ঢাকা: আয়াস! জুলাই জঙ্গী আয়াসের শান্তি নেই, সবখানে মার খাচ্ছে, সব জায়গায় হেনস্থা জঙ্গী ইউনূসের মতো।
কঠোর নিরাপত্তায় কারাগারে নেওয়ার পথে আয়াস বলেন, “আমি কি মার্ডার করে আসছি। আমাকে এভাবে নিচ্ছেন।”
নাহ নাহ, আপনি মার্ডার করেননি- আপনারা জুলাই জঙ্গীরা কী করেছেন তা তো দেখেছে সারা বিশ্ব।
আর তারপর এখন রবীন্দ্রবিদ্বেষ উস্কে দিয়েছেন!
রবীন্দ্র বিদ্বেষ এই দেশে নতুন না। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা জাতীয় সঙ্গীত সোনার বাংলা রাজাকার, পাকিরা গায় না। সেখানে নাকি মায়ের বন্দনা করা হয়েছে। মাদ্রাসায় তো টোটালি না। এরা আবার দেশপ্রেমিক হয় কী করে?
খবর পাওয়া গিয়েছে, আদালতের গারদে মারধরের অভিযোগের পর এবার ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জুলাইযোদ্ধা এ এন এম আয়াসকে অন্য কারাবন্দীরা মারধর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যদিও কারাগারের ভেতরে এ ধরনের হামলার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
গত ১০ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসকে।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাঁর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সভাপতি আল নুর মোহাম্মদ আয়াস ও মারজিয়া খন্দকার রিমির জামিন শুনানিতে হুলুস্থুল, মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
এই সময় আয়াসের হয়ে কথা বলা এক আইনজীবীকে মারধর করেন কয়েকজন আইনজীবী। এমনটা জানা গিয়েছে।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রিয়াদ হাসানের আদালতে বুধবার জামিন শুনানিতে ঘটনাটি ঘটে। এমন পরিস্থিতিতেই এজলাস ছাড়েন বিচারক রিয়াদ হাসান।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতি মুছতে গিয়ে আয়াসসহ ৪ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
আয়াস ছাড়া আটক বাকি ৩ জন হলেন, রিমি, সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়া।
শাহবাগ থানার এসআই জিয়াউল হক শনিবার আটক ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
মামলায় গত রবিবার মারজিয়া খন্দকার রিমি ও সুজনের ২ দিন এবং আয়াস ও সাকিবুল হাসানকে ৩ দিনের রিমান্ড দেয় আদালত। মঙ্গলবার সাকিবুল হাসান ও সুজন মিয়াকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানো হয়।
বুধবার আয়াস ও রিমিকে রিমান্ড শেষে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই আব্দুল গাফফার হিমেল।
আবেদনে বলা হয়, দুই আসামিকে রিমান্ডে পেয়ে মামলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামির বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। যা যাচাই বাছাই করা হচ্ছে।
এ দিন বিকাল ৪টা ১০ মিনিটের দিকে আয়াস আর রিমিকে এজলাসে তোলা হয়।
আসামিদের পক্ষে অ্যাডভোকেট মনির হোসেন সুমন জামিন চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, “তাদের বিরুদ্ধে তিন ধারার অভিযোগ এনে মামলা করা হয়েছে। রবীন্দ্রনাথকে কেউ ভালবাসে আবার অনেকে বিদ্বেষ করে। তিনি আসমান থেকে আসেননি, কোনো দেবদূতও না। আয়াস ও রিমির বিরুদ্ধে যে ধারায় মামলা করা হয়েছে, তা তাদের ধারণ করে না। আয়াস অসুস্থ। তাদের জামিনের প্রার্থনা করছি।”
অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জামিনের বিরোধিতা করে বলেন, “আয়াস পাকিস্তান, জিন্নাহর কবর জিয়ারত নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। পাকিস্তান, জিন্নাহকে নিয়ে বক্তব্য রাখা উস্কানি, দুরভিসন্ধি আছে। বাপ-মা, দাদা-দাদী কবর নেন না, পাকিস্তানে গিয়ে জিন্নাহর কবর জিয়ারতের কথা বলে। জিন্নাহকে নিয়ে বক্তব্য দেওয়ায় ষড়যন্ত্র আছে। পাকিস্তান, ভারতকে সামনে এনে তারা বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়।
“সেগুনবাগিচা থেকে হকার উঠিয়ে কেন গ্রাফিতি আঁকা হল, এটা নিয়ে তাদের জ্বালা। আপনারা গোলাম আযম, নিজামীর ছবি রাখার কথা বলতে পারেন। কিন্তু অন্যজনের ছবিতে কালি দিতে পারেন না। হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে উস্কানি দিতে তারা এমন কর্মকাণ্ড করেছে। গত সাতমাস ধরে এই সরকার, জনগণকে নিয়ে তারা গালিগালাজ করছে। এই প্রজন্মকে খারাপ করছে তারা।
“সেফুদা নামে একজন আছে, যে সোশ্যাল মিডিয়ায় এসে গালাগাল করে। তাকে দেখে তারা গালিগালাজ শিখেছে। তারা একটা প্রজন্মকে নষ্ট করছে। পাকিস্তান, ভারতকে স্বাধীন সার্বভৌম দেশে টেনে এনে বিদ্বেষ সৃষ্টি করছে।”
এবং দৃঢ় এই বক্তব্যের মাঝেই ওমর ফারুক বলেন, “এরা সবাই জামায়াতের আইনজীবী, দেখলেই বোঝা যাচ্ছে।’
এরপরেই আরো হুলুস্থুল বাঁধে।
কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা আয়াস প্রসিকিউটর ওমর ফারুকের উদ্দেশ্যে বলেন, “ক্ষমা চেয়েছি, স্যার। ক্ষমা চাই। এসব (মারামারি) করে আমার জীবন ধ্বংস করবেন।”
