সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরার দেবহাটার কুলিয়া এলাকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিয়ে ওয়াহিদুজ্জামান শামীমকে হত্যা করা হয়েছে। মব লিঞ্চিং যাকে বলে!
বলা হয়, ইসলাম নিয়ে নাকি তিনি কটূক্তি করেছিলেন। ইসলাম এতোই কী ঠুনকো হয়ে গেলো যে কেউ একটা আওয়াজ দিলেই ইসলামের মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ে? ধর্ম কী এত ঠুনকো?
এবার শামীম হত্যা মামলায় প্রধান আসামি কট্টরপন্থী ফজলুল হক আমিনীকে কালীগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ধর্ম অবমাননার অভিযোগে তিন দফা হামলা চালিয়ে শামীমকে হত্যা করা হয়।
তাঁর নেতৃত্বে হত্যা করা হয় শামীমকে। এর আগে দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার করছিলো না। কিন্তু গ্রেপ্তার করেই কী হবে? এলাহি আয়োজন হবে তাঁর জন্য!
শনিবার (১৭ অক্টোবর) কালিগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর থেকে পুলিশ ও এসআরবির যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দেবহাটা থানার ওসি এইচ এম শাহীন জানান, দেবহাটা সার্কেল, কালীগঞ্জ থানা ও দেবহাটা থানা এবং এসআরবি-৬-এর যৌর্থ অভিযানে তাকে আটক করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম জানান, রাত ১১টার দিকে আমিনীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) রাতে দেবহাটা থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের বড় ভাই আব্দুর জলিল। ১০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ২৫০ থেকে ৩০০ জনকে আসামি করেছেন তিনি।
হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এই মৌলবাদী ফজলুল হক আমিনী। তাকে করা হয়েছে প্রধান আসামি। মামলার পর রাতে সুবর্ণবাদ গ্রামের মোক্তার আলী (৫২) এবং শুক্রবার সকালে নাজিরের ঘের এলাকা থেকে আছাদুল ইসলাম মোল্লাকে (৪৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত সোমবার জামায়াত নেতা কামরুল ইসলাম হাজি ও সমাদ মণ্ডলের নেতৃত্বে কয়েকজন জেলার দেবহাটা উপজেলার বড় সান্তা গ্রামে তাদের বাড়িতে হামলা চালায়।
বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। তারপর শামীমকে টেনেহিঁচড়ে বাইরে নিয়ে মারধর করে মবকারীরা।
পরে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য স্থানীয় চিকিৎসক আবদুস সাবুরের চেম্বারে নেওয়া হয়। এই সময় খেদমতে খালক ফাউন্ডেশনের সদস্য ফজলুল হক আমিনি ফেসবুক লাইভে এসে শামীমের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে আহ্বান জানান।
গুরুতর আহত শামীমকে দেবহাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরদিন ফজলুল হক আবারও ফেসবুক লাইভে এসে শামীমের হাসপাতালে ভর্তির কথা জানিয়ে লোকজনকে সেখানে জড়ো হতে বলেন। পরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরই শামীমকে আবার মারধর করা হয়।
উস্কানি দেন তিনি।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থানায় খবর দিলে পুলিশ শামীমকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক আরাফাত হোসেন বলেন, ভারী বস্তুর আঘাতে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে শামীমের মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
