ঢাকা: “ইশরাক হোসেন”—ধানমন্ডি ৩২ ভাঙার ঘটনায় যার নাম ও এক্সকাভেটর সরবরাহের অভিযোগ নিয়ে আলোচনা রয়েছে, আজ তাঁকেই দেখা গেলো ভিন্ন এক ভূমিকায়! নিজেকে তিনি হিরো মনে করছিলেন খুব সম্ভবত।

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এক হাতে পিস্তল, অন্য হাতে হ্যান্ডমাইক নিয়ে গেন্ডারিয়ার একটি বস্তিতে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়েছেন।

সেই অভিযানের ভিডিও আবার নিজের ফেসবুক পেজে ‘ইশরাকের অ্যাকশন’ শিরোনামে প্রকাশ করেছেন। কী ভয়াবহ পপুলিজমে আক্রান্ত হলে একজন প্রতিমন্ত্রী এমন আচরণ করতে পারেন!

একজন প্রতিমন্ত্রীর কাজ এটা? নিজে অস্ত্র হাতে নেমে সিনেমার নায়কের মতো অ্যাকশন দেখানো?

রাষ্ট্র পরিচালনা আর ব্যক্তিগত স্টান্ট এক জিনিস নয়। সরকার যদি একজন প্রতিমন্ত্রীর এমন আচরণকে প্রশ্রয় দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে অন্য মন্ত্রীরাও একইভাবে আইন ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়াকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সাহস পাবেন।

এই ঘটনা নিয়ে বহু প্রশ্ন উঠছে।

পিস্তলের স্লাইড টেনে সেটিকে গুলি করার জন্য প্রস্তুত করে লোকগুলোর দিকে তাক করে ‘অ্যাই দাঁড়া, দাঁড়া’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায় তাঁকে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিকাল সোয়া ৫টার দিকে ইশরাক হোসেনের ফেইসবুক পেইজে এরকম একটা ভিডিও আপলোড করা হয়।

ভিডিওর ক্যাপশন লেখা, ইশরাকের অ্যাকশন: মাদক আস্তানা গুঁড়িয়ে বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ।

ঘটনাটি গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় শনিবার ঘটেছে বলে ভিডিওর ক্যাপশনে বলা হয়েছে। ভিডিওতে ইশরাক ছাড়াও সাদা পোশাকের আরও একজনকে অস্ত্র হাতে কিছু লোককে তাড়া করতে দেখা যায়।

একজন প্রতিমন্ত্রী কি এভাবে প্রকাশ্যে পিস্তল হাতে অভিযানে অংশ নিতে পারেন? একজন জনপ্রতিনিধির হাতে অস্ত্র, আর সাধারণ মানুষ প্রাণভয়ে দৌড়ে পালাচ্ছে—এ কেমন দৃশ্য?

রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তির জন্য কি আলাদা আইন, নাকি সবার জন্য আইন সমান?

ইশরাক যা করেছে, তা স্পষ্টভাবে আইনদণ্ডনীয় অপরাধ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ছাড়া সরাসরি পিস্তল বের করে পুলিশি কায়দায় অভিযান চালানোর কোনো অধিকার বাংলাদেশের আইন কাউকে দেয়নি।

এই অপরাধে তার বেশ কয়েক বছর জেল, জরিমানা এবং অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল হওয়ার কথা। কিন্তু রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাদের দল এই ধরনের বেআইনি কর্মকাণ্ডে কোনো ব্যবস্থা নেবে না—এটাই আজ দেশের বাস্তবতা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *