ঢাকা: সৌদি আরবে শিরশ্ছেদের মাধ্যমে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে তাঁদের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। অথচ এ বিষয়ে সরকার কিছুই জানে না।
প্রবাসে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি কি এতটাই গুরুত্বহীন? শেখ হাসিনা সরকারের সময় তো সরকারের গুরুত্ব ছিলো, এখন নেই কেন? কোনো কিছু না জানিয়েই এতবড় কাণ্ড ঘটিয়ে দেয়া হলো?
বিদেশের মাটিতে একজন বাংলাদেশির জীবন-মৃত্যুর মতো গুরুতর ঘটনা সম্পর্কে সরকারের অজ্ঞতা সত্যিই উদ্বেগজনক।
প্রবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা সরকারের দায়িত্ব।
সৌদি আরবে প্রকাশ্য রাস্তায় চুমু খাওয়ার অপরাধে বাংলাদেশের দুই মুসলমান নজরুল ও সিতির শিরচ্ছেদ করে বাংলাদেশে পার্সেল করে পাঠিয়েছে সৌদি আরবের সরকার। এমনটা জানা যাচ্ছে।
এরপরেও যে মুসলমানরা শরিয়া আইন লাগু করার জন্য লম্ফঝম্প করেন তারা কী এই নৃশংস ঘটনাটি দেখছেন?
বাংলাদেশের মুসলমানরা নিজেদেরকে সাচ্চা মুসলমান মনে করলেও সৌদি আরব এই বাংলাদেশের মুসলমানদের নিজেদের জাতি বলে মনে করে না, সৌদির মুসলমানরা বাংলাদেশের মুসলিমদের ধর্মান্তরিত মুসলমান বলেই অভিহিত করেন। ফকির মিসকিন বলে। বাংলাদেশী নারীদের সেখানে অত্যাচারের অনেক খবর, ভিডিও আমরা পাই। তারপরেও আমরা পা চাটা বন্ধ করি না। আমরা সাচ্চা মুসলমান বনি।
বাংলাদেশীদের কেমন লাগছে নজরুল আর সিতির শিরচ্ছেদ করা মৃতদেহ পেয়ে?
শ্রীলঙ্কার সরকার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামীকে মুক্ত করে নিয়ে যায় আর বাংলাদেশের সরকার এ ব্যাপারে জানেই না৷ মৃত্যুদণ্ড হয়ে গেছে এখন যাচ্ছে তদন্ত করছে। আহা!
এদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কি করে?
একটি বিষয় জানা গিয়েছে, যদিও এই ব্যাপারে সরকারি তথ্য নেই। বা জানলেও হয়তো দেবে না। কারণ এই সরকার তো পেয়ারে পাকিস্তানের ভক্ত।
নজরুল ও সিতি নামের দুইজনের ভিডিও করেছিলো এক পাকিস্তানি। জানা গিয়েছে, সে নাকি নজরুলের রুমমেট ছিলো। এখানেও পাকিস্তানি, এখানেও বাঙালির ওপর প্রতিশোধ। ভাবুন! ভাবা প্র্যাকটিস করুন।
পাকিস্তানি সেটা ভিডিও করে সৌদি শরিয়া পুলিশের কাছে হ্যান্ডওভার করে। তার প্রেক্ষিতেই শাস্তি প্রদান করা হলো।
উল্লেখযোগ্য যে, এর আগে ২০১০ সালের দিকে, ছয় বাংলাদেশী মিলে আরব আমিরাতে এক পাকিস্তানি’কে হ’ত্যা করছিল। শেখ হাসিনা সরকার ২ লক্ষ দিরহাম ব্ল্যাড মানি দিয়ে সেই ছয় জনকে রক্ষা করছিল। সেটা আমরা আগেই নিউজ করেছি।
বর্তমান বাংলাদেশে তিন-তিনজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আবার আমেরিকাকে আব্বা ঘোষণা করছে তা সত্ত্বেও সরকার কূটনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে এই দুটো জীবন কেন রক্ষা করল না? তাঁরা তো এমন কোন হীন অপরাধ করেনি, যেটার জন্য মৃত্যুদণ্ড দেওয়া যায়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ না বলেছিলেন চোখে চোখ রেখে এবার কুটনীতি হবে! হাসনাত আব্দুল্লাহের চোখে এখন ন্যাবা হয়েছে না ছানি পড়েছে? যে চোখে দেখতে পাচ্ছেন না?
ওদের ক্ষমতা নেই সৌদি আরবের সরকারের সাথে চোখে চোখ রেখে কথা বলার?
দুটো মানুষকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া আগে একবার জানানোর প্রয়োজন পর্যন্ত মনে করেনি একটা গুরুত্বহীন দেশকে।
এখন দেখেছেন অ্যাম্বাসি দখল করতে? মার্চ টু সৌদি আরব কর? মার্চ টু ভারত কথায় কথায় হয়?
ফেসবুকের মাধ্যমে তারা কলকাতা দখল করার স্বপ্ন দেখে, পশ্চিমবঙ্গ, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম দখল করে নেয়। আর আজ দুটো কফিন নিয়ে বসে আছে! ছিঃ!
