বলেছিলাম- “ কয়লা ধুলেও ময়লা যায়না।” সেটি ইউনুস তার অসুস্থ স্ত্রী ও বান্ধবী লামিয়া কে দিয়েই প্রমান করলেন। আরেকটি প্রবাদের কথা বলেছিলাম- “ইটটি মারলে পাটকেলটি খেতে হয়।’ এই যে প্রায় আঠারো মাসেরও বেশি সময় ধরে অবৈধভাবে ইউনুস বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বেদখল করে বসেছিলেন ও পুরো বাংলাদেশটিকে ধ্বংস করে গেছেন তার ফলস্বরুপ সাধারণ নাগরিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে তাকে যেখানে পাচ্ছে সেখানেই অপমান-অপদস্থ করছে।
অবশ্য তারেক রহমানের সরকার এজন্য মনে মনে বেশ কষ্ট পেয়েছে বলে মনে হলো। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমান সরকারের অবস্থানকে স্পষ্ট করেছে এক বিবৃতির মাধ্যমে।
খ্যাতিমান ( আসলে কুখ্যাত) সুদখোর ইউনুসের জন্য বিএনপি সরকারের সে কি কান্না! সে কান্নাতো আর থামছেই না। কারণ তারেক রহমানের সরকারতো আসলে ড. ইউনুস সরকারেরই এক্সটেনশন মাত্র।
বিবৃতিতে তারা বলেছে—“যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্থা করার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত তাদের মিশনকে (দূতাবাস/কনস্যুলেট) স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সাথে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করার নির্দেশ দিয়েছে, যাতে অপরাধীদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া যায়।”
সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের বার্লিনে তিন দিনের বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনে যোগ দেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তিনি সফর বাতিল করেছেন।ইউরোপভিত্তিক পাঁচটি সংগঠন এ সম্মেলনে ইউনূসের অংশগ্রহণের বিষয়টি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে।
রোববার শুরু হওয়া বিশ্ব স্বাস্থ্য সম্মেলনের ওয়েবসাইটে বক্তা হিসেবে তার নামও ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ মুহূর্তে তার নাম সরিয়ে ফেলা হয়।
সাউথ এশিয়া ডেমোক্রেটিক ফোরাম, বেলজিয়াম, ইউরোপিয়ান বাংলাদেশ ফোরাম, ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য, ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ ইন জার্মানি, আর্থ সিভিলাইজেশন নেটওয়ার্ক ও ফ্রিডম অ্যান্ড জাস্টিস অ্যালায়েন্স এ বিষয়ে একটি পিটিশনও দাখিল করেছিল।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের টিকা নীতিমালার পরিবর্তন এবং প্রশাসনিক ধীরগতির কারণে ২০২৬ সালে বাংলাদেশে এক ভয়াবহ হাম (Measles) মহামারি আকার ধারণ করে।
এই স্বাস্থ্য সংকটের ফলে দেশজুড়ে হাজার হাজার শিশু আক্রান্ত হয় এবং শত শত শিশু মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ে। ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব তীব্র রূপ নেয়, যা মূলত ২০২৪ ও ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে তৈরি হয়।
সরকারি ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার সূত্র (যেমন Directorate General of Health Services – DGHS, UNICEF, এবং WHO) অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে-জুন মাসের মধ্যে দেশজুড়ে হাম ও হাম-সদৃশ উপসর্গে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৩,০০০ ছাড়িয়ে যায়। এই সময়ের মধ্যে ৬০০ থেকে ৭৫০ জনেরও বেশি শিশু মারা যায়, যাদের একটি বড় অংশই ছিল এক বছরের কম বয়সী নবজাতক।
এই মর্মান্তিক শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের মাঝামাঝিতে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা এবং সচেতন নাগরিক সমাজ দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC)-এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে অবহেলা ও দুর্নীতির অভিযোগ এনে লিখিত আবেদন করেন। এমনকি হাইকোর্টে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে রিট দায়ের করা হলে আদালত সরকারের টিকাদান কর্মসূচির অবহেলা ও শিশুদের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল জারি করে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মিডিয়া ও দেশীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের প্রতিবেদনে এই মহামারিকে “মানব-সৃষ্ট প্রশাসনিক ব্যর্থতা” এবং “প্রতিষ্ঠানিক অপরাধ” হিসেবে আখ্যায়িত করে ড. ইউনূসের সরকারের তীব্র সমালোচনা করা হয়েছে।
কিন্তু এই যে এত অপরাধ, এত অপমান বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে তাতে করেও এই বিশ্বসুদী ইউনুসের কোন ভ্রুক্ষেপ বা লজ্জা আছে বলে মনে হয়না। ওই যে কথায় বলেনা-“ বাটপারের আবার চোরের ভয় কি ”?

তো এই ইউনুসতো হচ্ছে মহাবাটপার আর মহাচোর। তার আবার এসবে ভয় কি? অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন- ইউনুস কি লামিয়া মোরশেদকে নিয়েই ভবলীলা সাঙ্গ করতে চান?
#রাকীব হুসেইন: লেখক, প্রাবন্ধিক।
