ঢাকা: এদিকে সরকার চিৎকার করছে হিন্দুদের নিরাপত্তায় গোটা দেশে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। অথচ আরেকদিকে হিন্দুদের ওপর হামলা চলছেই।
দুর্গাপূজাতেও হিন্দুদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বিএনপি সরকার। হিন্দুদের নিরাপত্তা এই দেশের কোনো সরকারই দিতে পারেনি।
নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলায় মোটরসাইকেলে আসা মুখোশধারী দুর্বৃত্ত গুলি করে সুজন পাল (৩৩) নামের এক হিন্দু যুবককে। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়েছেন।
রবিবার ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে উপজেলার মাইলোড়া এলাকায় রামকৃষ্ণ মিশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার পূর্বে একটি পুকুরঘাট–সংলগ্ন পাকা সড়কে এই ঘটনাটি ঘটানো হয়।
গুলিবিদ্ধ সুজন পাল পাশের খালিয়াজুরি উপজেলার মেন্দিপুর গ্রামের জিতেন্দ্র পালের ছেলে। তিনি ‘মনোরমা মিষ্টান্ন ভান্ডার’ নামের মোহনগঞ্জের একটি দোকানের কর্মচারী।
স্ত্রীকে নিয়ে মোহনগঞ্জের মাইলোড়া এলাকার একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন। তিনি এখন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।
এই হামলা সামাজিক নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর এক বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।
এখন পর্যন্ত হামলাকারীদের শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
গুলিবিদ্ধ সুজন পালের স্ত্রী টুম্পা পাল বলেন, “বাসার পাশে সড়কের কাছে পুকুরে হাত–পা ধুতে গিয়েছিলেন তাঁর স্বামী। কিছুক্ষণ পর গুলির শব্দ শুনে তিনি স্বামীকে মাটিতে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান”।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোরে ঘুম থেকে উঠে হাত–মুখ ধোয়ার জন্য বাড়ির কাছে পুকুরঘাটে যান সুজন পাল। হাত–মুখ ধুয়ে পাকা সড়কে উঠতেই মোটরসাইকেলে আসা দুই মুখোশধারী তাঁর কাছে এসে ধানাই পানাই শুরু করে। দুবাইপ্রবাসী পলাশ সাহার বাড়ির ঠিকানা জানতে চায়। এটাই বাহানা ছিলো তাঁকে কাছে আনার।
তারপরেই একজন আগ্নেয়াস্ত্র বের করে। দৃশ্য দেখে ভয়ে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন সুজন। তখন পেছন থেকে গুলি করলে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর মোটরসাইকেলে দেওথান কালীমন্দিরের দিকে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয় লোকজন সুজনকে উদ্ধার করে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
