নারায়ণগঞ্জ: শিক্ষাঙ্গন বহু আগেই ধ্বংস করা হয়েছে দেশে। দেশের শিক্ষার্থীদের রাজনীতিতে ঢুকিয়ে, ষড়যন্ত্র করে আগামি প্রজন্মকে শেষ করা হয়েছে। আর ২০২৪, ৫ আগস্ট থেকে তো শিক্ষকদের কলার ধরে, মহিলা শিক্ষকদেরকে পর্যন্ত চড় থাপ্পড় মারা হয়!
এখনো সেই সংস্কৃতি চালিয়ে যাচ্ছে খোদ বিএনপি। এরা সরকার চালাবে, দেশ চালাবে?
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রধান শিক্ষকের কক্ষেই এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মেরেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালের দিকে উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়নের কালনী হিড়নাল উচ্চবিদ্যালয়ে এই ঘৃণ্য ঘটনাটি ঘটে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
অভিযুক্ত বিএনপি নেতার নাম আবজাল মোল্লা, যিনি দাউদপুর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
অন্যদিকে ভুক্তভোগী একরামুন্নেছা বিউটি ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত।
এর মধ্যে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপি।
দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হেলাল উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভূঁইয়ার স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আফজাল মোল্লাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
তবে শোকজ, বহিষ্কারে কোনো কাজ হবে না। যাদের রক্তে ভণ্ডামি, যে দলটাই ভণ্ড- সেই দলটা আর এর চাইতে ভালো কী করবে?
বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে প্রধান শিক্ষক আওলাদ হোসেন দপ্তরিকে দিয়ে সহকারী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন।
সেখানে বিএনপি নেতা আবজাল মোল্লা, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ও জাকির হোসেনসহ তিনজন সদস্য এবং কয়েকজন শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ব্যবস্থাপনা কমিটি নিয়ে কিছুদিন আগে একরামুন্নেছা বিউটি বাজে মন্তব্য করেছেন- এমন অভিযোগ তুলে বিএনপি নেতা আবজাল মোল্লা রীতিমতো উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষিকার ওপর চড়াও হন। এ সময় প্রধান শিক্ষকও বিউটির সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ে জড়ান।
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা একরামুন্নেছা বিউটির অভিযোগ, ২০২৪ সালের আগস্টে একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি গঠন নিয়ে আবজাল মোল্লার সঙ্গে তার বিরোধ হয়। সেই বিরোধের জের ধরে বুধবার দুপুরে তাকে অপমান ও মারধর করা হয়েছে।
ঘটনার সময় উপস্থিত অন্য শিক্ষকরা বাধা দিতে গেলে তাদেরকেও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন আবজাল মোল্লা।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকের কক্ষে কয়েকজন শিক্ষক ও অন্য ব্যক্তিরা বসে আছেন। এ সময় আবজাল মোল্লাকে সহকারী শিক্ষক একরামুন্নেছা বিউটিকে মারধর করতে দেখা যায়।
একরামুন্নেছা বিউটি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১৪ থেকে ১৫ বছর কমিটিতে ছিলেন- এমন কথা বলে তাকে চোর আখ্যা দেয়া হয়। বর্তমানেও বিএনপি নেতার কথায় বিদ্যালয়ের এডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। এর প্রতিবাদ করায় সবার সামনে তাকে তিনটি থাপ্পড় মারা হয়।
আবজাল মোল্লা তাকে প্রায়ই ধমক দিতেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
